গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রোহিঙ্গা শিবিরে একজন কর্তব্যরত ডাক্তার চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তিনি প্রথম যে রোগীকে দেখলেন সে দিনের বেলা চোখে দেখলেও রাতের বেলা দেখতে পায় না। দ্বিতীয় রোগীর চোখের নিচ, জিভ ও চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। সে সব সময় ক্লান্তিতে ভোগে। তৃতীয় রোগীর গলার সামনের অংশ অনেকটা ফুলে গেছে।

  1. ক)

    খাদ্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    স্বাস্থ্য রক্ষায় খাদ্য ও পুষ্টি শিক্ষা গুরুত্ব কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম রোগী যে রোগে আক্রান্ত তার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ২য় ও ৩য় রোগীর রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয় বিষয়সমূহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যা খাওয়ার পর জীবদেহে শক্তি উৎপাদিত হয়, দেহের বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পূরণ হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, তাকে খাদ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাস্থ্য রক্ষায় খাদ্য ও পুষ্টি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এর মাধ্যমে খাদ্যের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান এবং দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাদ্যের নির্বাচন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। সঠিক খাদ্য ও পুষ্টি জ্ঞান থাকলে অপুষ্টিজনিত রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়, খাদ্যের অপচয় রোধ হয় এবং স্বল্প খরচে পুষ্টিকর খাবার নির্বাচনের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম রোগীটি 'রাতকানা' রোগে আক্রান্ত। এ রোগের প্রধান কারণ হলো খাদ্যে ভিটামিন 'এ'-এর দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি।

    ভিটামিন 'এ' চোখের রেটিনার রড কোষের কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং স্বল্প আলোতে দেখতে সাহায্য করে এমন রঞ্জক (রোডোপসিন) তৈরিতে সাহায্য করে। খাদ্যে নিয়মিত ভিটামিন 'এ'-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ না করলে শরীরে এই ভিটামিনের অভাব দেখা দেয়। ফলে রোগীর চোখ মৃদু আলো বা অন্ধকারে মানিয়ে নিতে পারে না এবং রোগী রাতের বেলা দেখতে পায় না, যা রাতকানা রোগ নামে পরিচিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় রোগীটি রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) এবং তৃতীয় রোগীটি গলগণ্ড (গয়টার) রোগে আক্রান্ত। নিম্নে এদের প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয় বিষয়সমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:

    ২য় রোগীর ক্ষেত্রে (রক্তস্বল্পতা):
    ১. প্রতিকার: রোগীকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ও ফলিক এসিড বড়ি সেবন করাতে হবে। কৃমির সংক্রমণ থাকলে কৃমিনাশক ওষুধ দিতে হবে।
    ২. প্রতিরোধ: খাদ্যতালিকায় লৌহ বা আয়রনসমৃদ্ধ খাবার যেমন- লাল শাক, কচুশাক, কলিজা, মাংস, ডিমের কুসুম, বেদানা ইত্যাদি নিয়মিত রাখতে হবে। পাশাপাশি শরীরে আয়রন শোষণের সুবিধার্থে ভিটামিন 'সি' যুক্ত ফলমূল (যেমন- আমলকী, লেবু) খেতে হবে।

    ৩য় রোগীর ক্ষেত্রে (গলগণ্ড):
    ১. প্রতিকার: ডাক্তারের পরামর্শে থাইরয়েড হরমোন বা আয়োডিনযুক্ত ওষুধ সেবন করতে হবে। জটিল বা বড় আকার ধারণ করলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
    ২. প্রতিরোধ: গলগণ্ডের মূল কারণ আয়োডিনের অভাব। তাই রান্নায় নিয়মিত আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন- সামুদ্রিক মাছ, শ্যাওলা ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    সঠিক পুষ্টিজ্ঞান ও সচেতনতামূলক খাদ্যাভ্যাস অনুশীলনের মাধ্যমে এই দুটি রোগই প্রতিকার ও সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন