পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব সাকিব একজন রাজনীতিবিদ। সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণের জন্য তার রাজনীতি। কৃষি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অনেক অবদান।
- ক)(1)
ঢাকা ইডেন কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
- খ)(2)
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তি ছিলেন একজন কৃষক নেতা -বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৭৮ সালে বাংলার তৎকালীন লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার অ্যাশলি ইডেনের নামানুসারে 'ইডেন বালিকা বিদ্যালয়' (বর্তমানে ইডেন মহিলা কলেজ) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আজীবন শোষিত, বঞ্চিত, মেহনতি ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায়ে আপসহীন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি কৃষক-শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠায় রাজনীতি করেছেন এবং নিজেকে সাধারণ মজলুমের কাতারে শামিল করেছিলেন। শোষিত শ্রেণির প্রতি তাঁর এই অকৃত্রিম দরদ ও সংগ্রামের কারণেই সাধারণ মানুষ তাঁকে ভালোবেসে 'মজলুম জননেতা' উপাধিতে ভূষিত করেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সাদৃশ্য রয়েছে।
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক বাংলার সাধারণ ও কৃষক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন। উদ্দীপকে যেমন জনাব সাকিবের রাজনীতি সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণ এবং কৃষি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের কথা বলা হয়েছে, তেমনি এ. কে. ফজলুল হকও বাংলার শিক্ষা বিস্তার এবং দরিদ্র কৃষক-প্রজাদের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে অসংখ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ঋণ সালিশী বোর্ড ও প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কৃষকদের মহাজনি শোষণ থেকে মুক্ত করেন এবং বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
অতএব, কৃষক ও শিক্ষার কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে উদ্দীপকে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের চরিত্রের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার নিপীড়িত কৃষকদের অবিসংবাদিত নেতা—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
তৎকালীন বাংলায় জমিদার ও মহাজনদের নির্মম শোষণে কৃষকদের জীবন ছিল দুর্বিষহ। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কৃষকদের এই দুর্দশা গভীরভাবে অনুভব করেন এবং তাদের সংগঠিত করে 'নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি' ও পরবর্তীকালে 'কৃষক প্রজা পার্টি' গঠন করেন। ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কৃষকদের অধিকার রক্ষায় যুগান্তকারী 'বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন' (১৯৩৮) সংশোধন করেন, যা কৃষকদের জমির ওপর স্বত্ব প্রদান করে এবং জমিদারদের স্বেচ্ছাতন্ত্র খর্ব করে।
এছাড়া মহাজনদের চক্রবৃদ্ধি সুদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করার জন্য তিনি 'মহাজনী আইন' এবং 'ঋণ সালিশী বোর্ড' প্রতিষ্ঠা করেন। ঋণ সালিশী বোর্ডের মাধ্যমে বাংলার লক্ষ লক্ষ কৃষক বিপুল ঋণের দায় থেকে মুক্তি পান। কৃষকদের অধিকার আদায়ে তাঁর এই অবিস্মরণীয় অবদানের জন্যই জনগণ তাঁকে 'কৃষক নেতা' ও 'শেরে বাংলা' (বাংলার বাঘ) উপাধিতে সম্মানিত করে। সুতরাং, ঐতিহাসিক তথ্যের আলোকে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে তিনি ছিলেন একজন মহান কৃষক নেতা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও