‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব মুনিরুজ্জামান এর ছোট একখণ্ড জমির পাশ দিয়ে হাইওয়ে তৈরি হওয়ায় তার জমির দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। এ সুযোগে তিনি উচ্চ দামে জমিটি বিক্রয় করে দূরবর্তী এলাকায় কম দামের জমি ক্রয় করে বসবাসের ব্যবস্থা করেন এবং বিভিন্ন ধরনের নয় একর জমি চাষাবাদের জন্য ভাড়া নেন। প্রথম তিন একর জমির মোট আয় ১২,০০০ টাকা, দ্বিতীয় তিন একর জমির মোট আয় ৮,০০০ টাকা এবং তৃতীয় তিন একর জমির মোট আয় ৬,০০০ টাকা । প্রত্যেক প্রকার জমিতে ফসল চাষের মোট ব্যয় ৬,০০০ টাকা ।

  1. ক)

    নিম খাজনা কী?

    (1)
  2. খ)

    খাজনা ও দামের সম্পর্ক লিখ ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জনাব মুনিরুজ্জামানের জমি বিক্রয়ের আয়কে কোন ধরনের আয় বলা যায় তা যুক্তিসহ লিখ ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে রিকার্ডোর খাজনা তত্ত্ব বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বল্পকালে মানুষের তৈরি মূলধনী দ্রব্যের জোগান সীমাবদ্ধ থাকার কারণে তার ব্যবহার থেকে যে অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত আয় অর্জিত হয়, তাকে নিম খাজনা বা উপ-খাজনা (Quasi-rent) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদ ডেভিড রিকার্ডোর মতে, দ্রব্যের দাম খাজনাকে নির্ধারণ করে, কিন্তু খাজনা দ্রব্যের দাম নির্ধারণ করে না। অর্থাৎ, দ্রব্যের দাম বেশি বলেই জমির ওপর খাজনা ধার্য হয়; খাজনা বেশি হওয়ার কারণে দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পায় না। তাই খাজনা উৎপাদনের ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি একটি উদ্বৃত্ত আয়। অন্যদিকে আধুনিক অর্থনীতিবিদদের মতে, উপযোগিতা ও সুযোগ ব্যয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে খাজনা দ্রব্যের উৎপাদন ব্যয়ের একটি অংশ এবং তা দামের উপরও প্রভাব বিস্তার করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব মুনিরুজ্জামানের জমি বিক্রয়ের আয় মূলত 'অবস্থানগত সুবিধাভিত্তিক খাজনা' বা অনুপার্জিত আয় (Unearned Increment)।

    রিকার্ডোর মতে, কেবল উর্বরতার পার্থক্যের জন্যই খাজনার সৃষ্টি হয় না, সুবিধাজনক অবস্থানের কারণেও খাজনা সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব মুনিরুজ্জামানের ছোট একখণ্ড জমির পাশ দিয়ে হাইওয়ে তৈরি হওয়ায় জমিটির গুরুত্ব ও উপযোগিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে তার নিজস্ব কোনো শ্রম বা মূলধন বিনিয়োগ ছাড়াই কেবল পরিবেশগত ও অবস্থানগত সুবিধাজনিত কারণে জমির দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

    সমাজের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে জমির মালিকের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা ব্যতীত জমির মূল্যের যে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে, অর্থনীতিতে তাকে অনুপার্জিত আয় বা অবস্থানজনিত অর্থনৈতিক উদ্বৃত্ত বলা হয়। সুতরাং, জমি বিক্রয়ের মাধ্যমে জনাব মুনিরুজ্জামানের প্রাপ্ত অতিরিক্ত আয়টি মূলত অবস্থানগত সুবিধা থেকে প্রাপ্ত উদ্বৃত্ত আয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত চাষাবাদের তথ্য রিকার্ডোর খাজনা তত্ত্বের সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটায়।

    ডেভিড রিকার্ডোর মতে, উর্বরতার পার্থক্যের কারণেই বিভিন্ন প্রকার জমির উৎপাদনের পার্থক্য হয় এবং প্রান্তিক বা খাজনাবিহীন জমির চেয়ে উৎকৃষ্ট জমি যে অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত উৎপাদন করে, তা-ই হলো খাজনা। যে জমিতে উৎপাদন ব্যয় ও মোট আয় সমান হয়, তাকে প্রান্তিক জমি বা খাজনাবিহীন জমি (No-rent land) বলা হয়।

    উদ্দীপকে জনাব মুনিরুজ্জামান মোট নয় একর জমিকে তিন ভাগে চাষাবাদ করেছেন, যেখানে প্রতি প্রকার জমিতে ব্যয় সমান (৬,০০০ টাকা):
    ১. প্রথম তিন একর (প্রথম শ্রেণির জমি): মোট আয় ১২,০০০ টাকা। খাজনা = মোট আয় - মোট ব্যয় = ১২,০০০ - ৬,০০০ = ৬,০০০ টাকা।
    ২. দ্বিতীয় তিন একর (দ্বিতীয় শ্রেণির জমি): মোট আয় ৮,০০০ টাকা। খাজনা = ৮,০০০ - ৬,০০০ = ২,০০০ টাকা।
    ৩. তৃতীয় তিন একর (তৃতীয় শ্রেণির জমি): মোট আয় ৬,০০০ টাকা। খাজনা = ৬,০০০ - ৬,০০০ = ০ টাকা।

    এখানে তৃতীয় শ্রেণির জমিতে আয় ও ব্যয় সমান হওয়ায় কোনো উদ্বৃত্ত থাকে না, তাই এটি রিকার্ডোর তত্ত্বের প্রান্তিক জমি বা খাজনাবিহীন জমি। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জমি তৃতীয় শ্রেণির চেয়ে বেশি উর্বর হওয়ায় যথাক্রমে ৬,০০০ টাকা ও ২,০০০ টাকা উদ্বৃত্ত বা অর্থনৈতিক খাজনা প্রদান করে। সুতরাং, উদ্দীপকের তথ্যটি রিকার্ডোর খাজনা তত্ত্বের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন