সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হাসিব সাহেবের অভিমত, প্রথম। পর্যায়ে মানুষ ফলমূল সংগ্রহ ও পশু শিকার করার প্রয়োজনে এক স্থান হতে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াতো। পরবর্তী পর্যায়ে একটি বিশেষ উদ্ভাবন মানব সমাজে এক মহাবিপ্লব ঘটায়। যাযাবর জীবন, উৎপাদন, পরিবারসহ সর্বত্র এর প্রভাব পড়ে। খাদ্য সংগ্রহকারী মানুষ খাদ্য উৎপাদনকারীতে পরিণত হয়।

  1. ক)

    সভ্যতা কী?

    (1)
  2. খ)

    ধাতুর ব্যবহার মানবজীবনকে অধিকতর সহজ করেছে'- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মানুষের প্রথম পর্যায়ের জীবনধারা কোন যুগকে নির্দেশ। করছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ উদ্ভাবনটি 'মানব সভ্যতার বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে'- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সভ্যতা হলো মানব সমাজের এমন এক উন্নত ও জটিল পর্যায়, যা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্পকলা, শাসনব্যবস্থা ও নগর সংস্কৃতির বিকাশ দ্বারা চিহ্নিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ধাতুর ব্যবহার মানবজীবনকে অত্যন্ত সহজ ও গতিশীল করেছে। তাম্র, ব্রোঞ্জ ও লৌহ আবিষ্কারের ফলে মানুষ পাথরের পরিবর্তে টেকসই ও ধারালো অস্ত্র, লাঙ্গলের ফলা ও বিভিন্ন কাজের সরঞ্জাম তৈরি করতে সক্ষম হয়। এর ফলে কৃষিকাজে উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পায়, বাসস্থান নির্মাণ সহজ হয় এবং শিকার ও আত্মরক্ষা আগের চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হয়। অর্থাৎ, কায়িক শ্রমের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ধাতুর ব্যবহার মানবজাতির জীবনযাত্রাকে অধিকতর সহজ করে তোলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মানুষের প্রথম পর্যায়ের জীবনধারা 'প্রাচীন প্রস্তর যুগ' (প্যালিওলিথিক যুগ)-কে নির্দেশ করে।

    প্রাচীন প্রস্তর যুগে মানুষ ছিল সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। এ যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল খাদ্য সংগ্রহ ও পশু শিকার। মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারত না; খাদ্য ও অনুকূল পরিবেশের খোঁজে যাযাবরের মতো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াত। এ যুগে মানুষ পাথর খোদাই করে প্রাথমিক ও ভোঁতা হাতিয়ার তৈরি করেছিল, কিন্তু খাদ্য উৎপাদন করতে শেখেনি।

    উদ্দীপকে শিক্ষক হাসিব সাহেবের প্রথম পর্যায়ের বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, মানুষ ফলমূল সংগ্রহ ও পশু শিকারের প্রয়োজনে যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াত। যেহেতু খাদ্য সংগ্রহ এবং যাযাবর জীবন প্রাচীন প্রস্তর যুগের মূল ভিত্তি ছিল, তাই উদ্দীপকের প্রথম পর্যায়টি প্রাচীন প্রস্তর যুগের জীবনধারাকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ উদ্ভাবনটি হলো 'কৃষি উদ্ভাবন', যা মানব সভ্যতার বিকাশে অনন্য সাধারণ ভূমিকা রেখেছে—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    নব্যপ্রস্তর যুগে (নিওলিথিক যুগ) কৃষির সূচনাকে সমাজবিজ্ঞানী ভি. গর্ডন চাইল্ড 'নব্যপ্রস্তর বিপ্লব' (Neolithic Revolution) বলে অভিহিত করেছেন। কারণ, কৃষি আবিষ্কারের ফলেই মানুষ খাদ্য সংগ্রহকারী অবস্থা থেকে খাদ্য উৎপাদনকারীতে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে তাদের যাযাবর জীবনের অবসান ঘটে এবং স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন ও গ্রাম সমাজের বিকাশ ঘটে। কৃষি উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করে, যা শ্রমবিভাগ, বাণিজ্য এবং জটিল সামাজিক কাঠামোর ভিত্তি রচনা করে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, একটি বিশেষ উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানব সমাজে এক মহাবিপ্লব ঘটে এবং মানুষ খাদ্য উৎপাদনকারীতে পরিণত হয়। এটি নিঃসন্দেহে কৃষির আবিষ্কারকে নির্দেশ করে। কৃষিকাজের প্রবর্তন স্থায়ী পরিবারের ভিত্তি গড়ে তোলে, জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধি করে এবং পরবর্তী সময়ে নগর ও লিপির উদ্ভব ঘটিয়ে মানব সভ্যতার চূড়ান্ত রূপদানে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

    সুতরাং, কৃষির উদ্ভাবনই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাযাবর মানুষকে আধুনিক সমাজ ও সভ্যতার নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাধিক ভূমিকা রেখেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন