সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

সহপাঠ প্রশ্ন

চিতলমারী গ্রামের নারীরা শিক্ষায় অধিকতর পিছিয়ে থাকার কারণে সেখানে বাল্যবিবাহ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। বাল্যবিবাহ রোধে ঐ গ্রামের শিক্ষিত ছেলে আবদুল করিম একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত সবাই এ উদ্যোগকে সমর্থন করেন। ফলে আবদুল করিম দ্রুতই গ্রামে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করতে সক্ষম হন।

  1. ক)

    ধলা মিয়া কে?

    (1)
  2. খ)

    "বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ।"ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিতলমারী গ্রামের সমাজবাস্তবতার সাথে 'লাল সালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের সমাজবাস্তবতার তুলনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের আবদুল করিম কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারলেও 'লাল সালু' উপন্যাসের আক্কাস মহব্বতনগর গ্রামের সমাজবাস্তবতার কারণে ব্যর্থ হয়েছে।" মন্তব্যটি যাচাই কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ধলা মিয়া হলো 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবির ভাই।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ"- কথাটি দ্বারা মজিদের গভীর অন্তর্ভেদী, আবেগহীন এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টিকে বোঝানো হয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে পুঁজি করে গ্রামীণ সমাজের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। তার চোখের দৃষ্টি অত্যন্ত স্থির, ভাবলেশহীন এবং যেন অন্ধবিশ্বাসের দৃঢ় ভিত্তির ওপর খোদাই করা এক অচঞ্চল শক্তির রূপ। সাধারণ মানুষের মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি করতে এবং তাদের আনুগত্য নিশ্চিত করতে মজিদের এই কৃত্রিম অথচ ভয়ংকর আত্মপ্রত্যয়ী চোখের দৃষ্টি বিশেষভাবে কার্যকর ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিতলমারী গ্রামের সমাজবাস্তবতার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের সমাজবাস্তবতার মূল মিল অজ্ঞতা ও অনগ্রসরতায়, তবে আধুনিক উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির চরম বৈপরীত্য রয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামটি ছিল কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা এবং নিরক্ষরতায় নিমজ্জিত। শিক্ষার আলো না থাকায় সেখানকার মানুষ অতিমাত্রায় ধর্মভীরু ও অন্ধবিশ্বাসী ছিল। মজিদ নামে এক ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী তাদের এই অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করে এবং সেখানে কোনো আধুনিক জ্ঞান বা বিদ্যালয়ের বিকাশ হতে দেয়নি।

    উদ্দীপকের চিতলমারী গ্রামটিও অনগ্রসর ও অশিক্ষিত, যার প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে সেখানে বাল্যবিবাহ নিত্যনৈমিত্তিক রূপ নিয়েছে। এই নিরক্ষরতা ও নারীশিক্ষার অভাবের দিক থেকে গ্রাম দুটির সমাজবাস্তবতা এক। তবে চিতলমারী গ্রামের মানুষ শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসেছে, যা মহব্বতনগর গ্রামের অন্ধ আনুগত্য ও স্থবিরতার সম্পূর্ণ বিপরীত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের আবদুল করিম কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলেও 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস মহব্বতনগর গ্রামের সমাজবাস্তবতার কারণে ব্যর্থ হয়েছে”- মন্তব্যটি যথার্থ ও বস্তুনিষ্ঠ।

    একটি অনগ্রসর সমাজকে বদলাতে হলে সামাজিক সচেতনতা ও অনুকূল পরিবেশের প্রয়োজন হয়। উদ্দীপকে আবদুল করিম চিতলমারী গ্রামে বাল্যবিবাহ রোধে বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নেয়, তাতে গ্রামের মানুষ ইতিবাচকভাবে সাড়া দেয়। তারা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে করিমের পাশে দাঁড়ায়, যার ফলে করিম বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়।

    অন্যদিকে, 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস শিক্ষিত সচেতন যুবক হয়ে মহব্বতনগর গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার আন্তরিক উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু সেই সমাজের নিয়ন্ত্রণ ছিল ভণ্ড মজিদ এবং প্রভাবক খালেক ব্যাপারীর মতো কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতে। মজিদ বুঝতে পেরেছিল যে আধুনিক শিক্ষার বিস্তার ঘটলে ধর্মীয় কুসংস্কারের ভিত ধসে পড়বে এবং তার একচ্ছত্র আধিপত্য নষ্ট হবে। তাই সে অত্যন্ত চতুরতার সাথে ধর্মকে ঢাল বানিয়ে এবং আক্কাসের দাড়ি না থাকার বিষয়টিকে ইস্যু করে সমাজের মূর্খ মানুষদের খেপিয়ে তোলে। আক্কাসের উদ্যোগটি গ্রামের মানুষের সংকীর্ণ ধর্মীয় গোঁড়ামি ও মজিদের চক্রান্তের মুখে স্তব্ধ হয়ে যায়।

    অতএব দেখা যায়, মহব্বতনগর গ্রামের চরম ধর্মান্ধতা ও কায়েমী স্বার্থের আধিপত্যের কারণেই আক্কাসের শুভ উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, যা উদ্দীপকের করিমের অনুকূল সমাজবাস্তবতার সাথে একেবারেই মেলেনি। সুতরাং মন্তব্যটি পুরোপুরি সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন