যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

সুমনা একজন সংগীতশিল্পী। সে গান করে এবং একই সাথে ছবি আঁকে । সাহিত্যেও তার বিচরণ আছে। কাব্যের সৌন্দর্যকে সে খুব পছন্দ করে। সৌন্দর্য, চেতনা, শিল্পবোধ ও রসবোধ তার খুব প্রবল।

  1. ক)

    নন্দনতত্ত্ব কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে?

    (1)
  2. খ)

    “যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে চিন্তার বিজ্ঞান'- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সুমনার চরিত্রে যে পরিচয় পাওয়া যায় তা জ্ঞানের কোন শাখার সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টির সাথে যুক্তিবিদ্যার সম্পর্ক আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নন্দনতত্ত্ব হলো দর্শনের একটি শাখা যা সৌন্দর্য, আর্ট বা শিল্প এবং নান্দনিক মূল্যায়নের স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ্যায় 'চিন্তা' বলতে স্মৃতি, কল্পনা বা সংবেদনকে না বুঝিয়ে কেবল অনুমান প্রক্রিয়া এবং এর সহায়ক মানসিক প্রক্রিয়াগুলোকে বোঝায়। যুক্তিবিদ্যা অনুমানের নিয়মাবলি প্রণয়ন করে এবং সত্য অর্জনের লক্ষ্যে সঠিক চিন্তার কাঠামো নির্ধারণ করে। এ কারণে যোসেফসহ অন্যান্য অনেক যুক্তিবিদ যুক্তিবিদ্যাকে 'চিন্তার বিজ্ঞান' বলে অভিহিত করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সুমনার চরিত্রে যে পরিচয় পাওয়া যায় তা জ্ঞানের শাখা হিসেবে 'নন্দনতত্ত্ব' (Aesthetics)-এর সাথে সম্পর্কিত।

    নন্দনতত্ত্ব দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আদর্শনিষ্ঠ শাখা, যার মূল কাজ হলো সৌন্দর্যের স্বরূপ, প্রকৃতি এবং শিল্পকলার নীতিসমূহ আলোচনা ও মূল্যায়ন করা। সংগীত, চিত্রাঙ্কন, সাহিত্য, কাব্যের রস এবং মানুষের নান্দনিক অনুভূতি—এসবই নন্দনতত্ত্বের আলোচনার মূল উপজীব্য।

    উদ্দীপকে দেখা যায় সুমনা সংগীতচর্চা, চিত্রাঙ্কন ও সাহিত্যের সাথে জড়িত। একই সাথে তার মধ্যে কাব্যের সৌন্দর্যপ্রীতি, শিল্পবোধ ও রসবোধ প্রবল। এসব গুণাবলি সম্পূর্ণরূপে সৌন্দর্য ও শিল্পের অনুভূতির সাথে সম্পৃক্ত, যা নন্দনতত্ত্বের মূল আলোচ্য বিষয়। তাই এটি দর্শনের নন্দনতত্ত্ব শাখার অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি হলো 'নন্দনতত্ত্ব'। দর্শনের অংশ হিসেবে নন্দনতত্ত্ব এবং যুক্তিবিদ্যার মধ্যে অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:

    ১. আদর্শনিষ্ঠ বিদ্যা: যুক্তিবিদ্যা এবং নন্দনতত্ত্ব উভয়ই আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। যুক্তিবিদ্যার চরম আদর্শ হলো 'সত্য' এবং নন্দনতত্ত্বের আদর্শ হলো 'সৌন্দর্য'। দুটির উদ্দেশ্যই মানুষের চেতনাকে মার্জিত করা।
    ২. যুক্তিবোধ ও সৌন্দর্যবোধ: যদিও নন্দনতত্ত্ব মূলত আবেগ, অনুভূতি ও নান্দনিক মূল্যায়নের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তথাপি একটি ভালো শিল্পকর্ম গঠনে সুশৃঙ্খল নিয়ম ও সামঞ্জস্যপূর্ণ চিন্তার প্রয়োজন হয়, যা যুক্তিবিদ্যা শেখায়।
    ৩. পার্থক্য: যুক্তিবিদ্যার ভিত্তি হলো বুদ্ধি ও যুক্তি; কিন্তু নন্দনতত্ত্বের মূল ভিত্তি হলো মানবিক অনুভূতি, রসবোধ ও আবেগ। যুক্তিবিদ্যা সত্য ও অসত্যের পার্থক্য নির্দেশ করে এবং নন্দনতত্ত্ব সুন্দর ও সুন্দরের অভাবের পার্থক্য করে।

    পরিশেষে বলা যায়, লক্ষ্য ও আদর্শের দিক থেকে ভিন্ন হলেও সত্য ও সুন্দরের মিলন ঘটিয়ে মানুষের আত্মিক ও বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটাতে যুক্তিবিদ্যা ও নন্দনতত্ত্ব পরস্পর পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন