‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৬

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

নিম্নে X ও Y নামক দুটি পণ্যের দামের সাথে চাহিদার পরিমাণের সম্পর্ক ছকের সাহায্যে দেখানো হলোঃ

X দ্রব্যের দাম ( টাকায়) | X দ্রব্যের চাহিদার পরিমাণ ( একক) | Y দ্রব্যের দাম ( টাকায় ) | Y দ্রব্যের চাহিদার পরিমাণ ( একক)
১০ | ১০০ | ১০ | ১০০
৯ | ১২০ | ৯ | ১০৫

  1. ক)

    উপযোগ বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    ভোগের ক্ষেত্রে প্রান্তিক উপযোগ রেখা নিম্নগামী হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সূচি থেকে X দ্রব্যের চাহিদা রেখা অংকন করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক অনুযায়ী চাহিদার স্থিতিস্থাপকতার ভিত্তিতে X ও Y দ্রব্যের মধ্যে তুলনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণভাবে উপযোগ বলতে কোনো দ্রব্যের মানুষের অভাব মোচনের ক্ষমতাকে বোঝায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধির কারণে ভোগের ক্ষেত্রে প্রান্তিক উপযোগ রেখা নিম্নগামী হয়। ভোক্তা যখন নির্দিষ্ট সময়ে কোনো একটি দ্রব্যের অতিরিক্ত একক একের পর এক ভোগ করতে থাকে, তখন সেই দ্রব্যের প্রতি তার তীব্রতা বা আকাঙ্ক্ষা ক্রমশ হ্রাস পায়। ফলে অতিরিক্ত বা প্রান্তিক একক থেকে প্রাপ্ত উপযোগ ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রান্তিক উপযোগের এই হ্রাসের প্রবণতার কারণেই প্রান্তিক উপযোগ রেখা বাম থেকে ডানে নিম্নগামী হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী X দ্রব্যের চাহিদা রেখা অঙ্কন ও ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:

    সূচিতে দেখা যায়, X দ্রব্যের দাম যখন ১০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ১০০ একক। দাম কমে ৯ টাকা হলে চাহিদার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ১২০ একক হয়।

    অঙ্কন পদ্ধতি:
    চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX) X দ্রব্যের চাহিদার পরিমাণ (একক) এবং লম্ব অক্ষে (OY) X দ্রব্যের দাম (টাকা) নির্দেশ করা হলো।

    • দাম ১০ টাকা হলে চাহিদার পরিমাণ ১০০ একক; এই দুইয়ের ছেদবিন্দু 'a'।
    • দাম কমে ৯ টাকা হলে চাহিদার পরিমাণ বেড়ে ১২০ একক হয়; এই দুইয়ের ছেদবিন্দু 'b'।

    এখন 'a' ও 'b' বিন্দু দুটি যোগ করে ডানদিকে প্রসারিত করলে DD চাহিদা রেখা পাওয়া যায়। রেখাটি বাম থেকে ডানে নিম্নগামী, যা দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যকার বিপরীত সম্পর্ক প্রকাশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক অনুযায়ী চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতার ভিত্তিতে X ও Y দ্রব্যের মধ্যে তুলনা নিচে দেওয়া হলো:

    চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতা (Ed) = (চাহিদার শতকরা পরিবর্তন) / (দামের শতকরা পরিবর্তন) = (ΔQ / ΔP) × (P / Q)

    ১. X দ্রব্যের ক্ষেত্রে:
    প্রাথমিক দাম (P) = ১০ টাকা, পরিবর্তিত দাম (P₁) = ৯ টাকা, অতএব ΔP = ৯ - ১০ = -১ টাকা।
    প্রাথমিক চাহিদা (Q) = ১০০ একক, পরিবর্তিত চাহিদা (Q₁) = ১২০ একক, অতএব ΔQ = ১২০ - ১০০ = ২০ একক।
    অতএব, X দ্রব্যের স্থিতিস্থাপকতা (Edx) = |(২০ / -১) × (১০ / ১০০)| = |-২| = ২
    এখানে, |Edx| > ১, অর্থাৎ X দ্রব্যের চাহিদা স্থিতিস্থাপক (Elastic)।

    ২. Y দ্রব্যের ক্ষেত্রে:
    প্রাথমিক দাম (P) = ১০ টাকা, পরিবর্তিত দাম (P₁) = ৯ টাকা, অতএব ΔP = ৯ - ১০ = -১ টাকা।
    প্রাথমিক চাহিদা (Q) = ১০০ একক, পরিবর্তিত চাহিদা (Q₁) = ১০৫ একক, অতএব ΔQ = ১০৫ - ১০০ = ৫ একক।
    অতএব, Y দ্রব্যের স্থিতিস্থাপকতা (Edy) = |(৫ / -১) × (১০ / ১০০)| = |-০.৫| = ০.৫
    এখানে, |Edy| < ১, অর্থাৎ Y দ্রব্যের চাহিদা অস্থিতিস্থাপক (Inelastic)।

    তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
    X দ্রব্যের স্থিতিস্থাপকতার মান ২, যা ১-এর চেয়ে বড়; অর্থাৎ দামের সামান্য পরিবর্তনে চাহিদার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। এটি সাধারণত বিলাসজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়। অন্যদিকে Y দ্রব্যের স্থিতিস্থাপকতার মান ০.৫, যা ১-এর চেয়ে কম; অর্থাৎ দামের পরিবর্তনে চাহিদার পরিবর্তন তুলনামূলক কম হয়। এটি নির্দেশ করে Y দ্রব্যটি অপেক্ষাকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রকৃতির দ্রব্য। সুতরাং, X দ্রব্যের চাহিদা স্থিতিস্থাপক এবং Y দ্রব্যের চাহিদা অস্থিতিস্থাপক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন