বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
নিয়ামত পিরভক্ত হলেও স্থানীয় মসজিদের ইমামের প্রভাবে পিরকে কাছে পায় না। মসজিদ কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়ামত ইমাম সাহেবের সান্নিধ্যে থাকতে পছন্দ করেন। নিয়ামত সম্পদশালী হলেও সন্তান না থাকায় কষ্ট অনুভব করেন। নিয়ামত সাহেবের স্ত্রী জাহানারা একদিন স্বামীকে বললেন কুড়িপাড়া পিরের কাছ থেকে পানি-পড়া আনতে। জাহানারার বিশ্বাস কুড়িপাড়া পিরের পানি পান করলে সে সন্তান লাভ করবে।
- ক)(1)
গারো পাহাড় মধুপুর গড় থেকে কয়দিনের পথ?
- খ)(2)
'তোমার দাড়ি কই মিঞা' কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের জাহানারার ঘটনার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের যে বিষয়ের সাদৃশ্য আছে তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের নিয়ামত 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর ছায়ামাত্র।" -মন্তব্যটি যাচাই কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গারো পাহাড় মধুপুর গড় থেকে তিন দিনের পথ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'তোমার দাড়ি কই মিঞা' কথাটি মজিদের কর্তৃত্ববাদী ধর্মীয় আধিপত্য ও অন্যের ওপর নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার মানসিকতাকে প্রকাশ করে।
মহব্বতনগর গ্রামে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে মজিদ মানুষের ধর্মীয় দুর্বলতাকে কাজে লাগায়। গ্রামের মাতব্বর খালেক ব্যাপারীর মধ্যস্থতায় যখন গ্রামের মানুষের সঙ্গে মজিদের পরিচয় ঘটে, তখন মজিদ হঠাৎ সাধারণ এক কৃষকের প্রতি এই প্রশ্নটি ছুঁড়ে দেয়। দাড়ি না থাকার জন্য তাকে প্রকাশ্যে তিরস্কার করে মজিদ গ্রামে এক ধরণের নৈতিক ও ধর্মীয় ভীতি সঞ্চার করে এবং নিজেকে খাঁটি ও একমাত্র বিধানদাতা হিসেবে জাহির করে সবার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জাহানারার ঘটনার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবির সন্তান লাভের জন্য অন্ধ বিশ্বাস ও পিরের কাছে আশা খোঁজার বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, খালেক ব্যাপারীর অনেক ধনসম্পদ থাকা সত্ত্বেও তার প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবির কোনো সন্তান ছিল না। সন্তান লাভের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় আমেনা বিবি সামাজিক সংস্কার ও কুসংস্কারের দ্বারস্থ হয়। সে খালেক ব্যাপারীর মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের আওয়ালপুরি পিরের কাছ থেকে 'পড়া-পানি' এনে খাওয়ার বন্দোবস্ত করার চেষ্টা করে, যা পরবর্তীতে তার জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, নিয়ামতের স্ত্রী জাহানারা নিঃসন্তান থাকার ব্যথায় কাতর হয়ে কুড়িপাড়া পিরের পানি-পড়া এনে দেওয়ার জন্য স্বামীকে অনুরোধ করে। কারণ তার বিশ্বাস ছিল এই পানি পান করলেই সে সন্তান লাভ করবে। সুতরাং, সন্তানহীনতার বেদনা থেকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে পিরের পানি-পড়ার ওপর বিশ্বাস স্থাপনের এই দিকটিতে জাহানারার সঙ্গে আমেনা বিবির ঘটনার গভীর সাদৃশ্য লক্ষণীয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের নিয়ামত 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর ছায়ামাত্র"—মন্তব্যটি আংশিক সত্য হলেও সম্পূর্ণরূপে যথাযথ নয়।
'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী মহব্বতনগর গ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী মাতব্বর ও ধনী ব্যক্তি। সে নিজে কোনো সাধারণ অন্ধভক্ত ছিল না; বরং নিজের সামাজিক কর্তৃত্ব বজায় রাখতে এবং গ্রামের মানুষের ওপর আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে মজিদের ধর্মব্যবসাকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল। অন্যদিকে আমেনা বিবি যখন আওয়ালপুরের পিরের পানি-পড়া আনতে চায়, তখন খালেক ব্যাপারী নিজের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয়ে এবং মজিদের প্ররোচনায় বহু বছরের স্ত্রীকে নির্মমভাবে তালাক দেয়। অর্থাৎ খালেক ছিল চতুর, স্বার্থান্বেষী এবং মজিদের স্বার্থের সাথে আঁতাতকারী চরিত্র।
উদ্দীপকের নিয়ামত ধনী এবং নিঃসন্তান—এদিক থেকে তার সাথে খালেক ব্যাপারীর মিল রয়েছে। কিন্তু নিয়ামত খালেক ব্যাপারীর মতো ধূর্ত বা চালক প্রকৃতির নয়। সে স্থানীয় ইমামের প্রভাবে পিরকে কাছে পায় না এবং মসজিদ কমিটির সদস্য হিসেবে ইমামের অনুগত হয়ে চলে। স্ত্রীর অনুরোধে সে পিরের প্রতি অনুরাগী মনোভাব পোষণ করলেও নিজে স্বতন্ত্র প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেনি। উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর মতো সমাজে শাসন জারি রাখা বা নিষ্ঠুর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার মতো চরিত্রবৈশিষ্ট্য নিয়ামতের মধ্যে অনুপস্থিত।
অতএব, কেবল সম্পদশালী হওয়া ও সন্তানহীনতার দিক থেকে কিছুটা মিল থাকায় নিয়ামতকে খালেক ব্যাপারীর একটি সীমিত 'ছায়া' মনে হলেও, প্রভাব, আধিপত্য ও চরিত্রের জটিলতার বিবেচনায় তাকে খালেক ব্যাপারীর পূর্ণ প্রতিচ্ছবি বা অন্ধ ছায়া বলা যায় না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও