বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

4.

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান

ভূমিকা:
আধুনিক মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি হলো বিজ্ঞান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলেই মানুষ আজ প্রকৃতির প্রতিকূলতাকে জয় করে গড়ে তুলেছে এক আধুনিক ও আরামদায়ক বিশ্ব। অজানাকে জানার চিরন্তন কৌতূহল এবং জীবনযাত্রাকে সহজ ও সুন্দর করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই বিজ্ঞানের জয়যাত্রা। তাই বর্তমান যুগকে সঙ্গত কারণেই বলা হয় বিজ্ঞানের যুগ, যার প্রতিটি আবিষ্কারই মানব কল্যাণে নিবেদিত।

দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান:
আমাদের ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত বিজ্ঞানের দান অপরিহার্য। বিদ্যুৎ, ফ্যান, এসি, ফ্রিজ, গ্যাস স্টোভ থেকে শুরু করে বিনোদনের মাধ্যম টেলিভিশন ও ইন্টারনেট—সবই বিজ্ঞানের উপহার। দৈনন্দিন গৃহস্থালির কঠিন কাজগুলো আজ বিজ্ঞানের কল্যাণে সহজ ও দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে।

কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে বিজ্ঞান:
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে বিজ্ঞান অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছে। উন্নত জাতের উচ্চফলনশীল (উফশী) বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, স্বয়ংক্রিয় সেচব্যবস্থা এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্রের (যেমন: পাওয়ার টিলার, কম্বাইন হারভেস্টার) ব্যবহার কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বায়োটেকনোলজির কল্যাণে আজ খরা, বন্যা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের চাষ সম্ভব হচ্ছে।

চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান:
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি করেছে এবং অকালমৃত্যুর হার অনেকাংশে কমিয়েছে। এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ইত্যাদি জটিল রোগ নির্ণয়ে অপরিহার্য ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন মারণব্যাধির প্রতিষেধক টিকা, জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক এবং আধুনিক অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রযুক্তি চিকিৎসাক্ষেত্রে মানুষের জীবনকে নতুন দিশা দিয়েছে।

যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বিজ্ঞান:
বিজ্ঞান দূরত্বকে জয় করে সমগ্র পৃথিবীকে আজ একটি 'গ্লোবাল ভিলেজ' বা বিশ্বগ্রামে পরিণত করেছে। দ্রুতগতির ট্রেন, উড়োজাহাজ ও সমুদ্রগামী জাহাজ যাতায়াতকে করেছে সহজ ও দ্রুত। অন্যদিকে কম্পিউটার, স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের কল্যাণে তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগ মুহূর্তের মধ্যে সম্ভব হচ্ছে। ঘরে বসেই মানুষ দেশ-বিদেশের শিক্ষা, ব্যবসা ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছে।

বিজ্ঞানের অপব্যবহার ও সতর্কতা:
বিজ্ঞান মানুষের কল্যাণার্থে এলেও এর অপব্যবহার মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি ডেকে আনছে। পারমাণবিক ও জীবাণু অস্ত্রের উদ্ভাবন মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এছাড়াও অতিরিক্ত শিল্পায়ন ও প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত করছে। তাই বিজ্ঞানকে মানবকল্যাণের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রেখে এর ধ্বংসাত্মক ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

উপসংহার:
বিজ্ঞান মানবজাতির সেবক, শিক্ষক ও অগ্রগতির দিশারি। বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে মানুষ অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের অন্ধকার দূর করেছে। বিজ্ঞানের সঠিক ও গঠনমূলক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে তা পৃথিবীর রূপ বদলে দিয়ে মানবজাতির জন্য এক শান্তিময় ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন