গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • উত্তরা কলেজ, ঢাকা • উত্তরা কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
স্যানিটেশন কী?
- খ)(2)
টেস্টিং সল্ট মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে A চিহ্নিত স্থানে যে রাসায়নিক দ্রব্যকে বোঝানো হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'উদ্দীপকে A ও B চিহ্নিত দ্রব্যগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতা আবশ্যক'- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় মলমূত্র ও বর্জ্য পদার্থ নিরাপদভাবে নিষ্কাশন ও পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার সামগ্রিক ব্যবস্থাকে স্যানিটেশন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
টেস্টিং সল্ট বা মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক উপাদান। এটি অতিরিক্ত বা নিয়মিত গ্রহণ করলে মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। এর ক্ষতিকর প্রভাবে মাথাব্যথা, বমি ভাব, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, বুক ধড়ফড় করা এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি মস্তিষ্ক এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতিসাধন করতে পারে, তাই টেস্টিং সল্ট মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে A চিহ্নিত স্থানে যে রাসায়নিক দ্রব্যকে নির্দেশ করা হয়েছে তা হলো ক্যালসিয়াম কার্বাইড (বা ক্ষতিকর কৃত্রিম হরমোন/রাসায়নিক)।
অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা শাকসবজি তাজা বা সতেজ দেখাতে এবং কাঁচা ফল দ্রুত কৃত্রিমভাবে পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে থাকে। প্রাকৃতিকভাবে ফল পাকানোর চেয়ে রাসায়নিক ব্যবহারে দ্রুত ও আকর্ষণীয় বর্ণে ফল পেকে যায়। তবে ক্যালসিয়াম কার্বাইডে আর্সেনিক ও ফসফরাসের মতো অত্যন্ত ক্ষতিকর উপাদান মিশে থাকে। ফলে এগুলো যখন শাকসবজি ও ফলের সংস্পর্শে আসে, তখন তা খাদ্যকে বিষাক্ত করে তোলে। এমন খাবার গ্রহণের ফলে পেটের পীড়া, আলসার, লিভার ও কিডনির ক্ষতি এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং, উদ্দীপকের 'A' মূলত শাকসবজি সতেজ রাখা ও ফল পাকাতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক যেমন ক্যালসিয়াম কার্বাইডকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে A চিহ্নিত দ্রব্যটি হলো ফল পাকাতে ও সবজি সতেজ রাখতে ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম কার্বাইড/কীটনাশক এবং B চিহ্নিত দ্রব্যটি হলো ফল ও মাছ সংরক্ষণে ব্যবহৃত ফরমালিন। এগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতা আবশ্যক—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
ফরমালিন ও কার্বাইডের মতো রাসায়নিকগুলো অত্যন্ত বিষাক্ত। এগুলো মানবদেহে প্রবেশ করলে হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক আলসার, হৃদরোগ, কিডনি বিকল এবং লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ, যা জন্মগত ত্রুটি ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণ হতে পারে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একার পক্ষে সর্বত্র ভেজাল খাদ্যের বিস্তার সম্পূর্ণ রোধ করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ও ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে:
১. ফল ও শাকসবজি ক্রয়ের আগে অতিরিক্ত উজ্জ্বল বা অসম রঙ দেখে সতর্ক হওয়া।
২. ব্যবহারের পূর্বে খাদ্যদ্রব্য ভালোভাবে ধুয়ে ও কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা।
৩. অসাধু ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দায়ের করা।
৪. কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এসব রাসায়নিকের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে নৈতিকতাবোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।অতএব, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং খাদ্যে এসব ক্ষতিকর দ্রব্যের অপব্যবহার রুখতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও