যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে চারুকলার শিক্ষিকা মিসেস অবন্তী সহপাঠ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের চারুকলার বিভিন্ন কৌশল শিখিয়ে দেন। বিজ্ঞান শিক্ষক মি. অলক ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক দিকের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। প্রধান শিক্ষক তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের জন্য ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক দিকের সাথে শিখন কৌশলও অবলম্বন করতে হয়।
- ক)(1)
যুক্তিবিদ্যার জনক কে?
- খ)(2)
যুক্তিবিদ্যা কি একটি আদর্শমূলক বিজ্ঞান? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
মিসেস অবন্তীর বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার কোন দিকটি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যার জনক হলেন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যাকে একটি আদর্শমূলক বিজ্ঞান বলা হয়, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট আদর্শকে সামনে রেখে সত্যতা নির্ণয়ের নিয়মাবলি প্রণয়ন ও মূল্যায়ন করে। যুক্তিবিদ্যার মূল আদর্শ হলো 'সত্যকে অর্জন এবং মিথ্যাকে বর্জন করা'। বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞানের মতো এটি কেবল চিন্তার বাস্তব প্রক্রিয়া বর্ণনা করে না, বরং সঠিক চিন্তা বা অনুমানের আদর্শ মানদণ্ড নির্ধারণ করে বৈধ ও অবৈধ যুক্তির পার্থক্য নির্দেশ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিসেস অবন্তীর বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার ‘কলা’ (Art) দিকটিকে নির্দেশ করে।
যে বিদ্যা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবহারিক নিয়ম বা কৌশল শিক্ষা দেয়, তাকে কলা বলে। যুক্তিবিদ্যা শুধু অনুমানের নিয়ম আবিষ্কার করেই ক্ষান্ত হয় না, বরং বৈধ চিন্তনের সেই নিয়মগুলোকে বাস্তব চিন্তায় প্রয়োগ করার কৌশলও শেখায়।
উদ্দীপকে চারুকলার শিক্ষিকা মিসেস অবন্তী শিক্ষার্থীদের চারুকলার বিভিন্ন কলাকৌশল বা ব্যবহারিক নিয়মাবলি শিখিয়ে দেন। একইভাবে যুক্তিবিদ্যা সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে সঠিক নিয়ম প্রয়োগের ব্যবহারিক কলাকৌশল শিক্ষা দেয় বলে মিসেস অবন্তীর বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার কলা রূপটিকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য হলো— "প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের জন্য ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক দিকের সাথে শিখন কৌশলও অবলম্বন করতে হয়", যা যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞান ও কলা— উভয় রূপের সমন্বয়কে নির্দেশ করে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এর যৌক্তিকতা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
বিজ্ঞান হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে সুশৃঙ্খল ও পদ্ধতিগত জ্ঞান। যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান, কারণ এটি চিন্তার মৌলিক নিয়মাবলি সুশৃঙ্খলভাবে আলোচনা করে এবং সত্য অর্জনের সাধারণ সূত্র আবিষ্কার করে (যা শিক্ষক মি. অলকের বিজ্ঞান ও প্রায়োগিক দিকের গুরুত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ)। অন্যদিকে, কলা হলো সেই বিদ্যা যা কোনো কাজ সুন্দর ও সুচারুভাবে সম্পাদনের ব্যবহারিক নিয়ম বা কৌশল প্রদান করে (যা মিসেস অবন্তীর চারুকলার কৌশলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ)। যুক্তিবিদ্যাও অর্জিত তাত্ত্বিক নিয়মাবলিকে কীভাবে বাস্তব যুক্তি মূল্যায়নে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হয় তা শেখায়।
যুক্তিবিদ যোসেফ, মিল এবং হোয়েটলি প্রমুখ যুক্তিবিদগণ একমত পোষণ করেছেন যে যুক্তিবিদ্যা একই সাথে বিজ্ঞান এবং কলা। কারণ এটি কেবল তাত্ত্বিক নিয়ম প্রণয়ন করে না, সেই নিয়ম বাস্তবে প্রয়োগের কৌশলও শেখায়। সুতরাং, প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে প্রতিফলিত দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তিবিদ্যার সামগ্রিক স্বরূপ তথা বিজ্ঞান ও কলা উভয়ের সমন্বিত রূপটিকেই যথার্থভাবে তুলে ধরে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও