জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
পরিপাকতন্ত্রের প্রধান কাজ খাদ্যদ্রব্য পরিপাক করা। পরিপাক নালীর বিভিন্ন অংশে খাদ্যের পরিপাক এবং শোষণ ঘটে। শোষিত খাদ্যসার অতিরিক্ত হলে তা যকৃতে সঞ্চিত হয়।
- ক)(1)
ইমালসিফিকেশন কী?
- খ)(2)
পরিপাকতন্ত্রের বৃহদন্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রধান কাজ সম্পাদনে হরমোনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ লাইনটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পিত্তলবণের প্রভাবে ক্ষুদ্রান্ত্রে চর্বিজাতীয় খাদ্যের বৃহৎ কণাগুলো ভেঙে অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফোঁটায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ইমালসিফিকেশন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিপাকতন্ত্রে বৃহদন্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি অপাচ্য খাদ্য অবশিষ্টাংশ থেকে অতিরিক্ত পানি, লবণ ও খনিজ শোষণ করে মলের সঠিক ঘনত্ব বজায় রাখে এবং দেহকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। এছাড়া বৃহদন্ত্রে বসবাসকারী উপকারী অণুজীবসমূহ ভিটামিন-কে এবং ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স তৈরি করে, যা দেহে শোষিত হয়। সবশেষে এটি অপাচ্য বর্জ্যকে মল হিসেবে জমা রাখে এবং নির্দিষ্ট সময় পর নিষ্কাশনে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রধান কাজটি হলো 'খাদ্যদ্রব্য পরিপাক'। মানব পরিপাকতন্ত্রে খাদ্য পরিপাকের বিভিন্ন ধাপে প্রয়োজনীয় পরিপাক রস ক্ষরণে বিভিন্ন হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:
১. গ্যাস্ট্রিন: পাকস্থলীর পাইলোরিক অংশের G-কোষ থেকে নিঃসৃত হয়ে গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) ও পেপসিনোজেন সমৃদ্ধ গ্যাস্ট্রিক জুস ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
২. সিক্রেটিন: ডিওডেনামের প্রাচীর থেকে নিঃসৃত হয়ে অগ্ন্যাশয়কে ক্ষারীয় অগ্ন্যাশয় রস ও বাইকার্বোনেট ক্ষরণে উদ্দীপিত করে এবং পাকস্থলীর অ্যাসিডিক কাইমকে প্রশমিত করে।
৩. কোলেসিস্টোকাইনিন (CCK): পিত্তথলিকে সংকুচিত করে পিত্তরস ডিওডেনামে মুক্ত করে এবং অগ্ন্যাশয় থেকে প্রধান পরিপাককারী এনজাইম ক্ষরণ বাড়ায়।
৪. এন্টারোক্রাইনিন ও গ্যাস্ট্রিক ইনহিবিটরি পেপটাইড (GIP): এন্টারোক্রাইনিন অন্ত্ররস (সাক্কাস এন্টেরিকাস) নিঃসরণ বাড়ায় এবং GIP পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক জুস নিঃসরণ কমিয়ে পরিপাকের সমন্বয় ঘটায়।এভাবে বিভিন্ন হরমোনের সুষম নিঃসরণের মাধ্যমেই পরিপাক নালীতে খাদ্য পরিপাক সম্পন্ন হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ লাইনটি হলো—"শোষিত খাদ্যসার অতিরিক্ত হলে তা যকৃতে সঞ্চিত হয়।" মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় সাম্যাবস্থা রক্ষায় লাইনটির গুরুত্ব অপরিসীম, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গ্লাইকোজেন সঞ্চয় (গ্লাইকোজেনেসিস): ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে হেপাটিক পোর্টাল শিরা দিয়ে অতিরিক্ত গ্লুকোজ যকৃতে প্রবেশ করে। ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবে যকৃত এই অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন পলিমারে রূপান্তরিত করে সঞ্চয় করে রাখে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকে।
২. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: রক্তে শর্করার ঘাটতি হলে গ্লুকাগন হরমোনের প্রভাবে যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন পুনরায় গ্লুকোজে ভেঙে রক্তে প্রবেশ করে (গ্লাইকোজেনোলাইসিস), যা মস্তিষ্ক ও দেহকোষে নিরবচ্ছিন্ন শক্তি জোগায়।
৩. লিপিড সঞ্চয়: অতিরিক্ত স্নেহকণা যকৃতে ট্রাইগ্লিসারাইড ও ফসফোলিপিড হিসেবে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যাটি অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়ে শক্তিশক্তি প্রদান করে।
৪. ভিটামিন ও খনিজ সঞ্চয়: যকৃতে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (A, D, E, K), ভিটামিন B12 এবং লৌহ (ফেরিটিন হিসেবে), তামা ইত্যাদি সংরক্ষিত হয়।অতএব, শোষিত অতিরিক্ত খাদ্যসার যকৃতে সঞ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়াটি মানবদেহে পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য, রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তির সঞ্চয়ী আধার হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও