যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
যৌক্তিক বিভাগ কী?
- খ)(2)
উল্লম্ফন বিভাগ অনুপপত্তি কখন ঘটে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ছক নং ১-এ কোন ধরনের অনুপপত্তিকে নির্দেশ করা হয়েছে? যৌক্তিক বিভাগের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ছক নং-২ ও ছক নং-৩ এ যে বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়েছে, সেগুলোর তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি নীতি বা সূত্রের ভিত্তিতে একটি উচ্চতর জাতি বা শ্রেণিকে তার অন্তর্গত অপেক্ষাকৃত নিম্নতর উপজাতি বা শ্রেণিসমূহে বিভক্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক বিভাগের একটি নিয়ম হলো বিভাজন প্রক্রিয়াকে ক্রমান্বয়ে বা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হবে, কোনো মধ্যবর্তী ধাপ অতিক্রম বা বাদ দেওয়া যাবে না। কিন্তু যৌক্তিক বিভাগে কোনো মধ্যবর্তী জাতিকে উল্লম্ফন করে বা বাদ দিয়ে কোনো দূরবর্তী জাতিকে বিভক্ত করলে যে অনুপপত্তি ঘটে, তাকে উল্লম্ফন বিভাগ অনুপপত্তি বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক নং ১-এ 'সীমাবদ্ধ বিভাগ' (বা অব্যাপক বিভাগ) অনুপপত্তিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
যৌক্তিক বিভাগের একটি অন্যতম নিয়ম হলো—বিভাজ্য জাতির মোট ব্যক্ত্যর্থ বিভক্ত উপজাতিগুলোর মিলিত ব্যক্ত্যর্থের সমান হতে হবে। অর্থাৎ বিভক্ত উপজাতিগুলোর পরিধি বিভাজ্য জাতির পরিধির চেয়ে কম বা বেশি হতে পারবে না। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে যদি বিভক্ত উপজাতিগুলোর মিলিত ব্যক্ত্যর্থ বিভাজ্য জাতির ব্যক্ত্যর্থের তুলনায় কম হয়, তবে সেখানে 'সীমাবদ্ধ বা অব্যাপক বিভাগ' অনুপপত্তি ঘটে।
উদ্দীপকের ছক নং ১-এ 'বাংলাদেশ'-কে ঢাকা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ ও কুমিল্লা বিভাগ—এই তিনটি অংশে দেখানো হয়েছে। ভৌগোলিক বা বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের প্রশাসনিক অঞ্চলের সংখ্যা আরও বেশি (৮টি বিভাগ রয়েছে)। এখানে সমগ্র বাংলাদেশের সব অঞ্চল বা বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত না করে কেবল তিনটি অংশ দেখানো হয়েছে, যার ফলে বিভাজ্য সমগ্রের ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে বিভক্ত উপজাতি বা অংশগুলোর ব্যক্ত্যর্থ কম হয়েছে। ফলে এখানে যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘিত হয়ে সীমাবদ্ধ বিভাগ বা অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক নং-২ এ 'অঙ্গগত বিভাগ' (Physical Division) এবং ছক নং-৩ এ 'গুণগত বিভাগ' (Metaphysical Division) প্রতিফলিত হয়েছে। নিম্নে এ দুটির তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রকৃতিগত পার্থক্য: ছক নং-২ এ 'মানুষ'-কে তার হাত, পা, মাথা ইত্যাদি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ভাগ করা হয়েছে। এটি মূলত একটি মূর্ত বস্তুকে তার বাস্তব বা দৃশ্যমান অঙ্গসমূহে ভাগ করা, যা অঙ্গগত বিভাগের দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, ছক নং-৩ এ 'আম'-কে তার টক, রসালো, মিষ্টি ইত্যাদি বিভিন্ন গুণে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা মূলত গুণগত বিভাগের রূপ।
২. বাস্তব বিভাজন বনাম মানসিক বিশ্লেষণ: অঙ্গগত বিভাগে একটি বাস্তব বস্তুকে দৈহিক বা বাহ্যিকভাবে খণ্ড খণ্ড করে পৃথক করা সম্ভব (যেমন মানুষের দেহ থেকে হাত-পা আলাদা বিবেচনা করা যায়)। কিন্তু গুণগত বিভাগে কোনো বস্তুর গুণাবলিকে বাহ্যিকভাবে বা বাস্তবে আলাদা করা যায় না; কেবল মনোজগতের সাহায্যে বা ধারণাগতভাবে বিশ্লেষণ করতে হয়।
৩. যৌক্তিক বিভাগের সাথে সম্পর্ক: যৌক্তিক বিভাগে সর্বদা একটি শ্রেণিবাচক পদ বা জাতিকে তার উপজাতিতে ভাগ করা হয়। অঙ্গগত বিভাগ ও গুণগত বিভাগ—উভয়ই কোনো যৌক্তিক বিভাগ নয়। তবে অঙ্গগত বিভাগ বস্তুর বাহ্যিক গঠনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে, আর গুণগত বিভাগ বস্তুর অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য বা গুণের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
সুতরাং দেখা যায়, ছক-২ এ অঙ্গগত বিভাগ এবং ছক-৩ এ গুণগত বিভাগের ধারণা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা উভয়ই যৌক্তিক বিভাগের চেয়ে পৃথক কিন্তু নিজেদের বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও