যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

তথ্য-১: গাজী সাহেব লক্ষ করলেন, প্রতিবছর রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় এবং রমজান শেষে কমে যায়।তথ্য-২: মি. চাকলাদার সপ্তাহে বিভিন্ন দিন ভিন্ন ভিন্ন খাবার খান। কিন্তু যেদিন তিনি মাংস খান সেদিন তার পেটের পীড়া হয়। এ থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, মাংস খাওয়াই তার পেটের পীড়ার কারণ।

  1. ক)

    পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি কয়টি ও কী কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যতিরেকী পদ্ধতির অপনয়নের সূত্র কোনটি?

    (2)
  3. গ)

    তথ্য-১ এ কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের কোন পদ্ধতিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তথ্য-২ এ কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের যে পদ্ধতির প্রতিফলন ঘটেছে তা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি ৫টি। যথা: ১. অন্বয়ী পদ্ধতি, ২. ব্যতিরেকী পদ্ধতি, ৩. যৌথ অন্বয়ী-ব্যতিরেকী পদ্ধতি, ৪. সহপরিবর্তন পদ্ধতি এবং ৫. পরিশেষ পদ্ধতি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যতিরেকী পদ্ধতির ভিত্তি হলো অপনয়নের দ্বিতীয় সূত্র। সূত্রটি হলো: 'যদি কোনো দৃষ্টান্তে আলোচ্য ঘটনাটি ঘটে এবং অপর একটি দৃষ্টান্তে তা না ঘটে, এবং এ দুটি দৃষ্টান্তে একটিমাত্র পূর্ববর্তী ঘটনা ছাড়া বাকি সব ঘটনা অভিন্ন থাকে, তবে যে ঘটনাটির দিক দিয়ে দৃষ্টান্ত দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, সেই ঘটনাটি আলোচ্য ঘটনার কার্য বা কারণ বা কারণের অপরিহার্য অংশ হবে।'

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তথ্য-১ এ কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ে 'সহপরিবর্তন পদ্ধতি'কে নির্দেশ করে।

    মিল-এর মতে, একটি ঘটনা যেভাবে পরিবর্তিত হয়, তার সাথে সাথে যদি অন্য একটি ঘটনাও কোনো বিশেষ নিয়মে পরিবর্তিত হয়, তবে সেই ঘটনাটি অপর ঘটনাটির কারণ বা কার্য অথবা কার্যকারণ সম্পর্কে আবদ্ধ।

    উদ্দীপকের তথ্য-১ এ দেখা যায়, রমজান মাসে পণ্যের চাহিদা বা সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে পণ্যের দাম বাড়ে এবং রমজান শেষ হওয়ার সাথে সাথে পণ্যের দাম কমে যায়। অর্থাৎ একটি ঘটনার হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে অন্য ঘটনার হ্রাস-বৃদ্ধি সমানুপাতিকভাবে সম্পর্কিত। এই ধরণের পরিবর্তনশীল দুটি ঘটনার মধ্যবর্তী কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ে সহপরিবর্তন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তথ্য-২ এ কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের 'অন্বয়ী পদ্ধতি'র (বা ব্যতিরেকী পদ্ধতির প্রাথমিক রূপের) প্রতিফলন ঘটেছে। এখানে মূলত বিভিন্ন দিনের খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে মাংস খাওয়ার সাধারণ সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে পেটের পীড়ার কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে, যা মূলত অন্বয়ী পদ্ধতির দৃষ্টান্ত নির্দেশ করে (যদিও এটি সদর্থক ও নঞর্থক দৃষ্টান্তের মাধ্যমে ব্যতিরেকী পদ্ধতির ইঙ্গিতও দেয়)।

    অন্বয়ী পদ্ধতির মূল কথা হলো—যদি অনুসন্ধানাধীন ঘটনার একাধিক দৃষ্টান্তের মধ্যে কেবল একটি সাধারণ বা সাধারণ সদৃশ ঘটনা থাকে, তবে সেই সাধারণ ঘটনাই আলোচ্য ঘটনার কারণ বা কার্য। মি. চাকলাদার মাংস খেলেই পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হন, যা একটি সাধারণ মিল।

    মূল্যায়ন:
    ১. অন্বয়ী পদ্ধতি মূলত নিরীক্ষণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এটি প্রকৃতিতে সহজলভ্য ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সহায়ক।
    ২. তবে এ পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন—এটি একটি সম্ভাবনাময় পদ্ধতি, নিশ্চিত প্রমাণ দেয় না। এখানে বহুকারণবাদের সম্ভাবনা এবং কার্য ও কারণের সহাবস্থান গুলিয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকে। মি. চাকলাদারের পেটের পীড়া মাংস ছাড়া অন্য কোনো লুকায়িত কারণেও হতে পারত।
    সুতরাং, তথ্য-২ এ কার্যকারণ নির্ণয়ে অন্বয়ী পদ্ধতির প্রয়োগ একটি সম্ভাব্য ও প্রাথমিক কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রদান করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন