অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
কালামের দেশের কৃষি চারটি উপখাতের সমন্বয়ে গঠিত। উপখাতগুলো হচ্ছে যথাক্রমে- শস্য, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও বনজসম্পদ। সাম্প্রতিক সময়ে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান নিম্নরূপ:উল্লিখিত তথ্যে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ক্রমান্বয়ে কমছে। দেশে দ্রুত শিল্প খাতের বিকাশ ও কৃষির প্রকৃতি নির্ভরতাকে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমে যাওয়ার কারণ বলে অনেকের ধারণা। কিন্তু দেশের GDP তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নে ত্বরান্বিত করতে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি জরুরি। আবার শিল্প খাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাঁচামালের যোগানদাতা হিসেবে কৃষি খাতের উন্নয়ন অপরিহার্য।
উপখাত | ২০১৬-১৭ (শতকরা) | ২০১৭-১৮ (শতকরা)
১. শস্য | ৭.৯২ | ৭.৩৭
২. মৎস্য | ৩.৬১ | ৩.৫৭
৩. প্রাণিসম্পদ | ১.৬০ | ১.৫৪
৪. বনজসম্পদ | ১.৬৬ | ১.৬৩
- ক)(1)
মিশ্র খামার কী?
- খ)(2)
সনাতনি কৃষি কাঠামো বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কালামের দেশের জিডিপিতে কৃষি উপখাতের অবদান লেখচিত্রে প্রকাশ করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের GDP এর প্রবৃদ্ধির জন্য কৃষি খাতের কোন উপখাতের গুরুত্ব বেশি উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে খামারে ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন, গবাদিপশু পালন, মৎস্য চাষ ইত্যাদি বহুমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড একই সাথে পরিচালিত হয়, তাকে মিশ্র খামার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সনাতনি কৃষি কাঠামো বলতে প্রাচীন ও সনাতন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ পরিচালনার সার্বিক ব্যবস্থাকে বোঝায়।
এ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি, রাসায়নিক সার, কীটনাশক বা উন্নত বীজের পরিবর্তে কাঠের লাঙল, মই, বলদ ইত্যাদি আদিম কৃষি সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় এবং সেচের জন্য মূলত প্রকৃতির (বৃষ্টিপাতের) ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে সনাতনি কৃষি কাঠামোতে উৎপাদনশীলতা কম থাকে এবং কৃষক মূলত জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যেই চাষাবাদ করে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কালামের দেশের জিডিপিতে কৃষির চারটি উপখাতের ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের অবদান (শতকরা হারে) নির্দেশ করা হয়েছে।
লেখচিত্র বা দণ্ডচিত্র (Bar Diagram) অঙ্কন পদ্ধতি:
১. অনুভূমিক অক্ষে (X-অক্ষ) কৃষির চারটি উপখাত—শস্য, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও বনজসম্পদ স্থাপন করা হয়।
২. উলম্ব অক্ষে (Y-অক্ষ) জিডিপিতে অবদানের শতকরা হার (০% থেকে ৮% পর্যন্ত উপযুক্ত স্কেলে) নির্ধারণ করা হয়।
৩. প্রতিটি উপখাতের জন্য ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ সালের পাশাপাশি দুটি করে দণ্ড (Bar) আঁকা হয়:- শস্য উপখাতের জন্য ২০১৬-১৭ সালে ৭.৯২% এবং ২০১৭-১৮ সালে ৭.৩৭% উচ্চতার স্তম্ভ।
- মৎস্য উপখাতের জন্য ২০১৬-১৭ সালে ৩.৬১% এবং ২০১৭-১৮ সালে ৩.৫৭% উচ্চতার স্তম্ভ।
- প্রাণিসম্পদ উপখাতের জন্য ২০১৬-১৭ সালে ১.৬০% এবং ২০১৭-১৮ সালে ১.৫৪% উচ্চতার স্তম্ভ।
- বনজসম্পদের জন্য ২০১৬-১৭ সালে ১.৬৬% এবং ২০১৭-১৮ সালে ১.৬৩% উচ্চতার স্তম্ভ।
উক্ত লেখচিত্র বা স্তম্ভচিত্রটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, প্রতিটি উপখাত থেকেই জিডিপিতে অবদানের হার ক্রমান্বয়ে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির জন্য কৃষি খাতের চারটি উপখাতের মধ্যে 'শস্য ও শাকসবজি' উপখাতের গুরুত্ব সর্বাধিক হলেও দীর্ঘমেয়াদে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নে প্রতিটি উপখাতেরই বিশেষ অবদান রয়েছে।
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপিতে শস্য খাতের অবদান ছিল ৭.৯২% এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা ছিল ৭.৩৭%। কৃষির মোট অবদানের অর্ধেকেরও বেশি আসে এককভাবে শস্য উপখাত থেকে। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের প্রধান খাদ্যশস্য (চাল, গম) ও পুষ্টির জোগান দেয় এই শস্য উপখাত। এছাড়া শিল্প খাতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল (যেমন: পাট, আখ, তুলা, তামাক ইত্যাদি) শস্য খাত থেকেই আসে।
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ, দ্রুত আয় বৃদ্ধি ও রপ্তানি আয়ের দিক বিবেচনা করলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপখাত অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল। বিশেষ করে ইলিশ ও চাষের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পোলট্রি ও ডেইরি শিল্পের সম্প্রসারণ জিডিপিতে উচ্চ মূল্য সংযোজন করছে।
সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বৃহত্তম গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্প খাতের মৌলিক কাঁচামাল সরবরাহের কারণে জিডিপির প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কৃষি খাতের মধ্যে 'শস্য উপখাত'-এর গুরুত্ব এখনও সবচেয়ে বেশি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও