ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশ সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংকের সাথে একটি ঋণচুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাংক ঋণ মঞ্জুরের ক্ষেত্রে কঠিন শর্ত আরোপ করায় বাংলাদেশ সরকার অর্থায়নের বিকল্প উৎস হিসেবে নিজস্ব অর্থায়নের কথা ডাবল। সরকার নিজস্ব এবং বেসরকারি সহায়তায় অর্থায়নের মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিল।
- ক)(1)
তারল্য নীতি কী?
- খ)(2)
অর্থায়নকে ব্যবসায়ের মূল চালিকাশক্তি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য প্রথমে কোন ধরনের অর্থায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়? বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
পদ্মা সেতু নির্মাণে বিকল্প অর্থায়নের উদ্যোগ গ্রহণ ব্যবস্থা যুক্তিসংগত কিনা? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠান যাতে দৈনন্দিন দেনা পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সংরক্ষণ করতে পারে এবং একই সাথে মুনাফা অর্জনের সুযোগও হাতছাড়া না হয়—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার নীতিকেই তারল্য নীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থকে ব্যবসায়ের জীবনীশক্তি বা চালিকাশক্তি বলা হয়। কারণ উৎপাদনের প্রতিটি উপাদান যেমন—ভূমি, শ্রম ও মূলধন সংগ্রহ ও সচল রাখতে এবং কাঁচামাল ক্রয়, কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য দৈনন্দিন ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় নির্বাহে অর্থের নিরবচ্ছিন্ন জোগান অপরিহার্য। পর্যাপ্ত অর্থসংস্থান ছাড়া কোনো ব্যবসায় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বা পরিচালনা সম্ভব নয় বলে অর্থায়নকে ব্যবসায়ের মূল চালিকাশক্তি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য প্রথমে আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক অর্থায়নের (International Financing) উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
আন্তর্জাতিক অর্থায়নে কোনো দেশের সরকার বা সরকারি সংস্থা বহুজাতিক বা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (যেমন—বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ইত্যাদি) কিংবা অন্য কোনো বিদেশি উৎস থেকে ঋণ বা অনুদান গ্রহণ করে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশ সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণের মতো একটি মেগা প্রকল্পের তহবিল সংগ্রহের জন্য শুরুতে বিশ্বব্যাংকের সাথে একটি ঋণচুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিশ্বব্যাংক একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হওয়ায় এ উদ্যোগটি ছিল আন্তর্জাতিক সরকারি অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পদ্মা সেতু নির্মাণে বিকল্প অর্থায়নের উদ্যোগ গ্রহণ ছিল সম্পূর্ণ যুক্তিসংগত ও সময়োপযোগী।
একটি মেগা প্রকল্প জাতীয় উন্নয়নের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলো যখন অনাকাঙ্ক্ষিত ও কঠিন শর্তারোপ করে অথবা তহবিল মুক্তিতে বিলম্ব করে, তখন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্বনির্ভরতা অর্জন ও বিকল্প আর্থিক উৎসের ব্যবহার দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও সক্ষমতা নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিশ্বব্যাংক ঋণ মঞ্জুরের ক্ষেত্রে কঠিন শর্তারোপ করায় বাংলাদেশ সরকার বিকল্প হিসেবে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ উৎস ও সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে বিদেশি ঋণের কঠোর শর্ত ও রাজনৈতিক চাপ এড়িয়ে যথাসময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ সম্ভব হয়েছে।
অতএব, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা প্রদর্শনের দিক থেকে পদ্মা সেতু নির্মাণে নিজস্ব ও বিকল্প অর্থায়নের এই উদ্যোগ গ্রহণ পুরোপুরি যুক্তিসংগত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও