জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

ডায়াবেটিস আক্রান্ত জহির সাহেব ডাক্তারের কাছে গেলে, ডাক্তার তাকে ঔষধ হিসাবে এক ধরনের হরমোন গ্রহণ করতে বললেন, যাহা এক ধরনের জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি হয়ে থাকে।

  1. ক)

    উগ্যামাস জনন কী?

    (1)
  2. খ)

    জিনোম সিকোয়েন্সিং বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উপরোক্ত হরমোন তৈরির প্রযুক্তিটি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রযুক্তি কৃষিক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে— উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে যৌন জননে একটি বড় ও নিশ্চল ডিম্বাণুর সাথে একটি ক্ষুদ্র ও সচল শুক্রাণুর মিলন ঘটে, তাকে উগ্যামাস (Oogamous) জনন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জিনোম সিকোয়েন্সিং বলতে কোনো নির্দিষ্ট জীবের সমগ্র জিনোমে অবস্থিত নাইট্রোজেনাস ক্ষারকগুলোর (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থাইমিন) সুনির্দিষ্ট অনুক্রম বা বিন্যাস পদ্ধতিগতভাবে নির্ণয় করাকে বোঝায়। এর মাধ্যমে একটি জীবের জিনোমের আকার, গঠন এবং জিনগুলোর অবস্থান ও কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত হরমোনটি হলো ইনসুলিন, যা রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি (জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং)-র মাধ্যমে তৈরি করা হয়। নিচে এর মূল ধাপগুলো বর্ণনা করা হলো:

    ১. কাঙ্ক্ষিত জিন ও বাহক নির্বাচন: মানবদেহের অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন তৈরির জন্য দায়ী নির্দিষ্ট জিনটি শনাক্ত ও পৃথক করা হয়। বাহক হিসেবে Escherichia coli (E. coli) ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিড ডিএনএ নির্বাচন করা হয়।
    ২. নির্দিষ্ট স্থানে কর্তন: রেস্ট্রিকশন এনজাইম (যেমন: EcoRI) প্রয়োগ করে প্লাজমিড ডিএনএ এবং মানব ডিএনএ-এর ইনসুলিন জিনটিকে নির্দিষ্ট স্থানে কাটা হয়। এতে উভয় কর্তিত প্রান্তে সম্পূরক 'স্টিকি এন্ড' সৃষ্টি হয়।
    ৩. রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ তৈরি: ডিএনএ লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে কাটা প্লাজমিডের সাথে মানব ইনসুলিন জিনটি যুক্ত করে রিকম্বিন্যান্ট প্লাজমিড তৈরি করা হয়।
    ৪. পোষক কোষে প্রবেশ করানো: ট্রান্সফরমেশন পদ্ধতির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত রিকম্বিন্যান্ট প্লাজমিডটি উপযুক্ত পোষক ব্যাক্টেরিয়া (E. coli)-র ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
    ৫. ক্লোনিং ও ইনসুলিন সংগ্রহ: রূপান্তরিত ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ফারমেন্টেশন ট্যাংকে অনুকূল পরিবেশে পুষ্টি মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করানো হয়। ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বিভাজনের সাথে সাথে বিপুল পরিমাণে ইনসুলিন সংশ্লেষিত হয়। পরবর্তীতে ব্যাক্টেরিয়া কোষ ভেঙে ইনসুলিন পৃথক, পরিশোধন ও ওষুধ হিসেবে বাজারজাত করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তিটি হলো রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। কৃষিক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন: ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস (Bt) ব্যাকটেরিয়ার জিন স্থানান্তর করে বিটি-তুলা, বিটি-বেগুন ইত্যাদি ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ তৈরি করা হয়েছে, যা কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে দেয়।
    ২. রোগ প্রতিরোধী জাত তৈরি: ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক প্রতিরোধী জিন ফসলে স্থানান্তরের মাধ্যমে রোগমুক্ত উচ্চফলনশীল জাত সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে (যেমন: পেঁপে ও আলুর রিং স্পট ও ব্লাইট প্রতিরোধী জাত)।
    ৩. প্রতিকূলতা সহনশীল জাত উদ্ভাবন: খরা, লবণাক্ততা এবং জলমগ্নতা সহনশীল ট্রান্সজেনিক ধান ও গম উদ্ভাবনের ফলে প্রতিকূল পরিবেশেও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
    ৪. পুষ্টিমানের উন্নয়ন: জেনেটিক রূপান্তরের মাধ্যমে 'গোল্ডেন রাইস' (Golden Rice) উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা বিটা-ক্যারোটিন (ভিটামিন-এ)-এ সমৃদ্ধ এবং অপুষ্টি ও রাতকানা রোগ দূর করতে সহায়ক।
    ৫. আগাছানাশক প্রতিরোধী ফসল: গ্লাইফোসেট-সহনশীল ট্রান্সজেনিক সয়াবিন ও ভুট্টার জাত তৈরির ফলে সহজে আগাছা দমন করা সম্ভব হচ্ছে।

    অতএব, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন