সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

ঢোল আর বাদ্যের তালে তালে ধাক্কা দিয়ে এগিনা হচ্ছে একটি মেয়েকে। তার স্বামী অমল চক্রবর্তী কিছু সময় আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই তিনি স্বামীর সাথে সহমরনে গিয়ে অনন্তকাল স্বর্গবাসী হবেন। পত্নীর মহৎ কর্তব্য হচ্ছে সহমরণ। কিন্তু অজয় রায় এভাবে ধর্মের দোহাই দিয়ে স্ত্রীকে জোর করে বা স্ত্রীর ইচ্ছায় স্বামীর চিতায় আগুনে জীবন্ত দাহ করার নিষ্ঠুর প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ফলে ১৯২৯ সালে এ অমানবিক প্রথা নিরোধ আইন পাস হয়।

  1. ক)

    প্রকৃতিগত দিক থেকে ওয়াকফ কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    সমাজসেবা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে অজয় রায়ের আন্দোলন ভারতীয় উপমহাদেশের কোন সমাজ সংস্কার আন্দোলন কে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলনের প্রভাব আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতিগত দিক থেকে ওয়াকফ ৩ (তিন) প্রকার (যথা: ওয়াকফ লিল্লাহ, ওয়াকফ আল আওলাদ এবং ওয়াকফ লিল্লাহ ও আল আওলাদের মিশ্রণ)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজসেবা হলো সমাজের দুর্বল, অবহেলিত ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত স্বেচ্ছামূলক বা প্রাতিষ্ঠানিক সেবামূলক কার্যক্রম। এটি মূলত মানবপ্রেম, পরোপকার এবং ধর্মীয় অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা নিঃস্বার্থ ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ড, যা মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সাহায্য করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে অজয় রায়ের আন্দোলন ভারতীয় উপমহাদেশের সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়ের 'সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আন্দোলন'-কে নির্দেশ করে।

    হিন্দু সমাজে একসময় প্রচলিত ছিল যে, স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিত বিধবা স্ত্রীকে স্বামীর জ্বলন্ত চিতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হতো, যা সতীদাহ প্রথা নামে পরিচিত। ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হতো। রাজা রামমোহন রায় এই অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং জনমত সৃষ্টি করেন। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৭ নম্বর রেগুলেশন আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ও বেআইনি ঘোষণা করেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বামী অমল চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর একটি মেয়েকে ঢোল-বাদ্যের তালে তালে জোর করে স্বামীর সাথে সহমরণে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অজয় রায় এই অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে এটি নিষিদ্ধ করতে ভূমিকা রাখেন। ঐতিহাসিক এই পটভূমিটি রাজা রামমোহন রায়ের সতীদাহ প্রথা বিরোধী সংস্কার আন্দোলনকেই প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আন্দোলনের প্রভাব ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের সমাজ সংস্কার ও নারীমুক্তির ইতিহাসে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বৈপ্লবিক।

    প্রথমত, এই আন্দোলনের মাধ্যমে হিন্দু সমাজে নারীদের বেঁচে থাকার মৌলিক মানবিক অধিকার নিশ্চিত হয়। হাজার হাজার নিরীহ বিধবা নারী ধর্মের অপব্যাখ্যা ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের হাত থেকে রক্ষা পায়।

    দ্বিতীয়ত, সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলন ভারতীয় সমাজে কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুক্তি ও মানবতাবাদের জয় ঘোষণা করে। এটি সমাজকে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।

    তৃতীয়ত, এই সংস্কার আন্দোলন উপমহাদেশে নারী অধিকার আদায়ের দ্বার উন্মোচন করে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে বিধবা বিবাহ প্রবর্তন, বাল্যবিয়ে রোধ, নারী শিক্ষা বিস্তার এবং সম্পত্তিতে নারীর উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম গতি পায়।

    পরিশেষে বলা যায়, সতীদাহ প্রথা বিলোপের প্রভাব কেবল একটি নিষ্ঠুর প্রথা বন্ধ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ভারতীয় সমাজে নবজাগরণ সৃষ্টি এবং নারীর মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন