যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
কার্য সংমিশ্রণ কী?
- খ)(2)
আরোহের কূটাভাস বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপক-১ কোন ধরনের কার্য সংমিশ্রণ? পাঠবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক-১ ও উদ্দীপক-২ পার্থক্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুই বা ততোধিক কারণ একসঙ্গে ক্রিয়াশীল হয়ে যখন একটি মিশ্র বা সামগ্রিক কার্য উৎপন্ন করে, তখন তাকে কার্য সংমিশ্রণ (Intermixture of Effects) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কার্যকারণ নিয়ম হলো আরোহ অনুমানের বস্তুগত ভিত্তি, যা আরোহের সিদ্ধান্তকে নিশ্চিত করে। কিন্তু এই কার্যকারণ নিয়মটি আবার অভিজ্ঞতামূলক বা আরোহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে প্রশ্ন জাগে—আরোহের ওপর ভিত্তি করে কার্যকারণ নিয়ম প্রতিষ্ঠিত, নাকি কার্যকারণ নিয়মের ওপর আরোহ প্রতিষ্ঠিত? যুক্তিবিদ্যায় এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতাজনিত আপাতবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর অবস্থাকেই 'আরোহের কূটাভাস' (Paradox of Induction) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক-১ এ প্রদর্শিত ঘটনাটি যুক্তিবিদ্যার 'সমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণ' (Homogeneous Intermixture of Effects)-কে নির্দেশ করে।
যখন একাধিক সমধর্মী কারণ একসাথে ক্রিয়াশীল হয়ে এমন একটি মিশ্র কার্য উৎপন্ন করে, যা কারণগুলোর পৃথক পৃথক কার্যের সমষ্টির সমান হয় এবং যেখানে কার্যের প্রকৃতি কারণগুলোর প্রকৃতির অনুরূপ থাকে, তখন তাকে সমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণ বলে। সাধারণত যান্ত্রিক বা ভৌত প্রক্রিয়ায় এ ধরনের সংমিশ্রণ দেখা যায়।
উদ্দীপক-১ এ দেখা যায়, একটি ৫০০ ওয়াটের বাল্ব এবং পাঁচটি ২০০ ওয়াটের বাল্ব একত্রে প্রজ্বলিত হয়ে মোট ১৫০০ ওয়াটের আলো উৎপন্ন করছে (৫০০ + ২০০ + ২০০ + ২০০ + ২০০ + ২০০ = ১৫০০)। এখানে উৎপন্ন আলো প্রতিটি বাল্বের আলোর পরিমাণের গাণিতিক বা যান্ত্রিক যোগফলের সমান। এতে কোনো নতুন ভিন্নধর্মী গুণ সৃষ্টি হয়নি এবং কার্যের পরিমাণ সরাসরি কারণগুলোর যোগফলের সমান। অতএব, এটি সমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক-১ হলো 'সমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণ' এবং উদ্দীপক-২ হলো 'বিষমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণ'। নিচে পাঠ্যবইয়ের আলোকে এদের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: সমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণে একাধিক কারণ যুক্ত হয়ে এমন একটি কার্য সৃষ্টি করে যা কারণগুলোর স্বাভাবিক বা যৌথ কার্যের সমষ্টি মাত্র। পক্ষান্তরে, বিষমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণে কারণগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে এমন এক কার্য উৎপন্ন করে, যার ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য কারণগুলোর ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নতুন হয়।
২. প্রকৃতির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য: উদ্দীপক-১ এ একাধিক বাল্বের আলো একত্রিত হয়ে কেবল আরও উজ্জ্বল আলো তৈরি করেছে, অর্থাৎ কারণ ও কার্যের মধ্যে মৌলিক প্রকৃতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। কিন্তু উদ্দীপক-২ এ চিনি ও পানি একত্রিত হয়ে তৈরি করেছে 'শরবত', যা রাসায়নিক বা গুণগত মিশ্রণের ফলে নতুন আস্বাদনযুক্ত কার্যে পরিণত হয়েছে।
৩. পরিমাপের বৈশিষ্ট্য: সমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণ যান্ত্রিক বা গাণিতিক নিয়মে পরিমাপযোগ্য। যেমন উদ্দীপক-১ এ ৫০০ W + (৫ × ২০০ W) = ১৫০০ W এর সুস্পষ্ট যোগফল বিদ্যমান। কিন্তু বিষমজাতীয় কার্যে উৎপন্ন ফল সবসময় কারণগুলোর যান্ত্রিক বা প্রত্যক্ষ সমষ্টির মাধ্যমে নিরূপণ করা যায় না; এতে গুণগত রূপান্তর ঘটে।
৪. ভিন্নধর্মী নতুন গুণের উৎপত্তি: উদ্দীপক-১ এ নতুন কোনো রাসায়নিক গুণের বিকাশ ঘটেনি। কিন্তু উদ্দীপক-২ এর বিষমজাতীয় কার্যে উপাদানগুলোর স্বাতন্ত্র্য লোপ পেয়ে একটি নতুন গুণসম্পন্ন তরল রূপ লাভ করে।
সুতরাং, উদ্দীপক-১ ভৌত বা যান্ত্রিক পদ্ধতির সমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণ এবং উদ্দীপক-২ গুণগত রূপান্তরের বিষমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণকে নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও