‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' নামক রাষ্ট্রটি দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতা লাভের এক বছরের মধ্যে তারা পৃথিবীর একটি অন্যতম সেরা সংবিধান প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়। এ সংবিধানের উল্লেখ আছে যে, "জনগণের সকল ক্ষমতার উৎস"।

  1. ক)

    HIV- এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    ভাষা আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানের সাথে কোন দেশের সংবিধানের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত উক্তিটি বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    HIV-এর পূর্ণরূপ হলো Human Immunodeficiency Virus।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পূর্ব বাংলার জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামই হলো ভাষা আন্দোলন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ওপর উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে এ আন্দোলন শুরু হয় এবং ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি অর্জন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানের মিল রয়েছে।

    ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতা লাভের মাত্র এক বছরের মাথায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গণপরিষদ ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর একটি অনন্য সংবিধান প্রণয়ন ও গ্রহণ করে, যা ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ৭(১)-এ সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, "প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ"।

    উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রটিও দীর্ঘ সংগ্রামের পর স্বাধীনতা লাভ করে এক বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম সেরা সংবিধান প্রণয়ন করে, যেখানে 'জনগণের সকল ক্ষমতার উৎস' কথাটি বলা হয়েছে। তাই এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সংবিধানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত "জনগণের সকল ক্ষমতার উৎস" উক্তিটি বাংলাদেশের সংবিধানের মূল দর্শনের আলোকে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

    বাংলাদেশ সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা হয়েছে: "প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।"

    এই ঘোষণার মাধ্যমে সংবিধানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে:
    ১. জনগণের সার্বভৌমত্ব: বাংলাদেশ কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বা রাজার শাসনাধীন রাষ্ট্র নয়; এটি একটি প্রজাতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার চূড়ান্ত ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত।
    ২. গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব: জনগণ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন। সরকার পরিচালিত হয় জনগণের প্রতিনিধির দ্বারা এবং সরকার জনগণের কাছেই জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে।
    ৩. সংবিধানের প্রাধান্য: সংবিধানে বলা হয়েছে যে ক্ষমতার উৎস জনগণ হলেও, সেই ক্ষমতা সংবিধানে উল্লিখিত নিয়ম অনুসারে পরিচালিত হবে। জনগণের ক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে প্রণীত এই সংবিধানই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন (অনুচ্ছেদ ৭(২))।

    সুতরাং, বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, "জনগণের সকল ক্ষমতার উৎস" নীতিটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি এবং জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার এক অনন্য ও অপরিহার্য স্বীকৃতি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন