গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • উত্তরা কলেজ, ঢাকা • উত্তরা কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
আসমা বেগম ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শাশুড়ি মা তাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলেন। সেখানে ডাক্তার তাকে কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বললেন। নতুন সদস্য আসছে-বলে পরিবারের সবাই খুব খুশি। তবে, এখন ধান তোলার মৌসুম বলে আসমা বেগমকে অনেক ভারী কাজ করতে হয়। তাছাড়া খাবার গ্রহণেও তার কোনো পরিবর্তন আসেনি।
- ক)(1)
নবজাতক কালের বয়সসীমা কত?
- খ)(2)
মায়ের মনোভাব শিশুর জন্মপরবর্তী বিকাশকে কীভাবে প্রভাবিত করে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
বর্তমানে আসমা বেগম যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাবে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আসমা বেগমের শারীরিক ও মানসিক যত্নের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণত জন্মের পর থেকে পরবর্তী দুই সপ্তাহ (১৪ দিন) পর্যন্ত সময়কে নবজাতক কাল বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মায়ের ইতিবাচক মনোভাব শিশুর জন্মপরবর্তী সুস্থ বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা মানসিকভাবে প্রফুল্ল ও সন্তানকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকলে তিনি যত্ন ও ভালোবাসার সাথে শিশুর লালন-পালন করতে পারেন। ফলে শিশুর সাথে মায়ের গভীর সংবেদনশীল বন্ধন (Attachment) গড়ে ওঠে, যা শিশুর সামাজিক, মানসিক ও প্রাক্ষোভিক বিকাশকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। বিপরীতে মায়ের হতাশা বা নেতিবাচক মনোভাব শিশুর বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আসমা বেগম বর্তমানে ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ অবস্থায় তিনি যেসব প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাবেন তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. শারীরিক পরীক্ষা: দেহের উচ্চতা ও ওজন পরিমাপ, রক্তচাপ (Blood Pressure) নির্ণয়, রক্তশূন্যতা এবং পায়ে বা মুখে ফোলাভাব (Edema) আছে কি না তা পরীক্ষা করা।
২. ল্যাবরেটরি পরীক্ষা: গর্ভধারণ নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা (Urine for Pregnancy Test), রক্তের গ্রুপ ও Rh ফ্যাক্টর নির্ণয়, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা (Hb%), রক্তে শর্করার মাত্রা (RBS/OGTT) এবং প্রস্রাবের সাধারণ পরীক্ষা (R/M/E - অ্যালবুমিন ও শর্করার উপস্থিতি নির্ণয়)।
৩. আল্ট্রাসনোগ্রাফি: গর্ভস্থ ভ্রূণের অবস্থান, বৃদ্ধি এবং হৃদস্পন্দন যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিক আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো জরুরি। এ পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে গর্ভকালীন জটিলতা আগেই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আসমা বেগমের ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক যত্নের যে চিত্র দেখা যায়, তা গর্ভকালীন সুস্বাস্থ্যের পরিপন্থী এবং এর কোনো যথার্থতা নেই।
প্রথমত, আসমা বেগম ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং এ সময়ে ধানের মৌসুমে ভারী কাজ করছেন। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, এ সময়ে ভারী কাজ বা অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম করলে রক্তপাত এমনকি গর্ভপাতের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এ সময়ে বিশ্রাম ও হালকা কাজকর্ম করা উচিত।
দ্বিতীয়ত, খাবার গ্রহণে কোনো পরিবর্তন না আনা একটি মারাত্মক ভুল। গর্ভস্থ ভ্রূণের বিকাশ ও মায়ের নিজের শারীরিক সুস্থতার জন্য অতিরিক্ত ক্যালরি, আমিষ, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনযুক্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অপরিহার্য।
মানসিক দিক দিয়ে পরিবারের আনন্দ ইতিবাচক হলেও ভারী কাজের চাপ তার শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির কারণ হচ্ছে। তাই তার সুস্থতার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ভারী কাজ থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয় ছিল। সুতরাং তার বর্তমান অবস্থা নির্দেশ করে যে শারীরিক ও মানসিক যত্ন সঠিকভাবে নেওয়া হচ্ছে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও