অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
রুমানার বাড়ি রাজশাহীতে। তারা আট ভাইবোন। রুমানা এসএসসি পাস করার পর সংসারে অভাব-অনটনের কারণে ঢাকাতে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। সেখানে ৮০% এর ওপরে নারী শ্রমিক কাজ করে। তৈরি পোশাক খাত থেকে বর্তমানে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। তাই বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন গতিশীল।
- ক)(1)
শিল্প কী?
- খ)(2)
ফার্ম ও শিল্পের মৌলিক পার্থক্য কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কীরূপ ভূমিকা পালন করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই ধরনের বা সমজাতীয় দ্রব্য ও সেবা উৎপাদনে নিয়োজিত সকল ফার্ম বা উৎপাদন ইউনিটের সমষ্টিকে অর্থনীতিতে শিল্প (Industry) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফার্ম ও শিল্পের মৌলিক পার্থক্য হলো ফার্ম একটি একক উৎপাদন প্রতিষ্ঠান, আর শিল্প হলো একই ধরনের দ্রব্য উৎপাদনকারী একাধিক ফার্মের সমষ্টি।
ফার্ম একক পরিচালনা ও সিদ্ধান্তের অধীনে পরিচালিত হয় এবং নিজস্ব উৎপাদন নীতি নির্ধারণ করে। অন্যদিকে, শিল্পে একাধিক ফার্মের বাজার আচরণ এবং তাদের মোট যোগান ও সামগ্রিক বাজার ভারসাম্য আলোচিত হয়। অর্থাৎ ফার্ম হলো শিল্পের একটি ক্ষুদ্রতর অংশ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রুমানা অভাবের কারণে পোশাক কারখানায় চাকরি নেন, যেখানে ৮০% এর বেশি নারী শ্রমিক কর্মরত এবং এই খাত থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। বাস্তবেও বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে। এছাড়া এ শিল্পে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারী। এর ফলে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল ও সুদূরপ্রসারী, যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
প্রথমত, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা নিরবচ্ছিন্নভাবে বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব (গ্রিন) কারখানা স্থাপন এবং গুণগত মান উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ক্রেতাদের বিশ্বস্ত উৎস হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। দ্বিতীয়ত, সাধারণ বা মৌলিক পোশাক তৈরির পাশাপাশি উচ্চমূল্যের বৈচিত্র্যপূর্ণ পোশাক (value-added products) উৎপাদনে মনোযোগ দিলে রপ্তানি আয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি সম্ভব। তৃতীয়ত, চীন ও অন্যান্য দেশের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক অর্ডার বাংলাদেশের দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে।
তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দক্ষ শ্রমিকের অভাব দূরীকরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। সামগ্রিকভাবে, উপযুক্ত নীতি সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণ বজায় থাকলে তৈরি পোশাক শিল্প ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও