রসায়ন ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

আখ →\rightarrow A →ইনভার্টেজ\xrightarrow{\text{ইনভার্টেজ}} B →জাইমেজ\xrightarrow{\text{জাইমেজ}} C →অ্যাসিটোব্যাক্টর\xrightarrow{\text{অ্যাসিটোব্যাক্টর}} D

  1. ক)

    হুকের নীতিটি লিখ।

    (1)
  2. খ)

    দ্রবণে Na+ আয়ন কীভাবে শনাক্ত করবে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ‘A’ থেকে ‘D’ এর প্রস্তুতি সমীকরণসহ বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ‘D’ দ্বারা খাদ্য সংরক্ষণের কৌশল আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে কোনো বস্তুর ওপর প্রযুক্ত পীড়ন তার বিকৃতির সমানুপাতিক। একে হুকের সূত্র বা হুকের নীতি বলে। (পীড়ন ∝ বিকৃতি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্রবণে Na+ আয়ন শনাক্তকরণের জন্য পটাশিয়াম পাইরোঅ্যান্টিমোনেট (K2H2Sb2O7) দ্রবণ ব্যবহার করা হয়।
    মূল দ্রবণে কয়েক ফোঁটা পটাশিয়াম পাইরোঅ্যান্টিমোনেট দ্রবণ যোগ করে টেস্টটিউবের গা ঘষে কিছুক্ষণ রেখে দিলে সোডিয়াম ডাইহাইড্রোজেন পাইরোঅ্যান্টিমোনেটের (Na2H2Sb2O7) সাদা রঙের দানাদার অধঃক্ষেপ পড়ে। এর মাধ্যমে Na+ আয়ন নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়।
    বিক্রিয়া:
    2Na+ + K2H2Sb2O7 → Na2H2Sb2O7 ↓ (সাদা অধঃক্ষেপ) + 2K+

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আখ থেকে প্রাপ্ত শর্করা A হলো সুক্রোজ (C12H22O11) এবং D হলো ভিনেগার বা ইথানয়িক অ্যাসিড (CH3COOH)। নিচে A থেকে D-এর প্রস্তুতি সমীকরণসহ বর্ণনা করা হলো:

    ১. সুক্রোজের আর্দ্রবিশ্লেষণ: আখের রসে থাকা সুক্রোজের (A) জলীয় দ্রবণে ইস্ট যোগ করলে ইস্ট নিঃসৃত ইনভার্টেজ এনজাইমের প্রভাবে সুক্রোজ ভেঙে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সমমোলার মিশ্রণ (B) তৈরি হয়।
    C12H22O11 + H2O --(ইনভার্টেজ, 37°C)--> C6H12O6 (গ্লুকোজ) + C6H12O6 (ফ্রুক্টোজ)

    ২. সন্ধান বা গাঁজন: ইস্ট নিঃসৃত অপর এনজাইম জাইমেজের প্রভাবে এই গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ বিয়োজিত হয়ে ইথাইল অ্যালকোহল (C) এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়।
    C6H12O6 --(জাইমেজ)--> 2CH3CH2OH (C) + 2CO2

    ৩. জারণ ও ভিনেগার তৈরি: উৎপাদিত ইথানল (C)-এর লঘু দ্রবণে (১০%) অ্যাসিটোব্যাক্টর ব্যাকটেরিয়া ও বাতাসের অক্সিজেন যোগ করলে এটি জারিত হয়ে ইথানয়িক অ্যাসিড বা ভিনেগারে (D) পরিণত হয়।
    CH3CH2OH + O2 --(অ্যাসিটোব্যাক্টর)--> CH3COOH (D) + H2O

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ‘D’ যৌগটি হলো অ্যাসিটিক অ্যাসিড বা ইথানয়িক অ্যাসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবণ, যা ভিনেগার নামে পরিচিত। খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা বা কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. অম্লীয় পরিবেশ ও pH হ্রাস: ভিনেগার বা অ্যাসিটিক অ্যাসিড একটি মৃদু জৈব অ্যাসিড হলেও এটি জলীয় দ্রবণে বিয়োজিত হয়ে H+ আয়ন তৈরি করে:
    CH3COOH ⇌ CH3COO- + H+
    এর ফলে খাদ্যের অভ্যন্তরীণ মাধ্যমের pH হ্রাস পেয়ে প্রায় ৪.০ এর নিচে নেমে আসে (সাধারণত pH ২.৫ – ৩.৫)।

    ২. ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ: খাদ্য নষ্টকারী ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, মোল্ড এবং অন্যান্য অণুজীবের বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল pH হলো ৬.৫ থেকে ৭.৫। কম pH (অম্লীয় মাধ্যম) তাদের বেঁচে থাকার প্রতিকূল, ফলে অণুজীব ধ্বংস হয় বা তাদের বৃদ্ধি সম্পূর্ণ স্থগিত হয়ে যায়।

    ৩. অণুজীবের এনজাইম নিষ্ক্রিয়করণ: অ্যাসিটিক অ্যাসিডের অবিয়োজিত অণুগুলো সহজেই অণুজীবের লিপিড কোষপ্রাচীর ভেদ করে কোষের সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করে। কোষের ভেতরে গিয়ে এটি H+ আয়নে বিয়োজিত হয়ে সাইটোপ্লাজমের pH কমিয়ে দেয়। এর ফলে অণুজীবের এনজাইমসমূহের গঠন বিকৃত (denature) হয়ে যায় এবং বিপাকীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে অণুজীব দ্রুত মারা যায়।

    ৪. জারণ রোধ: অ্যাসিটিক অ্যাসিড খাদ্যের প্রাকৃতিক এনজাইমগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে খাদ্যের পচন ও জারণ প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়।

    এভাবেই উদ্দীপকের 'D' (ভিনেগার) খাদ্যে একটি অম্লীয় জীবাণুনাশক পরিবেশ তৈরি করে খাদ্যকে দীর্ঘদিন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা ও সংরক্ষণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন