সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব গোপাল তার সম্পত্তির কিছু অংশ পাপমোচন, স্বর্গলাভ এবং দেবতার সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করেন। অন্যদিকে তার প্রতিবেশী সুমন তার সম্পদের কিছু অংশ জনহিতকর কাজে, আত্মীয়-স্বজনের কল্যাণে এবং সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করেন।
- ক)(1)
যাকাত প্রদানের খাত কয়টি?
- খ)(2)
সামাজিক উন্নয়ন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সুমনের কর্মকান্ড কোন ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিকৃত গোপাল ও সুমনের কর্মকাণ্ড জনকল্যাণে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে? আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াত অনুযায়ী যাকাত প্রদানের খাত হলো ৮টি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক উন্নয়ন বলতে সমাজের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, ইতিবাচক কাঠামোগত রূপান্তর এবং সামগ্রিক কল্যাণকে বোঝায়। এটি এমন একটি ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজের অসমতা, দারিদ্র্য ও অনগ্রসরতা দূর করে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আর্থ-সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সুমনের কর্মকাণ্ড ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান 'ওয়াকফ'-কে ইঙ্গিত করছে।
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় কোনো মুসলিম ব্যক্তি কর্তৃক নিজের বৈধ সম্পত্তি স্থায়ীভাবে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ধর্মীয়, পারিবারিক বা জনহিতকর কোনো কাজে উৎসর্গ করাকে ওয়াকফ বলে। ওয়াকফ মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে—ওয়াকফ-ফি-সাবিলিল্লাহ (সম্পূর্ণ জনকল্যাণে), ওয়াকফ-আল-আওলাদ (সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনের কল্যাণে) এবং ওয়াকফ-আলল্লাহ (সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে)।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমন তার সম্পত্তির কিছু অংশ জনহিতকর কাজ, আত্মীয়-স্বজনের কল্যাণ এবং সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন। ইসলামি সমাজকল্যাণ কাঠামোর ওয়াকফ ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের সাথে সুমনের এ কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং, সুমনের এ কর্মকাণ্ড ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান 'ওয়াকফ'-কেই প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত গোপালের কর্মকাণ্ড মূলত হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যগত প্রতিষ্ঠান 'দেবত্র' এবং সুমনের কর্মকাণ্ড ইসলামি প্রতিষ্ঠান 'ওয়াকফ'-এর প্রতিনিধিত্ব করে। এ উভয় প্রতিষ্ঠানই জনকল্যাণে এবং সমাজের স্থায়ী উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দেবত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎসর্গীকৃত সম্পত্তির আয় দিয়ে মন্দির পরিচালনা, দরিদ্রদের মাঝে অন্নদান, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বিধবা-অসহায়দের আশ্রয় প্রদান করা হয়। এটি ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত মানুষের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, ওয়াকফ ব্যবস্থার মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পদ দিয়ে মসজিদ, এতিমখানা, বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, সরাইখানা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এছাড়া ওয়াকফের অর্থ দরিদ্র ও দুঃস্থদের আর্থিক পুনর্বাসন ও জরুরি ত্রাণকাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, জনাব গোপাল ও সুমনের মতো দানশীল ব্যক্তিদের দেবত্র ও ওয়াকফকৃত সম্পদ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও