জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

মানবদেহে O2, CO2 এবং পুষ্টি উপাদান পরিবহনে সম্পৃক্ত তরল যোজক কলা সঞ্চালনে একটি সংকোচন ও প্রসারণক্ষম অঙ্গ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। যদিও উক্ত অঙ্গটিতে পুষ্টি সরবরাহ একটি বিশেষ নালির মাধ্যমে ঐ তরল যোজক কলাই করে।

  1. ক)

    অ্যান্টিজেন কী?

    (1)
  2. খ)

    মায়োজেনিক নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি অকার্যকর হওয়ার কারণগুলো লেখ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গে O2 ও পুষ্টি উপাদান সরবরাহের কৌশল ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব বহিরাগত জৈব পদার্থ (প্রধানত প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড) দেহে প্রবেশ করলে অ্যান্টিবডি তৈরিতে উদ্দীপনা জোগায় এবং অ্যান্টিবডির সাথে সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত হতে পারে, তাকে অ্যান্টিজেন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাইরের কোনো স্নায়বিক উদ্দীপনা ছাড়াই হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব বিশেষায়িত রূপান্তরিত কার্ডিয়াক পেশিতন্তুর (জাংশনাল টিস্যু যেমন: সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড বা SAN) মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছন্দময় সংকোচন-প্রসারণ নিয়ন্ত্রিত হওয়ার ক্ষমতাকে মায়োজেনিক নিয়ন্ত্রণ বলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সংকোচন ও প্রসারণক্ষম অঙ্গটি হলো 'হৃৎপিণ্ড'। হৃৎপিণ্ড অকার্যকর (হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ বা হার্ট ফেইলিউর/হার্ট অ্যাটাক) হওয়ার প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. করোনারি ধমনির ব্লকেজ (অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস): করোনারি ধমনিতে চর্বি, কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমে প্লাক তৈরি হলে রক্তনালি সরু হয়ে যায়, ফলে হৃৎপেশিতে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে অকার্যকারিতা দেখা দেয়।
    ২. উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension): দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হৃৎপিণ্ডকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, ফলে হৃৎপেশি দুর্বল ও প্রসারিত হয়ে কার্যকর ক্ষমতা হারায়।
    ৩. কার্ডিওমায়োপ্যাথি: সংক্রমণ বা অন্যান্য কারণে হৃৎপেশির কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া বা পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া।
    ৪. কপাটিকার ত্রুটি (Valvular Heart Disease): হৃৎপিণ্ডের কপাটিকাগুলো যথাযথভাবে খুলতে বা বন্ধ হতে না পারলে রক্ত সঞ্চালন বিঘ্নিত হয় এবং একসময় হার্ট ফেইল করে।
    ৫. ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত ওজন: ডায়াবেটিস এবং ওবেসিটি রক্তনালির ক্ষতি করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে হৃৎপিণ্ডকে অকার্যকর করে তোলে।
    ৬. ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: তামাকের নিকোটিন ও বিষাক্ত উপাদান হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়ায় এবং প্লাক তৈরিতে ত্বরান্বিত ভূমিকা পালন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রক্ত সঞ্চালনে ভূমিকা রাখা অঙ্গটি হলো হৃৎপিণ্ড এবং যে বিশেষ নালির মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে O2 ও পুষ্টি উপাদান সরবরাহ হয় তা হলো 'করোনারি রক্ত সংবহনতন্ত্র' (Coronary Circulation)। নিচে এর কৌশল ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. করোনারি সংবহনের সূচনা: হৃৎপিণ্ডের বাম ভেন্ট্রিকল থেকে সিস্টেমিক অ্যাওর্টা বা মহাধমনি উৎপন্ন হয়। মহাধমনির গোড়া (অ্যাওর্টিক সাইনাস) থেকে দুটি প্রধান করোনারি ধমনি উৎপত্তি লাভ করে—ডান করোনারি ধমনি (Right coronary artery) এবং বাম করোনারি ধমনি (Left coronary artery)।

    ২. রক্ত সরবরাহ প্রক্রিয়া: বাম ভেন্ট্রিকলের সংকোচনের (সিস্টোল) পর যখন ডায়াস্টোল ঘটে, তখন মহাধমনির সেমিলুনার কপাটিকা বন্ধ হয়ে যায় এবং অ্যাওর্টিক সাইনাস থেকে রক্ত চাপ সহকারে করোনারি ধমনিতে প্রবেশ করে।

    ৩. শাখা-প্রশাখায় বণ্টন: ডান ও বাম করোনারি ধমনিগুলো হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে অসংখ্য ক্ষুদ্র শাখা ও কৈশিক জালিকা তৈরি করে মায়োকার্ডিয়াম (হৃৎপেশি)-এর প্রতিটি কোষে প্রবেশ করে। এই কৈশিক জালিকার মাধ্যমে রক্তের লোহিত কণিকা থেকে অক্সিজেন (O2) এবং গ্লুকোজসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ব্যাপন প্রক্রিয়ায় মায়োকার্ডিয়াল কোষে পৌঁছায়।

    ৪. বর্জ্য ও কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ: কোষীয় বিপাকের ফলে উৎপন্ন CO2 এবং বর্জ্য পদার্থ করোনারি কৈশিক জালিকা থেকে সংগৃহীত হয়ে করোনারি শিরায় আসে। পরবর্তীতে এই শিরাগুলো সম্মিলিত হয়ে করোনারি সাইনাস গঠন করে এবং সেখান থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত ডান অ্যাট্রিয়ামে ফিরে আসে।

    এভাবেই করোনারি সংবহনের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব কোষে অবিরাম অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পরিবাহিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন