‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

জাতীয় আয় (Y) = 1C + 11 + 1G ; যেখানে C = ভোগ ব্যয়, I বিনিয়োগ ব্যয়, G = সরকারি ব্যয়

  1. ক)

    মোট জাতীয় আয় কী?

    (1)
  2. খ)

    নিট জাতীয় আয় তুমি কীভাবে পরিমাপ করবে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটি জাতীয় আয় পরিমাপের কোন পদ্ধতি নির্দেশ করে? কেন?

    (3)
  4. ঘ)

    জাতীয় আয় পরিমাপের এ পদ্ধতি উন্নয়নশীল দেশে কার্যকর কিনা মতামত দাও ৷

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে একটি দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে উৎপাদিত চূড়ান্ত পর্যায়ের সকল দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় (GNI) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মোট জাতীয় আয় (GNI) থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত ক্ষয়ক্ষতি বা অবচয় ব্যয় (Depreciation Cost বা Capital Consumption Allowance - CCA) বাদ দিলে নিট জাতীয় আয় (Net National Income - NNI) পাওয়া যায়। গাণিতিকভাবে:
    NNI = GNI - CCA
    উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মূলধনী সামগ্রীর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা মোট জাতীয় আয় থেকে বিয়োগ করে প্রকৃত নিট জাতীয় আয় পরিমাপ করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সূত্রটি জাতীয় আয় পরিমাপের 'ব্যয় পদ্ধতি' (Expenditure Method)-কে নির্দেশ করে।

    কারণ, ব্যয় পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) সমাজের সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারের বিভিন্ন খাতে কৃত চূড়ান্ত ব্যয়ের সমষ্টি নির্ণয় করে জাতীয় আয় পরিমাপ করা হয়। উদ্দীপকে জাতীয় আয়ের সমীকরণ দেওয়া হয়েছে: Y = C + I + G (এখানে 1C + 1I + 1G মূলত সামগ্রিক ব্যয়ের সমষ্টিকে নির্দেশ করছে)। এখানে C হলো ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় (Consumption expenditure), I হলো মোট বিনিয়োগ ব্যয় (Investment expenditure) এবং G হলো সরকারি ব্যয় (Government expenditure)। এই তিনটি ব্যয়ের উপাদানের যোগফলের মাধ্যমে জাতীয় আয় নির্ধারিত হওয়ায় এটি সুস্পষ্টভাবেই ব্যয় পদ্ধতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয় আয় পরিমাপের ব্যয় পদ্ধতি উন্নয়নশীল দেশসমূহে খুব একটা কার্যকর নয়; নিচে এর সপক্ষে মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:

    উন্নয়নশীল দেশসমূহে (যেমন—বাংলাদেশ) ব্যয় পদ্ধতির প্রয়োগে বেশ কিছু জটিলতা ও সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়:
    ১. তথ্যের অপ্রতুলতা ও নির্ভুলতার অভাব: উন্নয়নশীল দেশের অধিকাংশ মানুষ তাঁদের ব্যক্তিগত ভোগ বা দৈনন্দিন ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব সংরক্ষণ করেন না। ফলে নির্ভরযোগ্য ব্যয়ের তথ্য পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।
    ২. স্বয়ম্ভোগ বা অনার্থিক লেনদেন: এসব দেশে গ্রামীণ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতিতে উৎপাদিত দ্রব্যের একটি বড় অংশ উৎপাদক নিজেই ভোগ করেন যা বাজারে আসে না এবং অর্থের মাধ্যমে পরিমাপ হয় না।
    ৩. শিক্ষার অভাব ও অসচেতনতা: জনগণের নিরক্ষরতা ও অসচেতনতার কারণে ব্যয়ের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।
    ৪. দ্বৈত গণনার আশঙ্কা: চূড়ান্ত ব্যয় ও মধ্যবর্তী ব্যয়ের পার্থক্য সঠিকভাবে নিরূপণ করতে না পারায় দ্বৈত গণনার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    সুতরাং, তাত্ত্বিকভাবে ব্যয় পদ্ধতিটি চমৎকার হলেও বাস্তব প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, তথ্যের অভাব ও বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক খাতের উপস্থিতির কারণে উন্নয়নশীল দেশসমূহে এ পদ্ধতি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা অত্যন্ত দুরূহ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন