বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
11.1.
(ক) ভূমিকম্পের ভয়াবহতা নিয়ে দুই বন্ধুর কথোপকথন তুলে ধরো।
11.2.
অথবা, (খ) প্রদত্ত সংকেত অবলম্বনে 'লোভের পরিণাম' শীর্ষক একটি খুদেগল্প রচনা করো। গল্প সংকেত: স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি ফলের বাগান করে রমিজ।…………….
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১১.১. (ক) ভূমিকম্পের ভয়াবহতা নিয়ে দুই বন্ধুর কথোপকথন:
স্থান: বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ
পাত্র: তানভীর ও সাকিব
তানভীর: শুভ অপরাহ্ন সাকিব! কেমন আছিস?
সাকিব: শুভ অপরাহ্ন তানভীর। শারীরিক দিক দিয়ে ভালো হলেও মনটা খুব বিষণ্ণ।
তানভীর: কেন বন্ধু? কী হয়েছে?
সাকিব: আজ ভোরে হঠাৎ যে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হলো, তাতেই ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। তুই কি টের পেয়েছিলি?
তানভীর: হ্যাঁ, আমাদের পুরো বাড়ি যেন কেঁপে উঠেছিল। সত্যি বলতে, কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হয়েছিল সবকিছু শেষ হয়ে যাবে।
সাকিব: একদম ঠিক বলেছিস। তুরস্ক ও সিরিয়ার সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞের চিত্রগুলো টিভির পর্দায় দেখার পর থেকেই এই ভূকম্পন নিয়ে আমার ভয় আরও বেড়ে গেছে। সেখানে চোখের পলকে হাজার হাজার বহুতল ভবন ধূলিসাৎ হয়ে গেল, লাখো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণ হারাল।
তানভীর: আমাদের শহরগুলোর যে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, তাতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসবে। বেশিরভাগ ভবনই ভূমিকম্প-সহনশীল নীতিমালা (ইমারত নির্মাণ বিধিমালা) মেনে তৈরি করা হয়নি।
সাকিব: ঠিক তাই। তাছাড়া রাস্তাঘাট এত অপ্রশস্ত যে উদ্ধারকাজের জন্য ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানোই অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তানভীর: ভূমিকম্প প্রাকৃতিক দুর্যোগ, একে তো থামানো যাবে না। তবে সচেতনতা ও পূর্বপ্রস্তুতির মাধ্যমে জানমালের ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
সাকিব: এজন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্পের সময় আত্মরক্ষার প্রাথমিক নিয়মগুলো ছড়িয়ে দেওয়া দরকার। যেমন—আতঙ্কিত না হয়ে শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নেওয়া, লিফট ব্যবহার না করা এবং খোলা স্থানে সরে যাওয়া।
তানভীর: সেই সাথে সরকারকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে অপসারণ বা মজবুত করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সাকিব: যথাযথ পদক্ষেপই পারে আমাদের জীবন রক্ষা করতে। সাবধানে থাকিস তানভীর।
তানভীর: তুইও সাবধানে থাকিস।
অথবা,
১১.২. (খ) খুদেগল্প: লোভের পরিণাম
স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি ফলের বাগান করে রমিজ। তার কঠোর পরিশ্রমে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পতিত একখণ্ড জমি সবুজ গাছে ভরে উঠল। বাগানে নানা জাতের আম, লিচু, পেয়ারা ও ড্রাগন ফলের ফলন হলো চমৎকার। প্রথম মৌসুমে ফল বিক্রি করে সে বেশ ভালো অঙ্কের মুনাফা অর্জন করল। এলাকাবাসী রমিজের উদ্যোগের প্রশংসা করল এবং স্থানীয় পর্যায়ে সে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেল।
কিন্তু এই প্রাথমিক সাফল্যই রমিজের মনে অতি মুনাফার তীব্র লোভ জাগিয়ে তুলল। সে ভাবল, সনাতন পদ্ধতিতে স্বাভাবিক নিয়মে ফল পাকলে বাজারে দাম বেশি পাওয়া যায় না; তাছাড়া দ্রুত ফল বড় না হলে বেশি লাভ করা অসম্ভব। অতিরিক্ত টাকা উপার্জনের আশায় রমিজ কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অমান্য করল। ফল দ্রুত পরিপক্ব ও আকর্ষণীয় রঙের করার জন্য সে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যাদি এবং নিষিদ্ধ হরমোন প্রয়োগ করতে শুরু করল।
কিছুদিনের মধ্যে ফলে আকর্ষণীয় উজ্জ্বল রঙ এলো। রমিজ উল্লসিত হয়ে সেই রাসায়নিকযুক্ত বিষাক্ত ফলগুলো চড়া দামে স্থানীয় বাজারে পাঠাল। কিন্তু অসততার ফল কখনো স্থায়ী হয় না। সেই বিষাক্ত ফল খেয়ে এলাকার বেশ কয়েকজন শিশু ও সাধারণ মানুষ তীব্র ডায়রিয়া ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো। বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও কৃষি প্রশাসনের নজরে আসে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে রমিজের ফলের দোকানে অভিযান চালায় এবং ল্যাব টেস্টে চরম বিষাক্ত রাসায়নিকের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি ধরা পড়ে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষতিকর ফলগুলো মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করার নির্দেশ দেন এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিসাধনের অপরাধে রমিজকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
লোভের মোহে পড়ে রমিজ শুধু নিজের পরিশ্রমের বাগান ও সঞ্চিত অর্থই হারাল না, সমাজে চিরদিনের জন্য একজন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হলো। লোভ মানুষের বিবেচনা ও সম্মান দুটোই ধ্বংস করে দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও