জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

বিজ্ঞানীগণ হৃৎপিণ্ডের এবং ভ্রূণের গাঠনিক পরিবর্তন ব্যাখ্যা করে বলেন-'স্তন্যপায়ী প্রাণীরা অভিন্ন পূর্বপুরুষের বংশধর'।

  1. ক)

    অ্যালিল কি?

    (1)
  2. খ)

    ল্যামার্ক এর মতবাদ বিজ্ঞানী মহলে গ্রহণযোগ্য হয়নি কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্রেণির প্রাণীদের রক্ত সংবহন প্রক্রিয়া ছকের সাহায্যে দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি উদ্দীপকের উদ্ধৃতিটির সাথে একমত? বুঝিয়ে লিখ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থিত নির্দিষ্ট জিনের ভিন্ন ভিন্ন রূপকে একে অপরের অ্যালিল (allele) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ল্যামার্কের মতবাদের মূল ভিত্তি ছিল 'অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ' এবং 'ব্যবহার ও অব্যবহারের নীতি'। কিন্তু বিজ্ঞানী ভাইসম্যান ইঁদুরের লেজ কাটার বিখ্যাত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে দেহকোষের পরিবর্তন পরবর্তী বংশধরে সঞ্চারিত হয় না (অর্জিত বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় যায় না)। তাছাড়া মেন্ডেলের বংশগতিবিদ্যার সূত্র এবং আধুনিক জিনতত্ত্ব ল্যামার্কের অনুমানকে ভুল প্রমাণিত করায় ল্যামার্কের মতবাদ বিজ্ঞানী মহলে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের রক্ত সংবহন হলো 'দ্বি-সংবহন' (Double circulation), যা সিস্টেমিক এবং পালমোনারি—এই দুটি প্রধান চক্রে বিভক্ত। নিম্নে ছকের মাধ্যমে স্তন্যপায়ীর রক্ত সংবহন দেখানো হলো:

    [সিস্টেমিক চক্র]
    বাম নিলয় (O₂ সমৃদ্ধ রক্ত) ➔ সিস্টেমিক মহাধমনী ➔ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যু ➔ অগ্র ও পশ্চাৎ মহাশিরা (CO₂ সমৃদ্ধ রক্ত) ➔ ডান অলিন্দ

    [পালমোনারি চক্র]
    ডান নিলয় (CO₂ সমৃদ্ধ রক্ত) ➔ পালমোনারি ধমনী ➔ ফুসফুস (গ্যাস বিনিময়) ➔ পালমোনারি শিরা (O₂ সমৃদ্ধ রক্ত) ➔ বাম অলিন্দ

    সংক্ষেপে সমগ্র প্রবাহ:
    দেহের বিভিন্ন অঙ্গ (CO₂ সমৃদ্ধ রক্ত) ➔ ডান অলিন্দ ➔ ডান নিলয় ➔ ফুসফুস ➔ বাম অলিন্দ ➔ বাম নিলয় ➔ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ (O₂ সমৃদ্ধ রক্ত)।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি উদ্দীপকের "স্তন্যপায়ী প্রাণীরা অভিন্ন পূর্বপুরুষের বংশধর"—এই উদ্ধৃতিটির সাথে সম্পূর্ণ একমত। বিবর্তনীয় প্রমাণাদির মাধ্যমে এর যথার্থতা নিম্নে আলোচনা করা হলো:

    ১. হৃৎপিণ্ডের গাঠনিক পরিবর্তন: মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের গঠন পরীক্ষা করলে দেখা যায়, মাছের হৃৎপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, উভচরের তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, সরীসৃপের অসম্পূর্ণ চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং স্তন্যপায়ীর সম্পূর্ণ চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। এই ক্রমান্বয়ে জটিল গঠন প্রমাণ করে যে স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সরল গঠনযুক্ত সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকেই ক্রমান্বয়ে বিবর্তিত হয়েছে।

    ২. ভ্রূণতাত্ত্বিক প্রমাণ (Embryological evidence): বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল তাঁর 'রিবায়োজেনেসিস সূত্র' বা রিক্যাপিচুলেশন তত্ত্বে উল্লেখ করেন—"Ontogeny recapitulates phylogeny"। স্তন্যপায়ীসহ সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে গলবিলীয় ফুলকা ছিদ্র, পুচ্ছ, বহিঃস্থ খাঁজ এবং হৃৎপিণ্ডের নলাকার গঠন পরিলক্ষিত হয়। একটি স্তন্যপায়ী ভ্রূণ বিকাশের সময় তার পূর্বপুরুষদের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে।

    ৩. সমসংস্থ অঙ্গের সাদৃশ্য: স্তন্যপায়ী প্রাণীদের অগ্রপদ (মানুষের হাত, তিমির প্যাডেল, বাদুড়ের ডানা, চিতার অগ্রপদ) ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হলেও এদের অন্তঃকঙ্কালের অস্থির বিন্যাস (হিউমেরাস, রেডিয়াস, আলনা, কার্পাল, মেটাকার্পাল ও ফ্যালাঞ্জেস) এক ও অভিন্ন।

    উপর্যুক্ত হৃৎপিণ্ড, ভ্রূণ ও অঙ্গের গাঠনিক সাদৃশ্য এটাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে সকল স্তন্যপায়ী প্রাণী কোনো একটি অভিন্ন পূর্বপুরুষ থেকেই উৎপত্তি লাভ করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন