অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এদেশে বিদ্যমান সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যার পরিমাণ অনেক বেশি। এজন্য বিভিন্ন সমস্যা যেমন- জনসংখ্যা বৃদ্ধি, খাদ্য ঘাটতি, বেকারত্বসহ ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিককালে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে জনসংখ্যার নিয়ন্ত্রণ করে জনসংখ্যা ও সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের চেষ্টা চলছে।
- ক)(1)
জনসংখ্যার ঘনত্ব কাকে বলে?
- খ)(2)
আত্ম-কর্মসংস্থান বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
বাংলাদেশে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব কতটুকু কার্যকর? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে যত লোক বসবাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিজস্ব পুঁজি, শ্রম, দক্ষতা ও নিজস্ব বা সংগৃহীত সম্পদের সমন্বয়ে ঝুঁকি নিয়ে নিজের কর্মসংস্থান নিজে সৃষ্টি করাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।
এটি সাধারণত মজুরিভিত্তিক চাকরির বিকল্প হিসেবে কাজ করে। যেমন—হাঁস-মুরগির খামার স্থাপন, কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠা, সেলাই কাজ ইত্যাদি আত্মকর্মসংস্থানের উদাহরণ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর হয়, অন্যদিকে ব্যক্তি নিজেই নিজের আয়ের পথ তৈরি করে স্বাবলম্বী হতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬...) এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫...)। এর ফলে দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যা, খাদ্য ঘাটতি, বেকারত্ব সৃষ্টি হয় এবং প্রাকৃতিক উপায়ে (যেমন—বন্যা, মহামারি, দুর্ভিক্ষ) জনসংখ্যার ওপর প্রাকৃতিক নিরোধ নেমে আসে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ, যেখানে বিদ্যমান সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যার আধিক্য রয়েছে। এর ফলে খাদ্য ঘাটতি, বেকারত্ব ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। উদ্দীপকের এই বিবরণ ম্যালথাসের তত্ত্বের নেতিবাচক প্রভাব ও প্রাকৃতিক নিরোধের পূর্বাভাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে আধুনিক কৃষিপদ্ধতির বিকাশ ও পরিবার পরিকল্পনার কারণে ম্যালথাসের চরম সংকট পুরোপুরি দেখা দেয়নি। তবুও উদ্দীপকে বর্ণিত বাস্তবতায় ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের মৌলিক সংকটগুলো বাংলাদেশে যথেষ্ট কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে জনসংখ্যা ও সম্পদের সামঞ্জস্য বিধানের কথা বলা হয়েছে, যা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপকে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশ সরকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
১. পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি: জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সুলভ ও সহজলভ্যকরণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং তৃণমূল পর্যায়ে মাঠকর্মীদের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
২. নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন: মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি প্রদান ও বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ায় বাল্যবিয়ে হ্রাস পেয়েছে এবং বিয়ের বয়স বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রজনন হার কমেছে।
৩. সচেতনতা বৃদ্ধি: সরকারি গণমাধ্যমে 'দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়' বা 'ছেলে হোক, মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ট' ইত্যাদি স্লোগানের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে।মূল্যায়ন: সরকারের এসব পদক্ষেপের ফলে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ও শিশু মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে শতভাগ সাফল্য অর্জনে এখনো গ্রামীণ পর্যায়ে কুসংস্কার দূরীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিং আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে, উদ্দীপকের আলোকে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও