‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ফয়জুর রহমান ও মোরশেদ জামান ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের দু'জন জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। ফয়জুর রহমানকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলে অভিহিত করা হয়। আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও উন্নত বাচনভঙ্গির অধিকারী ফয়জুর রহমান মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীও ছিলেন। অন্যদিকে, কৃষকদরদি নেতা মোরশেদ জামান ব্রিটিশ ভারতের উপেক্ষিত মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার্থে পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করেন। এ প্রস্তাবের ভিত্তিতে পরবর্তীতে মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠন করা হয়।

  1. ক)

    ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসংখ্যা কত?

    (1)
  2. খ)

    স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কাকে বলে?

    (2)
  3. গ)

    ফয়জুর রহমানের সাথে তোমার বইয়ের কোন নেতার মিল রয়েছে? তাঁর রাজনৈতিক অবদান ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকের ঐতিহাসিক প্রস্তাবের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বীজ নিহিত ছিল? যুক্তিসহ লেখ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইউনিয়ন পরিষদের মোট সদস্যসংখ্যা ১৩ জন (১ জন চেয়ারম্যান, ৯ জন সাধারণ সদস্য এবং ৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে এমন এক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে নির্দিষ্ট স্থানীয় এলাকার জনগণ কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা স্থানীয় আইন ও নীতিমালার আলোকে ওই এলাকার সার্বিক শাসনকাজ, উন্নয়ন ও সেবা পরিচালিত হয়। এতে স্থানীয় সংস্থাগুলো আইনগতভাবে নিজস্ব কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা ভোগ করে এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ফয়জুর রহমানের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের প্রখ্যাত নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মিল রয়েছে।

    হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক অবদান অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল:
    ১. গণতন্ত্রের মানসপুত্র: আজীবন গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য সংগ্রাম করায় তাঁকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়।
    ২. অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও নেতৃত্ব: তিনি ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ব্রিটিশ ভারতে মুসলিম লীগের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক ছিলেন।
    ৩. আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা: পাকিস্তান সৃষ্টির পর তিনি মুসলিম লীগের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মাওলানা ভাসানী ও শামসুল হকের সাথে মিলে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখেন।
    ৪. যুক্তফ্রন্ট গঠনে ভূমিকা: ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাভূত করতে তিনি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও মওলানা ভাসানীর সাথে যৌথভাবে ঐতিহাসিক 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
    ৫. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী: তিনি ১৯৫৬-৫৭ মেয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক অধিকার ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে উল্লিখিত ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বীজ নিহিত ছিল। নিম্নে এর স্বপক্ষে যুক্তি প্রদান করা হলো:

    উদ্দীপকে মোরশেদ জামান কর্তৃক পেশকৃত প্রস্তাবটি হলো ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'। লাহোর প্রস্তাবের মূল মূলনীতি ছিল—ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে একাধিক 'স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠিত হবে এবং এই রাষ্ট্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।

    লাহোর প্রস্তাবের তাৎপর্য ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়:
    ১. স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের স্পষ্ট রূপরেখা: লাহোর প্রস্তাবে 'States' বহুবচন ব্যবহার করে তৎকালীন পূর্ব বাংলাকে একটি স্বতন্ত্র সার্বভৌম রাষ্ট্র করার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।
    ২. পরবর্তীকালে ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তি: ১৯৪৬ সালে দিল্লির মুসলিম লীগ কনভেনশনে জিন্নাহ চক্রান্ত করে 'States'-এর স্থলে 'State' শব্দটি বসিয়ে একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের রূপরেখা তৈরি করেন, যা লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনার পরিপন্থী ছিল।
    ৩. পূর্ব বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন: পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ চালাতে থাকে। বাঙালি নেতৃত্ব তখন স্মরণ করিয়ে দেন যে, লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনা ছিল একটি পৃথক ও স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
    ৪. ছয় দফা ও স্বাধীনতা সংগ্রাম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতেই বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' দাবি পেশ করেন।

    পরিশেষে বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবে পূর্ব বাংলার স্বাতন্ত্র্য ও সার্বভৌমত্বের যে সাংবিধানিক অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছিল, তা-ই কালক্রমে ১৯৭১ সালে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। তাই এই প্রস্তাবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বীজ নিহিত ছিল—বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন