বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের যেকোনো ১ টি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ

10.1.

'নিরাপদ সড়ক চাই' বিষয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ রচনা করো।

10.2.

নিম্নোক্ত ইঙ্গিত অবলম্বনে একটি খুদেগল্প রচনা করো: আশরাফ সাহেব একজন মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও তিনি মনে করেন দেশের জন্য অনেক কাজ করার বাকি রয়ে গেছে। তাই এই প্রৌঢ় বয়সেও...

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

১০.১. 'নিরাপদ সড়ক চাই' বিষয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ:

স্থান: বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ
চরিত্র: তানভীর ও সাজিদ (দুই বন্ধু)

তানভীর: কেমন আছিস সাজিদ? তোকে বেশ বিষণ্ণ দেখাচ্ছে।
সাজিদ: ভালো নেই রে তানভীর। আজ সকালে আসার পথে আমাদের এলাকার প্রধান সড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা দেখলাম। বাসের ধাক্কায় এক কলেজছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। দৃশ্যটা মন থেকে মুছে ফেলতে পারছি না।
তানভীর: অত্যন্ত দুঃখজনক! আজকাল সড়ক দুর্ঘটনা যেন প্রতিদিনের স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর চোখে পড়ে।
সাজিদ: একদম ঠিক বলেছিস। কিন্তু এর শেষ কোথায়? আমাদের সড়কগুলো কেন নিরাপদ হতে পারছে না?
তানভীর: সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। চালকদের অসচেতনতা ও বেপরোয়া গতি, লাইসেন্সহীন ও অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং ট্রাফিক আইন না মানাই এর প্রধান কারণ।
সাজিদ: তা ছাড়া পথচারীদের মধ্যেও ট্রাফিক নিয়ম মানার অনীহা দেখা যায়। ফুটওভার ব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হওয়াটাও একটি বড় সমস্যা।
তানভীর: ঠিক বলেছিস। তাই সড়ককে নিরাপদ করতে হলে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। চালকদের সঠিক প্রশিক্ষণ, নিয়মিত যানবাহনের ফিটনেস যাচাই এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
সাজিদ: সেই সাথে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকেও ট্রাফিক আইন মানতে সচেতন হতে হবে। 'নিরাপদ সড়ক চাই' কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি এখন সময়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক দাবিতে পরিণত হয়েছে।
তানভীর: যথার্থ বলেছিস। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সচেতনতাই পারে আমাদের সড়কগুলোকে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে।
সাজিদ: ধন্যবাদ বন্ধু, বিষয়টি নিয়ে কথা বলে ভালো লাগল। সাবধানে বাড়ি ফিরিস।
তানভীর: তোকেও ধন্যবাদ, সাবধানে পথ চলিস।


১০.২. খুদেগল্প: অপ্রতিরোধ্য আশরাফ সাহেব

আশরাফ সাহেব একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে মাত্র উনিশ বছর বয়সে দেশকে ভালোবেসে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। জীবন বাজি রেখে ছিনিয়ে এনেছিলেন লাল-সবুজের পতাকা। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও তিনি মনে করেন দেশের জন্য অনেক কাজ করার বাকি রয়ে গেছে। তাই এই প্রৌঢ় বয়সেও তিনি অলস সময় কাটাতে পারেন না।

গ্রামের মানুষের অজ্ঞতা, শিক্ষার অভাব আর দারিদ্র্য তাঁকে প্রতিনিয়ত ব্যথিত করে। আশরাফ সাহেব বিশ্বাস করেন, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এলেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি ছাড়া একটি দেশ পূর্ণতা পায় না। সেই তাড়না থেকেই তিনি নিজের অবসরের জমানো সঞ্চয় আর পৈতৃক ভিটের কিছু জমি দিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি অবৈতনিক বিদ্যালয়—'আলোর দিশারী পাঠশালা'। প্রতিদিন সকালে চশমাটা চোখের ওপর এঁটে তিনি গ্রামের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বর্ণমালা শেখাতে বসে যান।

শুধু পাঠশালা নয়, এলাকার তরুণ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি পাঠাগার ও যুব সংগঠন। যেখানে যুবকদের সৎপথে উপার্জনের জন্য হাঁস-মুরগি পালন, আধুনিক কৃষিকাজ ও কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কেউ যদি তাঁকে জিজ্ঞেস করে, "চাচা, এই বয়সে এত খাটাখাটনি করেন কেন? এখন তো বিশ্রাম নেওয়ার সময়।" আশরাফ সাহেব একগাল হেসে পরম প্রত্যয়ে উত্তর দেন, "বাবা, একাত্তরে দেশটাকে শত্রুঘুমুক্ত করেছি রক্ত দিয়ে, কিন্তু দেশটাকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার লড়াই তো শেষ হয়নি! যে স্বপ্নের জন্য আমার সহযোদ্ধারা প্রাণ দিয়েছিল, সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমার বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ কোথায়?"

দেশপ্রেমের কোনো বয়স হয় না—আশরাফ সাহেব তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও প্রতিটি পদক্ষেপে তা প্রমাণ করে চলেছেন। তাঁর এই অদম্য কর্মযজ্ঞে আজ শুধু একটি গ্রাম নয়, গোটা এলাকার মানুষ নতুন করে দেশ গড়ার অনুপ্রেরণা খুঁজে পাচ্ছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন