‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    নাগরিক সমস্যা কী?

    (1)
  2. খ)

    খাদ্যে ফরমালিন কেন ব্যবহার করা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত স্থানে কোন নাগরিক সমস্যাকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নাগরিক সমস্যা উত্তরণে যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের জীবনযাত্রার পথে যেসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত করে, সেগুলোকে নাগরিক সমস্যা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফরমালিন মূলত একটি রাসায়নিক পদার্থ, যা সাধারণত গবেষণাগারে মৃতদেহ বা জৈব নমুনা সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ও অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী মাছ, মাংস, ফলমূল ও শাকসবজি দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে এবং পচনের হাত থেকে রক্ষা করতে বেআইনিভাবে খাদ্যে ফরমালিন ব্যবহার করে থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত স্থানে 'জলবায়ু পরিবর্তন' নামক নাগরিক সমস্যাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তন বলতে কোনো অঞ্চল বা সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার উপাদানের (যেমন: তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদির) অস্বাভাবিক ও স্থায়ী পরিবর্তনকে বোঝায়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মানুষের বিভিন্ন ক্ষতিকর কার্যকলাপের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ।

    উদ্দীপকের ছকে লক্ষ করা যায় যে, ওজোন স্তরের ক্ষয়, ঘনঘন বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির মতো লক্ষণগুলো দেখানো হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও ওজোন স্তরের ক্ষয়ের কারণেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে 'জলবায়ু পরিবর্তন' জনিত সমস্যাকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নাগরিক সমস্যাটি হলো 'জলবায়ু পরিবর্তন'। এটি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক সংকট, যা থেকে উত্তরণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নিচে এর উত্তরণে কিছু যুক্তিসঙ্গত মতামত তুলে ধরা হলো:

    ১. গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস: কলকারখানা ও যানবাহনে জীবাশ্ম জ্বালানির (কয়লা, তেল, গ্যাস) ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি) ব্যবহারে জোর দিতে হবে।

    ২. ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচি: বৃক্ষ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। তাই বন উজাড় রোধ করতে হবে এবং ব্যাপক হারে সামাজিক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

    ৩. সিএফসি (CFC) গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ: ওজোন স্তরের ক্ষয় রোধে রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদিতে সিএফসি গ্যাসের ব্যবহার নিষিদ্ধ ও বিকল্প পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে।

    ৪. টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: শিল্পবর্জ্য ও গৃহস্থালির বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রিসাইক্লিং ও পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

    ৫. জনসচেতনতা সৃষ্টি ও আইন প্রয়োগ: নাগরিক পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানো এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের যথাযথ ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

    ৬. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু তহবিল গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তা যথাযথ বরাদ্দে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে।

    পরিশেষে বলা যায়, ব্যক্তিগত সচেতনতা, রাষ্ট্রীয় নীতিমালা এবং বৈশ্বিক সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ভয়াবহ নাগরিক সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন