গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • উত্তরা কলেজ, ঢাকা • উত্তরা কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

আমাদের দেশে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনে পরিচ্ছন্নতার অভাবে মানুষ নানাবিধ রোগব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত হয়। ফলে খাদ্য প্রস্তুতের সময় ও পরিবেশনে পরিচ্ছন্ন হওয়া আবশ্যক। এছাড়া খাদ্য রন্ধনকালীন সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি।

  1. ক)

    ইস্ট কী?

    (1)
  2. খ)

    লেথারিজম বিষক্রিয়া কেন হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগব্যাধির জন্য কোন ধরনের বহিরাগত জীবাণু বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    অভ্যাসবশত ভুল পদ্ধতিতে খাদ্যদ্রব্য রান্নার জন্য খাদ্যের গুণগতমান নষ্ট হয় - তুমি কি একমত? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইস্ট হলো এক ধরনের এককোষী ছত্রাক জাতীয় অণুজীভ, যা সন্ধান (fermentation) প্রক্রিয়ায় কার্বোহাইড্রেটকে অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খেসারি ডালে 'BOAA' (Beta-N-oxalyl-L-alpha,beta-diaminopropionic acid) নামক এক ধরনের মৃদু বিষাক্ত অ্যামাইনো এসিড থাকে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ও প্রধান খাদ্য হিসেবে খেসারি ডাল গ্রহণ করলে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিচের অঙ্গগুলো বা পায়ের অংশ অবশ বা প্যারালাইজড হয়ে যায়, যাকে লেথারিজম বলা হয়। পর্যাপ্ত পানিতে ভিজিয়ে রেখে পানি ফেলে রান্না করলে এই বিষক্রিয়া হ্রাস পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগব্যাধির জন্য মূলত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং প্রোটোজোয়া জাতীয় বহিরাগত রোগজীবাণু খাদ্যে বিষক্রিয়া ও সংক্রামক ব্যাধি ঘটাতে পারে।

    অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন করলে হাতের ময়লা, দূষিত পানি, মাছি ও পাত্রের মাধ্যমে স্যালমোনেলা (Salmonella), স্ট্যাফাইলোকক্কাস (Staphylococcus), ই. কোলাই (E. coli), এবং ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম (Clostridium botulinum)-এর মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া খাবারে প্রবেশ করে ও বিস্তার লাভ করে। এসব অণুজীবাণু খাদ্যে টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান তৈরি করে, যা গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড ও বোটুলিজমের মতো রোগ বা ফুড পয়জনিং হয়ে থাকে। অতএব, পরিচ্ছন্নতার অভাবেই এসব জীবাণু খাবারে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত যে অভ্যাসবশত ভুল পদ্ধতিতে খাদ্যদ্রব্য রান্নার জন্য খাদ্যের গুণগত মান ও পুষ্টিমান মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়।

    আমাদের দৈনন্দিন রান্নায় বিভিন্ন ভুল পদ্ধতি পরিলক্ষিত হয়, যেমন:
    ১. শাকসবজি কাটার পর ধোয়া: সবজি কাটার পর ধুলে পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (যেমন ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ও ভিটামিন সি) এবং খনিজ লবণ পানির সাথে বের হয়ে নষ্ট হয়ে যায়।
    ২. অতিরিক্ত তাপে ও দীর্ঘক্ষণ রান্না করা: বেশি তাপে অনেকক্ষণ ধরে রান্না করলে প্রোটিন বিকৃত হয় এবং ভিটামিন সি ও থায়ামিন নষ্ট হয়ে যায়।
    ৩. ঢাকনা ছাড়া রান্না: খোলা পাত্রে রান্না করলে বাষ্পের সাথে উদ্বায়ী ভিটামিন উড়ে যায়।
    ৪. ভাতের মাড় ফেলে দেওয়া: ভাতের মাড় ফেলে দিলে চালের শতকরা ৬০-৭০ ভাগ থায়ামিন (ভিটামিন বি১) এবং অন্যান্য খনিজ লবণ অপচয় হয়।
    ৫. খাওয়ার সোডা ব্যবহার: ডাল বা ছোলা দ্রুত সেদ্ধ করার জন্য সোডা ব্যবহার করলে খাদ্যস্থ ভিটামিন বি ও সি নষ্ট হয়।

    সুতরাং, রান্নার সঠিক বৈজ্ঞানিক নিয়ম অনুসরণ না করলে খাদ্যের পুষ্টি উপাদান বিনষ্ট হয়, তাই অভ্যাসবশত ভুল পদ্ধতি পরিহার করা আবশ্যক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন