পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
Y নামক রাষ্ট্র পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বিভক্ত। পশ্চিমাংশের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব অংশে জনগণের উপর শোষণ ও নির্যাতন শুরু করে। তখনই পূর্ব অংশের জনগণের জনপ্রিয় এক মহান নেতা স্বায়ত্তশাসন সহ বেশ কিছু দাবি পেশ করেন।
- ক)(1)
লাহোর প্রস্তাব কে পেশ করেন?
- খ)(2)
আগরতলা মামলা বলতে কী বোঝোয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে তোমার পঠিত কোন ঐতিহাসিক দাবির সাথে সম্পৃক্ত? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে বাংলার মুক্তির সনদ বলা হয়- তুমি কি একমত? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করে। এই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য' নামে দায়ের হলেও তা রাজনৈতিক ইতিহাসে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' নামে পরিচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি আমার পঠিত ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা দাবি'-এর সাথে সম্পৃক্ত।
ব্যাখ্যা: পাকিস্তান রাষ্ট্রের পূর্ব ও পশ্চিমাংশের মধ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বৈষম্য এবং শোষণ-বঞ্চনার হাত থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলীয় সম্মেলনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত Y রাষ্ট্রের পশ্চিমাংশের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক পূর্বাংশের ওপর শোষণ-নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে মহান নেতা কর্তৃক স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামা উপস্থাপনের বিষয়টি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা দাবির প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি একমত যে ছয় দফা ভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে 'বাংলার মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনা কার্টা' বলা হয়।
বিশ্লেষণ:
১. স্বায়ত্তশাসনের রূপরেখা: ছয় দফায় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, পৃথক অর্থনৈতিক ও মুদ্রা ব্যবস্থা, রাজস্ব ও শুল্ক আদায়ের একক ক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষার জন্য মিলিশিয়া বা প্যারা-মিলিটারি বাহিনী গঠনের সুস্পষ্ট দাবি ছিল।
২. বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর দলিল: ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিক শোষণ ও বৈষম্য নিরসনের একটি বাস্তবমুখী পথনির্দেশনা দিয়েছিল।
৩. জাতীয় চেতনার উন্মেষ: ছয় দফা আন্দোলন সমগ্র বাঙালি জাতিকে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করে এবং জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। এ আন্দোলনের ফলেই ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হয়।অতএব, ছয় দফাই ছিল বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের মূল সোপান বা মুক্তির সনদ, যা পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও