যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    আরোহের ভিত্তি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি সম্পর্কে মিলের মতকে কেন আরোহের কূটাভাস বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কার্যকারণ সম্পর্কিত কোন মতবাদের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মতবাদটির গ্রহণযোগ্যতা তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে আরোহ অনুমানে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়, সেগুলোকে আরোহের ভিত্তি বলে। আরোহের ভিত্তি দুই প্রকার: আকারগত ভিত্তি ও বস্তুগত ভিত্তি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ জে. এস. মিলের মতে, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি হলো আরোহের ভিত্তি; আবার তিনিই বলেন যে এটি আরোহেরই একটি সিদ্ধান্ত বা ফল। অর্থাৎ একটি নীতি একই সঙ্গে আরোহের সূচনা বা ভিত্তি এবং তার সিদ্ধান্ত—এই স্ববিরোধী বক্তব্যের কারণেই মিলের মতকে ‘আরোহের কূটাভাস’ (Paradox of Induction) বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কার্যকারণ সম্পর্কিত ‘বহুকারণবাদ’ (Plurality of Causes) মতবাদের ইঙ্গিত রয়েছে।

    কারণতত্ত্বের একটি বহুল আলোচিত মতবাদ হলো বহুকারণবাদ। যুক্তিবিদ মিলের মতে, একটি নির্দিষ্ট কার্য সবসময় একই কারণ দ্বারা উৎপন্ন না হয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণ দ্বারাও উৎপন্ন হতে পারে।

    উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে, 'জ্ঞান অর্জন' নামক একই কার্যটি সংঘটনের জন্য চারটি ভিন্ন উৎস বা উপায় নির্দেশ করা হয়েছে—বই, সংবাদপত্র, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তির সংস্পর্শ। অর্থাৎ একটি অভিন্ন কার্যের একাধিক ভিন্ন কারণকে দেখানো হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকটি বহুকারণবাদ মতবাদকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মতবাদটি হলো ‘বহুকারণবাদ’। পাঠ্যবইয়ের আলোকেও যুক্তিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মতবাদটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ।

    ব্যবহারিক ও সাধারণ অভিজ্ঞতার দৃষ্টিতে বহুকারণবাদকে সত্য বলে মনে হয়। যেমন উদ্দীপকে দেখানো হয়েছে জ্ঞান অর্জনের পথ একাধিক—বই, পত্রিকা, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি। তেমনি দৈনন্দিন জীবনে মৃত্যু ঘটতে পারে নানা কারণে—রোগে, দুর্ঘটনায় বা বিষপানে। তাই বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি যথার্থ মনে হতে পারে।

    কিন্তু বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বহুকারণবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ:
    ১. কার্য ও কারণের নির্দিষ্টতার অভাব: কার্যকে যখন শিথিল ও অস্পষ্ট সাধারণ দৃষ্টিতে দেখা হয়, তখনই কেবল একাধিক কারণ প্রতীয়মান হয়। কিন্তু কার্যকে যদি সুনির্দিষ্ট আকারে সংজ্ঞায়িত করা যায়, তবে দেখা যাবে প্রতিটি নির্দিষ্ট রূপের পেছনে একটিমাত্র নির্দিষ্ট কারণই থাকে।
    ২. কার্যকারণ নিয়মের বিরোধিতা: কার্যকারণ নিয়মানুযায়ী, সমজাতীয় কারণ সর্বদা সমজাতীয় কার্য সৃষ্টি করে। অর্থাৎ কারণ ও কার্যের সম্পর্ক সার্বিক ও অপরিবর্তনীয়।
    ৩. শক্তির নিত্যতা সূত্রের পরিপন্থী: শক্তির অবিভাজ্যতা নীতি অনুযায়ী কোনো কারণ বহুবিধ ফলাফল অথবা বিভিন্ন উৎস হতে একক ফলাফল অবিকলভাবে দিতে পারে না, প্রতিটিতে নির্দিষ্ট শক্তি রূপান্তর ঘটে।

    অতএব, পাঠ্যবইয়ের বৈজ্ঞানিক আলোচনা অনুযায়ী উদ্দীপকের বহুকারণবাদ মতবাদটি আপাতদৃষ্টিতে প্রযোজ্য হলেও বৈজ্ঞানিক অর্থে গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন