বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

4.

পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

ভূমিকা:
মানুষ ও তার চারপাশের জড় ও জীব উপাদান নিয়ে গঠিত হয় পরিবেশ। প্রকৃতি ও মানুষের নিবিড় সম্পর্কের ওপরই নির্ভর করে পৃথিবীর ভারসাম্য ও জীবনের অস্তিত্ব। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে পরিবেশ প্রতিনিয়ত ভারসাম্য হারাচ্ছে, যা পরিবেশ দূষণ নামে পরিচিত। পরিবেশ দূষণ আজ মানবজাতি তথা সমগ্র জীবজগতের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

পরিবেশ দূষণের কারণ:
পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ মূলত মানুষের অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ড। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন, নির্বিচারে বনভূমি নিধন, কলকারখানা ও যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্য নির্গমন, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অপচনশীল প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।

পরিবেশ দূষণের প্রকারভেদ:
১. বায়ু দূষণ: কলকারখানা, ইটভাটা এবং যানবাহনের কালো ধোঁয়ায় থাকা বিষাক্ত গ্যাস (কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি) বায়ুমণ্ডলে মিশে বায়ু দূষণ ঘটায়।
২. পানি দূষণ: শিল্পবর্জ্য, পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য এবং কৃষিতে ব্যবহৃত কীটনাশক নদী-নালা ও জলাশয়ে মিশে পানি দূষিত করছে।
৩. মাটি দূষণ: প্লাস্টিক, পলিথিন ও কৃত্রিম রাসায়নিক দ্রব্যের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে মাটি দূষিত হচ্ছে।
৪. শব্দ দূষণ: কলকারখানার যান্ত্রিক শব্দ, যানবাহনের তীব্র হর্ন এবং উচ্চশব্দে লাউডস্পিকার বাজানোর ফলে শব্দ দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে, যা মানুষের শ্রবণশক্তি ও স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পরিবেশ দূষণের কুফল:
পরিবেশ দূষণের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ুর মারাত্মক পরিবর্তন ঘটছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের মাঝে ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ নানাবিধ দুরারোগ্য ব্যাধির প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বহু বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

দূষণ প্রতিকারের উপায়:
১. বৃক্ষরোপণ ও বনরক্ষণ: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে সামাজিক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: শিল্প ও গৃহস্থালি বর্জ্য পরিশোধনের (ETP) ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনর্ব্যবহার (Recycling) নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সবুজ শক্তির ব্যবহার: জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদির মতো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
৪. প্লাস্টিক বর্জন: পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাটের তৈরি ও পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার করতে হবে।
৫. জনসচেতনতা ও আইন প্রয়োগ: পরিবেশ রক্ষা আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

উপসংহার:
পরিবেশ সংরক্ষণ কোনো একক দেশের নয়, সমগ্র পৃথিবীর দায়িত্ব। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে পরিবেশ দূষণ রোধে এখনই কার্যকর ও সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন