জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

সপুষ্পক উদ্ভিদের দেহকোষ ও জনন মাতৃকোষের বিভাজন প্রক্রিয়া ভিন্নতর।

  1. ক)

    কোষচক্র কী?

    (1)
  2. খ)

    ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়া বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম প্রকার কোষ বিভাজনের প্রথম চারটি ধাপের চিহ্নিত চিত্র অংকন করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে। যে দু'ধরনের কোষ বিভাজনের কথা বলা হয়েছে তাতে কোনো পার্থক্য আছে কি? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি কোষের সৃষ্টি, এর বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিভাজন— এই তিনটি কাজের চক্রাকার ধারাবাহিক আবর্তনকে কোষচক্র (Cell cycle) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে জটিল জৈব সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA)-এর নির্দিষ্ট নিউক্লিওটাইড সংকেত (কোডন) অনুযায়ী রাইবোসোমে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো পেপটাইড বন্ধন দ্বারা যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড বা প্রোটিন অণু তৈরি করে, তাকে ট্রান্সলেশন বলে। এ প্রক্রিয়ায় mRNA, tRNA, রাইবোসোম এবং বিভিন্ন এনজাইম সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম প্রকার কোষ বিভাজনটি হলো দেহকোষে সংঘটিত মাইটোসিস বিভাজন। ক্যারিওকাইনেসিসের প্রথম চারটি ধাপ হলো: প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ এবং অ্যানাফেজ।

    ১. প্রোফেজ (Prophase): এ ধাপে জলবিয়োজনের ফলে ক্রোমোজোমগুলো ক্রমান্বয়ে সংকুচিত, খাটো ও স্পষ্ট হতে থাকে এবং প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বি দুটি ক্রোমাটিডে বিভক্ত হয় (সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত)।
    [চিহ্নিত চিত্র: নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, নিউক্লিওলাস, স্পষ্ট ও মোটা ক্রোমোজোম/ক্রোমাটিড, সেন্ট্রোমিয়ার]

    ২. প্রো-মেটাফেজ (Prometaphase): এ ধাপে স্পিন্ডল যন্ত্রের আবির্ভাব ঘটে, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি ঘটতে থাকে এবং ট্র্যাকশন ফাইবারের সাথে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার যুক্ত হয়।
    [চিহ্নিত চিত্র: লুপ্তপ্রায় নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস, স্পিন্ডল যন্ত্র, অ্যাস্টার রে, ক্রোমোজোমাল তন্তু]

    ৩. মেটাফেজ (Metaphase): ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান নেয় (মেটাকাইনেসিস) এবং সর্বাধিক খাটো, মোটা ও স্পষ্ট দেখায়।
    [চিহ্নিত চিত্র: স্পিন্ডল তন্তু, বিষুবীয় অঞ্চলে সজ্জিত ক্রোমোজোম, সেন্ট্রোমিয়ার]

    ৪. অ্যানাফেজ (Anaphase): সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে প্রতিটি ক্রোমাটিড অপত্য ক্রোমোজোমে পরিণত হয় এবং তারা মেরুমুখী চলন শুরু করে (V, L, J, I আকৃতি ধারণ করে)।
    [চিহ্নিত চিত্র: দুই বিপরীত মেরুর দিকে ধাবমান অপত্য ক্রোমোজোম, মেরু]।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দেহকোষের বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস এবং জনন মাতৃকোষের বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মায়োসিস। এদের মধ্যে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে, নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সংগঠনের স্থান: মাইটোসিস প্রধানত জীবের দেহকোষে ঘটে; অন্যদিকে মায়োসিস জীবের জনন মাতৃকোষে (গ্যামেট সৃষ্টির সময়) ঘটে।
    ২. বিভাজনের সংখ্যা: মাইটোসিসে নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়; কিন্তু মায়োসিসে নিউক্লিয়াস দুবার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়।
    ৩. অপত্য কোষের সংখ্যা: মাইটোসিসে একটি মাতৃকোষ থেকে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়; মায়োসিসে একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।
    ৪. ক্রোমোজোম সংখ্যা: মাইটোসিসে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান (2n → 2n) থাকে; মায়োসিসে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক (2n → n) হয়ে যায়।
    ৫. ক্রসিং ওভার ও প্রকরণ: মাইটোসিসে হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের মধ্যে সাইন্যাপসিস বা ক্রসিং ওভার ঘটে না, ফলে কোনো জিনগত প্রকরণ তৈরি হয় না; মায়োসিসের প্রোফেজ-১-এ সাইন্যাপসিস, কায়াজমা ও ক্রসিং ওভার ঘটে, যার ফলে জিনের বিনিময় ঘটে ও নতুন বৈশিষ্ট্যের (প্রকরণ) সৃষ্টি হয়।
    ৬. ভূমিকা: মাইটোসিস জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ও ক্ষতপূরণ সম্পন্ন করে; মায়োসিস প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখে এবং বংশগতির বৈচিত্র্য তৈরি করে।

    সুতরাং, উদ্দীপকের কোষ বিভাজন দুটির মধ্যে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন