যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

জার্মান বিজ্ঞানী আইনস্টাইন ১৮৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্ববিখ্যাত এই বিজ্ঞানী অবসর সময়ে বেহালা বাজাতে ভালোবাসতেন। বাঙালি দার্শনিক বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম অত্যন্ত বিচক্ষণ, বিচারবোধসম্পন্ন, যুক্তি প্রদানের ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।

  1. ক)

    পরফিরির মতে বিধেয়ক কয় প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    মধ্যবর্তী জাতি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'কাজী নজরুল ইসলামের' চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে কোন প্রকারের বিধেয়কটি প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'আইনস্টাইন' এর মাধ্যমে প্রকাশিত বিধেয়কসমূহের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দার্শনিক পরফিরির মতে বিধেয়ক পাঁচ প্রকার।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরম জাতি ও উপজাতির মধ্যবর্তী যে কোনো জাতিকে মধ্যবর্তী জাতি (Intermediate Genus) বলা হয়। অর্থাৎ যে শ্রেণিটি তার ওপরের শ্রেণির সাপেক্ষে উপজাতি কিন্তু তার নিচের শ্রেণির সাপেক্ষে জাতি হিসেবে বিবেচিত হয়, তাকে মধ্যবর্তী জাতি বলে। যেমন: 'জীব' জাতির সাপেক্ষে 'মানুষ' উপজাতি হলেও 'শিক্ষিত মানুষ' এর সাপেক্ষে 'মানুষ' একটি জাতি; ফলে এখানে 'মানুষ' হলো একটি মধ্যবর্তী জাতি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে 'উপলক্ষণ' (Proprium) নামক বিধেয়কটি প্রকাশিত হয়েছে।

    উপলক্ষণ হলো এমন গুণ যা কোনো পদের মূল আসন্নাতি বা যাত্যার্Format/যাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু যাত্যর্থ বা মূল লক্ষণ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামকে "অত্যন্ত বিচক্ষণ, বিচারবোধসম্পন্ন, যুক্তি প্রদানের ক্ষমতার অধিকারী" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষের মূল লক্ষণ বা যাত্যর্থ হলো 'বুদ্ধিবৃত্তি'। মানুষের এই সহজাত বুদ্ধিবৃত্তি থেকেই যুক্তি প্রদানের ক্ষমতা, বিচারবোধ এবং বিচক্ষণতার মতো গুণাবলি অনিবার্যভাবে উৎপন্ন বা নিঃসৃত হয়। যেহেতু বিচারবোধ বা যুক্তি প্রদানের ক্ষমতা যাত্যর্থের অন্তর্ভুক্ত নয় কিন্তু তা যাত্যর্থ থেকে সরাসরি নিঃসৃত, তাই কাজী নজরুল ইসলামের উল্লেখিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো বিধেয়কের নিয়মানুযায়ী 'উপলক্ষণ' নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন প্রকৃতির বিধেয়ক প্রকাশিত হয়েছে—একটি হলো 'অমান্তর লক্ষণ' (Accident) এবং অপরটি তার বিশেষ রূপ (ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ)। নিচে এদের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উদ্দীপকের বর্ণনা:
    উদ্দীপকে আইনস্টাইনের দুটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ রয়েছে:
    (ক) ১৮৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করা—এটি একটি নির্দিষ্ট ঘটনা বা অপরিবর্তনীয় ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, যা 'ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ'। কারণ আইনস্টাইন থেকে তার জন্মসালকে কখনো পৃথক বা আলাদা করা যায় না।
    (খ) অবসর সময়ে বেহালা বাজানো—এটি একটি 'ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ'। কারণ আইনস্টাইন চাইলে বেহালা বাজানো বন্ধ রাখতে পারেন বা এটি তার সত্তার সাথে চিরকাল আবশ্যিকভাবে যুক্ত থাকে না।

    ২. ধারণাগত পার্থক্য:

    • অবান্তর লক্ষণ হলো এমন গুণ যা পদের যাত্যর্থের অংশ নয় এবং যাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও হয় না, অথচ ব্যক্তিতে তা পাওয়া যায়।
    • আইনস্টাইনের জন্মসাল (১৮৭৯) এবং বেহালা বাজানো—কোনোটিই মানুষের মূল যাত্যর্থ (জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি) থেকে নিঃসৃত নয়। তবে জন্মসাল কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী ও অবিচ্ছেদ্য (অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ), অন্যদিকে অবসর সময়ে বেহালা বাজানো একটি সাময়িক বা পরিবর্তনশীল অভ্যাস (বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ)।

    ৩. প্রয়োগগত পার্থক্য:
    আইনস্টাইন ব্যক্তি হিসেবে বেহালা বাজানো ত্যাগ করতে পারেন, যা তার ব্যক্তিসত্তাকে বিনষ্ট করে না। কিন্তু ১৮৭৯ সালে জন্মগ্রহণের তথ্যটি তার অতীত অস্তিত্বের সাথে অবিভাজ্যভাবে জড়িত।

    অতএব, উদ্দীপকের আইনস্টাইনের মাধ্যমে বিধেয়কের অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ এবং বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ—এই দুইয়ের সুস্পষ্ট পার্থক্য ফুটে উঠেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন