ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
বাতেন মিয়া তার স্ত্রী মমতাজ বেগমের সাথে ভালো ব্যবহার করেন না। নিজে দামি ও সুন্দর পোশাক পরলেও স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ভরণ-পোষণ দেন না। তা সত্ত্বেও মমতাজ বেগম স্বামীর সেবাযত্ন করেন। তার সাথে উত্তম ব্যবহার করেন এবং সর্বদা তাকে খুশিরাখার চেষ্টা করেন।
- ক)(1)
ইসলামি পরিবার কী?
- খ)(2)
"যাকে হিকমাত দান করা হয়েছে, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাতেন মিয়ার কর্মকাণ্ড কোন অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
স্ত্রী হিসেবে মমতাজ বেগমের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের নিয়ে গড়ে ওঠা সুশৃঙ্খল সংগঠনকে ইসলামি পরিবার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত আয়াতটি সূরা বাকারার ২৬৯ নম্বর আয়াতের অংশ। এখানে 'হিকমাত' শব্দের অর্থ হলো প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, সঠিক বোধশক্তি এবং কুরআন-সুন্নাহর গভীর জ্ঞান।
আল্লাহ তায়ালা যাকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান, হিতাহিত বিবেচনা করার ক্ষমতা এবং সৎকর্মশীল জীবনযাপনের প্রজ্ঞা দান করেন, সে ব্যক্তি ইহকাল ও পরকালে অপরিসীম কল্যাণের অধিকারী হয়। দুনিয়ার ধন-সম্পদের চেয়ে হিকমাত বা প্রজ্ঞার মূল্য অনেক বেশি, কারণ তা মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাতেন মিয়ার কর্মকাণ্ড তাঁর স্ত্রীর প্রাপ্য মৌলিক অধিকার বা 'ভরণ-পোষণ (নফকা) ও সদ্ব্যবহারের অধিকার' ক্ষুণ্ণ করেছে।
ইসলামে স্বামীর ওপর স্ত্রীর ভরণ-পোষণের (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি) ব্যবস্থা করা ওয়াজিব। স্বামী সামর্থ্যবান হলে তার সামাজিক মর্যাদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীকে যথোপযুক্ত ভরণ-পোষণ দিতে বাধ্য। পাশাপাশি স্ত্রীর সাথে উত্তম ও মার্জিত আচরণের নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, "তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে উত্তম আচরণ করো" (সূরা আন-নিসা: ১৯)।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাতেন মিয়া নিজে দামি ও সুন্দর পোশাক পরিধান করলেও স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ভরণ-পোষণ দেন না এবং তার সাথে ভালো ব্যবহারও করেন না। এর মাধ্যমে তিনি স্ত্রীর ওপর অর্পিত শরয়ি দায়িত্ব অবহেলা করেছেন এবং স্ত্রীর অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্ত্রী হিসেবে মমতাজ বেগমের কর্মকাণ্ড ইসলামি আদর্শ ও শিক্ষার আলোকে অত্যন্ত প্রশংসনীয়, ধৈর্যশীল ও পুণ্যময়।
ইসলামে স্বামীর আনুগত্য ও সেবাযত্ন করা এবং পরিবারের ঐক্য ও শান্তি বজায় রাখতে সচেষ্ট হওয়া একজন সৎ ও আদর্শ স্ত্রীর অন্যতম প্রধান গুণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে নারী এমন অবস্থায় মারা যায় যে তার স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে" (তিরমিজি)। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও উত্তম আচরণ বজায় রাখা এবং ধৈর্য ধারণ করা ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণাবলি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাতেন মিয়া খারাপ ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় ভরণ-পোষণ না দেওয়া সত্ত্বেও মমতাজ বেগম প্রতিশোধপরায়ণ বা অবাধ্য হননি। বরং তিনি স্বামীর সেবাযত্ন করে যাচ্ছেন, উত্তম ব্যবহার প্রদর্শন করছেন এবং স্বামীকে খুশি রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এ আচরণ মূলত ইসলামি শরিয়তের ধৈর্য (সবর) ও ক্ষমার অনন্য পরাকাষ্ঠা।
তবে ইসলাম স্ত্রীকে নিজের ন্যায্য অধিকার চাওয়ার অধিকার দিয়েছে এবং স্বামীর অন্যায়ের নীরব শিকার হওয়াকে আবশ্যক করেনি। তবুও মমতাজ বেগমের আত্মত্যাগ, নমনীয়তা ও সদাচরণ বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দিক থেকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অতএব, স্ত্রী হিসেবে মমতাজ বেগমের ভূমিকা অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও প্রশংসনীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও