ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মনির, মোহন ও মোতালেব শরিকানার ভিত্তিতে ঢাকার ব্যস্ততম মতিঝিলে সুন্দর ডেকোরেশন করে একটি হোটেল রেস্তোরাঁর ব্যবসায় শুরু করলেন। মনির ও মোহন ব্যবসায় মূলধন সরবরাহ করলেও মোতালেব কোনো মূলধন দিতে পারেনি। তবে মোতালেবের এ ব্যবসায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। চাকরিজীবী মনির জানিয়েছেন ব্যবসায় দৈনন্দিন কাজে অন্যদের মতো অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, তবে তিনি অন্য অংশীদারদের মতো যেকোনো কাজের দায় বহন করবেন। মোতালেবের পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে ব্যবায়টি ভালোভাবেই চলছে।
- ক)(1)
অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি কী?
- খ)(2)
নাবালক অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদার হতে পারে কি?
- গ)(3)
উদ্দীপকে মোতালেব কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে মনির ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ না করায় ব্যবসায় লাভ- লোকসান কীভাবে বণ্টিত হওয়া উচিত? তোমার মতামত ব্যক্ত কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হলো চুক্তি বা পারস্পরিক চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নাবালক চুক্তি করার অযোগ্য হওয়ায় অংশীদারি ব্যবসায়ের পূর্ণ অংশীদার হতে পারে না। তবে ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী, বিদ্যমান সকল অংশীদারের সম্মতিতে নাবালককে ব্যবসায়ের কেবল মুনাফার অংশে সীমিত সুবিধা দিয়ে অংশীদার করা যায়। এ ক্ষেত্রে নাবালকের দায় ব্যবসায়ে নিয়োজিত তার স্বার্থ বা অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, ব্যক্তিগত কোনো দায় থাকে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মোতালেব হলেন একজন ‘কর্মী অংশীদার’।
যে অংশীদার ব্যবসায় কোনো মূলধন সরবরাহ না করে কেবল নিজস্ব দক্ষতা, যোগ্যতা ও শ্রমের মাধ্যমে ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কার্যপরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, তাকে কর্মী অংশীদার বলা হয়।
উদ্দীপকে মোতালেব রেস্তোরাঁ ব্যবসায় কোনো মূলধন প্রদান করতে পারেননি। তবে এ ব্যবসায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় পরিচালনার কাজ করছেন, যার কারণে ব্যবসায়টি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অতএব, মূলধন না দিয়ে কেবল অভিজ্ঞতা ও শ্রম বিনিয়োগ করার কারণে মোতালেব একজন কর্মী অংশীদার হিসেবে গণ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মনির ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ না নিলেও তাদের চুক্তির শর্ত অনুসারে লাভ-লোকসান বণ্টিত হওয়া উচিত; আর চুক্তিপত্রে উল্লেখ না থাকলে আইন অনুযায়ী তা সমান হারে বণ্টিত হবে।
অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হলো চুক্তি। অংশীদারি চুক্তিপত্রে অংশীদারদের মূলধন, দায়-দায়িত্ব এবং লাভ-লোকসান বণ্টনের অনুপাত স্পষ্ট থাকলে সেই অনুসারেই লাভ-লোকসান ভাগ করা হয়। পরিচালনায় অংশ না নেওয়া কোনো অংশীদারের মুনাফা পাওয়ার পথে বাধা নয়। তবে চুক্তিতে লাভ-লোকসান বণ্টনের অনুপাত উল্লেখ না থাকলে ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ১৩(ক) ধারা অনুসারে সকল অংশীদারের মধ্যে লাভ-লোকসান সমানভাবে বণ্টিত হয়।
উদ্দীপকে মনির মূলধন দিয়েছেন এবং ব্যবসায়ের যেকোনো কাজের দায় অন্য অংশীদারদের মতোই বহন করতে সম্মত হয়েছেন। তিনি শুধু সময়ের অভাবে পরিচালনায় থাকতে পারছেন না। তাই পরিচালনায় অংশ না নিলেও তার মূলধন ও অসীম দায়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ-লোকসানের অংশীদার হবেন। যদি তাদের মাঝে কোনো পূর্বচুক্তি থাকে, তবে সে অনুযায়ী এবং চুক্তি না থাকলে মনির, মোহন ও মোতালেবের মধ্যে লাভ-ক্ষতি সমহারে বণ্টিত হওয়া আইনসঙ্গত ও যুক্তিসঙ্গত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও