উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব সুমন একজন ব্যবসায়ী। তার ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সংগতি না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ব্যবসায়িক সফলতার জন্য বর্তমানে তার আর্থিক সামর্থ্য হয়েছে। তাই তিনি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিলেন। সম্প্রতি জনাব সুমন দেখলেন যে, ‘ওয়ানচু’ কোম্পানি তাদের গাড়ির জন্য ব্যাপকভাবে বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার কাজ করছে।

  1. ক)

    প্রয়োজন কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘বিপণন একটি গতিশীল প্রক্রিয়া’ ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    জনাব সুমনের গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত বিপণনের কোন মৌলিক ধারণাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ওয়ানচু কোম্পানির নেওয়া কাজ সম্পর্কে বিপণনের ক্রমবিকাশ উল্লেখপূর্বক তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষ যখন কোনো কিছু থেকে নিজেকে বঞ্চিত মনে করে, তখন তার মধ্যে যে অসন্তুষ্টি বা অনুভূতির সৃষ্টি হয় তাকে প্রয়োজন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিপণন একটি গতিশীল প্রক্রিয়া, কারণ এটি পরিবর্তনশীল ব্যবসায় পরিবেশ, ক্রেতার রুচি, পছন্দ এবং প্রযুক্তির সাথে সবসময় নিজেকে খাপ খাইয়ে চলে।

    বাজারের প্রতিযোগিতা, ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদার ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্য উন্নয়ন, মূল্য নির্ধারণ, বণ্টন প্রণালি এবং প্রসারের কৌশলে ধারাবাহিক পরিবর্তন আনতে হয়। তাই বিপণন কোনো স্থির বা অপরিবর্তনীয় কাজ নয়; এটি স্থান, কাল ও পরিস্থিতির সাথে ক্রমাগত পরিবর্তিত হয় বলেই একে গতিশীল প্রক্রিয়া বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব সুমনের গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত বিপণনের ‘চাহিদা’ (Demand) নামক মৌলিক ধারণাকে নির্দেশ করে।

    বিপণনে কোনো পণ্য পাওয়ার ইচ্ছাকে তখনই চাহিদা বলা হয়, যখন তিনটি শর্ত পূরণ হয়— ১. পণ্য পাওয়ার ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা, ২. পণ্যটি ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্য, এবং ৩. অর্থ ব্যয় করার ইচ্ছা বা সম্মতি। শুধু ইচ্ছা থাকলে তাকে অভাব বলা হয়, কিন্তু অর্থ এবং অর্থ ব্যয়ের সম্মতি যুক্ত হলেই তা চাহিদায় রূপ নেয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব সুমনের আগে থেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তা অভাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক সফলতার ফলে তার গাড়ি কেনার আর্থিক সংগতি বা সামর্থ্য তৈরি হয় এবং তিনি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অর্থাৎ, এখানে ইচ্ছা, আর্থিক সামর্থ্য এবং অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত—এই তিনটি উপাদানেরই সমন্বয় ঘটেছে। সুতরাং, এটি বিপণনের ‘চাহিদা’ ধারণাকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘ওয়ানচু’ কোম্পানির নেওয়া বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার কাজটি বিপণন ক্রমবিকাশের ‘বিক্রয় যুগ’ (Selling Era)-এর ধ্যান-ধারণাকে প্রতিফলিত করে।

    বিপণনের ক্রমবিকাশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আত্মনির্ভরশীলতার যুগ, বিনিময় যুগ, উৎপাদন যুগ, বিক্রয় যুগ, বিপণন যুগ, সামাজিক বিপণন যুগ ও সম্পর্কভিত্তিক বিপণন যুগ পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে ১৯৩০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত সময়কে বিক্রয় যুগ বলা হয়। বিক্রয় যুগের মূল দর্শন ছিল—ব্যাপক বিক্রয় প্রসারমূলক কার্যক্রম ও জোরপূর্বক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের পণ্য ক্রয়ে প্ররোচিত ও আকৃষ্ট করা। এ যুগে মনে করা হতো যে, কোনো পণ্য এমনি এমনি বিক্রি হবে না; একে বিক্রি করতে হলে প্রচুর প্রচার ও বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন।

    উদ্দীপকে লক্ষ্য করা যায়, ‘ওয়ানচু’ কোম্পানি তাদের গাড়ি বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যাপকভাবে বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার উদ্যোগ নিয়েছে। কোম্পানিটি ধরে নিয়েছে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে বিক্রি বাড়ানো সম্ভব। আধুনিক বিপণন যুগে ক্রেতার প্রয়োজন ও সন্তুষ্টিকে কেন্দ্র করে সব কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ওয়ানচু কোম্পানির বর্তমান জোর কেবল বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার ওপরই নিবদ্ধ, যা মূলত বিক্রয় যুগের বৈশিষ্ট্য।

    অতএব, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা চালিয়ে বিক্রয় বাড়ানোর যে পদক্ষেপ ‘ওয়ানচু’ কোম্পানি গ্রহণ করেছে, তা বিপণনের ক্রমবিকাশের ইতিহাস অনুযায়ী বিক্রয় যুগের ধ্যান-ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য তাদের আধুনিক বিপণন ও ক্রেতা সন্তুষ্টির ধারণায় মনোনিবেশ করা উচিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন