ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব নাদিম তার জীবনের জন্য একটি বিমা কোম্পানির সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি বিমাপত্র সংগ্রহ করেন। তিনি একটি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত। কিন্তু তিনি বিষয়টি বিমা করার সময় গোপন রাখেন। ৬ মাস পর তিনি মারা যান। মনোনীত ব্যক্তি বিমা কোম্পানির কাছে বিষয়টি জানান। কোম্পানিটি রোগের তথ্য গোপনের বিষয়টি জানতে পেরে বিমা দাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়।
- ক)(1)
বিমাচুক্তি কী?
- খ)(2)
আর্থিক ক্ষতিপূরণের নীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
বিমার কোন নীতির কারণে বিমা কোম্পানি দাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বিমা কোম্পানির সিদ্ধান্তটি কি যৌক্তিক হয়েছে বলে মনে করো? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমাচুক্তি হলো বিমাগ্রহীতা ও বিমাকারীর মধ্যে সম্পাদিত এমন একটি আইনগত চুক্তি, যেখানে নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বিমাকারী বিমাগ্রহীতার সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের বা নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে বা মৃত্যুতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আর্থিক ক্ষতিপূরণের নীতি বলতে বোঝায় যে, বিমাচুক্তির মাধ্যমে বিমাগ্রহীতাকে তার সংঘটিত প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির অতিরিক্ত কোনো অর্থ লাভ করতে দেওয়া হবে না, বরং ক্ষতির পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
ক্ষতিপূরণের নীতি সম্পত্তি বিমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও জীবনবিমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো বিমাগ্রহীতাকে দুর্ঘটনা বা ক্ষতি থেকে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ না দেওয়া, যাতে ইচ্ছাকৃত ক্ষতির প্রবণতা রোধ করা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমার 'পরম সদ্বিশ্বাসের নীতি' (Doctrine of Utmost Good Faith)-র কারণে বিমা কোম্পানি দাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়।
পরম সদ্বিশ্বাসের নীতি অনুযায়ী, বিমাচুক্তি সম্পাদনের সময় বিমাগ্রহীতা এবং বিমাকারী উভয় পক্ষকেই বিমাকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সকল বস্তুগত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সততার সাথে একে অপরের কাছে প্রকাশ করতে হয়। কোনো পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা মিথ্যা উপস্থাপন করলে চুক্তিটি বাতিলযোগ্য হয়।
উদ্দীপকে জনাব নাদিম একটি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও বিমাপত্র গ্রহণের সময় তা বিমা কোম্পানির নিকট গোপন রাখেন এবং মাত্র ৬ মাস পর মারা যান। তিনি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক অসুস্থতার তথ্য প্রকাশ না করে পরম সদ্বিশ্বাসের নীতি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। এ কারণেই বিমা কোম্পানি বিমাদাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বিমা কোম্পানির বিমাদাবি পরিশোধ না করার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং আইনসম্মত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
বিমাচুক্তির অন্যতম প্রধান মৌলিক নীতি হলো পরম সদ্বিশ্বাসের নীতি। বিমা আইন অনুযায়ী, বিমাগ্রহীতা তার স্বাস্থ্য, অতীত রোগব্যাধি এবং জীবনঝুঁকি সংক্রান্ত সকল সত্য ও বস্তুগত তথ্য বিমা কোম্পানির নিকট সঠিকভাবে প্রকাশ করতে বাধ্য। কারণ বিমাকারী এই তথ্যাবলির ওপর ভিত্তি করেই ঝুঁকি পরিমাপ করে এবং প্রিমিয়ামের হার নির্ধারণ করে থাকে।
উদ্দীপকে জনাব নাদিম পূর্ব থেকেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন, যা জীবনবিমার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তিনি জেনেশুনে বিমাচুক্তির সময় এটি গোপন রেখেছিলেন এবং চুক্তি সম্পাদনের মাত্র ৬ মাসের মাথায় মৃত্যুবরণ করেন। তথ্যের এই অসদুপায় ও গোপনীয়তা বিমাচুক্তিকে শুরু থেকেই বাতিলযোগ্য (Voidable) করে তোলে।
অতএব, পরম সদ্বিশ্বাসের নীতি লঙ্ঘিত হওয়ায় এবং অসদুপায় অবলম্বনের কারণে বিমা কোম্পানির দায়মুক্তি ঘটেছে। সুতরাং, তাদের বিমাদাবি নাকচ করার সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি ন্যায়সংগত ও আইনানুগ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও