অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

'A' দেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সরকার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করছে। অন্যদিকে, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এর ফলে দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমতাবস্থায় সরকার নিম্ন আয়ের লোকদের খাদ্যদ্রব্য প্রাপ্তি সহজ করতে সারা দেশে খোলা বাজারে সুলভমূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রয় শুরু করে।

  1. ক)

    ভোক্তার মূল্যসূচক বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    মুদ্রাস্ফীতি হলে ঋণ গ্রহীতারা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে 'A' দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি সহায়ক কোন কোন কারণ বিদ্যমান আছে?- সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দেশে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসে কতটা সহায়ক বলে তুমি মনে কর?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কোনো ভোক্তা বা শ্রেণি কর্তৃক ব্যবহৃত একগুচ্ছ নির্ধারিত ভোগ্যপণ্য ও সেবার মূল্যের পরিবর্তনের হার যে সূচকের সাহায্যে পরিমাপ করা হয়, তাকে ভোক্তার মূল্যসূচক (Consumer Price Index বা CPI) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণভাবে মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ঋণদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং ঋণগ্রহীতারা লাভবান হন। তবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সুদের হার বৃদ্ধি করে (নমনীয় বা পরিবর্তনশীল সুদের হারে গৃহীত ঋণের ক্ষেত্রে), তখন ঋণগ্রহীতাকে আগের চেয়ে বেশি পরিমাণ সুদ পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া সাধারণ নিম্ন বা স্থির আয়ের ঋণগ্রহীতাদের জীবনযাত্রার ব্যয় অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় তাদের ঋণ পরিশোধের আসল সামর্থ্য কমে গিয়ে তারা আর্থিক সংকটে পতিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে 'A' দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি সহায়ক দুটি সুনির্দিষ্ট কারণ বিদ্যমান রয়েছে:

    ১. সরকারি ঋণের বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব ব্যয়: সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করছে। এ ধরণের অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণ গ্রহণ ও ব্যয় বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থের জোগান ঘটে, যা সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি করে 'চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি' সৃষ্টি করে।

    ২. মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি: দেশের একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ হ্রাস পায় এবং সামগ্রিক জোগান কমে যাওয়ার ফলে পণ্যের মূল্যস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা 'ব্যয়-বৃদ্ধিজনিত বা জোগানজনিত মুদ্রাস্ফীতি' হিসেবে কাজ করছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'A' দেশের সরকার খোলা বাজারে সুলভমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রয়ের (OMS) যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসে আংশিক ও স্বল্পমেয়াদে সহায়ক হলেও সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি স্থায়ীভাবে দূরীকরণে যথেষ্ট নয়। নিচে এর কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি ও সরবরাহ বৃদ্ধি: সরকার খোলা বাজারে কম দামে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করায় বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়ে, যা অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম মজুত ভেঙে ফেলে বাজারমূল্য কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হয়। এতে নিম্ন আয়ের দরিদ্র জনগণ সরাসরি উপকৃত হয়।

    ২. সীমাবদ্ধতা: ওএমএস বা খোলা বাজারে বিক্রি একটি বিতরণমূলক বা আপৎকালীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মাত্র। দেশের সার্বিক মুদ্রাস্ফীতি তৈরি হয়েছে অভ্যন্তরীণ ঋণগ্রহণ বৃদ্ধির ফলে অর্থ সরবরাহের আধিক্য এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে। ফলে অর্থ সরবরাহের লাগাম না টেনে শুধু সুলভমূল্যে বিক্রয় করে দেশের সামগ্রিক বা দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রাস্ফীতি কমানো যায় না।

    ৩. স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন: সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি কার্যকরভাবে হ্রাস করতে হলে সরকারকে অতিরিক্ত ঋণের ব্যবহার কমিয়ে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ করা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বাজার তদারকি পরিচালনা করতে হবে।

    সুতরাং, সরকারের এই পদক্ষেপটি নিম্নবিত্তের দুর্ভোগ লাঘবে অত্যন্ত কার্যকর হলেও সামগ্রিক অর্থনীতির মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসে এটি কেবল একটি সহায়ক ও আংশিক কৌশল হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন