‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র 'ক' এর দুটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল 'প' ও 'ম' স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করছে। 'ম' দল এক সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের সম্প্রদায় অধ্যুষিত সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহ নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠনের প্রস্তাব করে।

  1. ক)

    ক্লীপস মিশনের সদস্য সংখ্যা কত?

    (1)
  2. খ)

    দ্বি-জাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'ম' দলের প্রস্তাব তোমার পাঠ্যবইয়ের যে প্রস্তাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তার বৈশিষ্ট্যগুলো লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত প্রস্তাবের মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল- তুমি কি এর সাথে একমত? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্রিপস মিশনের সদস্য সংখ্যা ছিল ৩ জন (যার নেতৃত্বে ছিলেন স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো ভারতের হিন্দু ও মুসলমান দুটি ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র জাতি—এই ধারণার ভিত্তিতে উপস্থাপিত একটি রাজনৈতিক মতবাদ। ১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এবং পরবর্তীতে ১৯৪০ সালের লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এ তত্ত্ব তুলে ধরেন। এ তত্ত্বে তিনি দাবি করেন যে ভারতে কেবল একটি জাতি বাস করে না; বরং ধর্ম, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনাচরণের পার্থক্যের কারণে হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক জাতি, যাদের আলাদা আবাসভূমি থাকা প্রয়োজন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'ম' দলের প্রস্তাবটি ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে এ. কে. ফজলুল হক এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

    লাহোর প্রস্তাবের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
    ১. ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে চিহ্নিত করে এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে যাতে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো সমন্বয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠিত হয়।
    ২. গঠিত রাষ্ট্রসমূহের অঙ্গরাজ্যগুলো হবে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।
    ৩. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য সংবিধানে সুস্পষ্ট ও কার্যকর সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত যে লাহোর প্রস্তাবের মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।

    ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের কথা সুস্পষ্টভাবে বহুবচনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এর অর্থ ছিল পূর্বাঞ্চলের বাংলা ও আসাম অঞ্চল নিয়ে একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালের দিল্লি কনভেনশনে জিন্নাহ চাতুর্যের সাথে 'States' শব্দের 's' বাদ দিয়ে একক 'State' অর্থাৎ পাকিস্তান সৃষ্টির সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন।

    পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনার শিকার হয়। ফলে বাঙালিরা উপলব্ধি করতে পারে যে তারা কার্যত উপনিবেশে পরিণত হয়েছে। তখন লাহোর প্রস্তাবের মূল স্পিরিট অর্থাৎ পূর্ব বাংলায় একটি স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ধারণাকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন জোরদার হতে থাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—এই প্রতিটি পর্যায়ের মূল চেতনা ছিল লাহোর প্রস্তাবে ব্যক্ত আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার।

    অতএব, লাহোর প্রস্তাবে যে অঞ্চলভিত্তিক সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন ছিল, তারই চূড়ান্ত রূপ হলো ১৯৭১ সালের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। তাই বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ সুপ্ত ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন