জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রনি তাঁর সহপাঠীদের সাথে শিক্ষাসফরে গিয়ে একটি প্রাণী পর্যবেক্ষণ করছিল। রনি বলল, "এর রক্ত-সংবহনতন্ত্র মুক্ত প্রকৃতির।বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এর শ্বসনতন্ত্র আমাদের থেকে ভিন্ন।"

  1. ক)

    শ্বসন কী?

    (1)
  2. খ)

    মালপিজিয়ান নালিকা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটির রক্ত সংবহনতন্ত্রের সাথে বদ্ধ রক্তসংবহনতন্ত্রের তুলনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীব পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কোষস্থ খাদ্য জারিত করে শক্তি উৎপন্ন করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে, তাকে শ্বসন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মালপিজিয়ান নালিকা হলো ঘাসফড়িং তথা আর্থ্রোপোডা পর্বের পতঙ্গ শ্রেণির প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ। এগুলো পৌষ্টিকনালির মধ্যান্ত্র ও পশ্চাদান্ত্রের সংযোগস্থলে অবস্থিত চুলের মতো সূক্ষ্ম, হলুদাভ, অন্ধ নালিকা যা হিমোলিম্ফ থেকে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য নিষ্কাশন করে রেচনে অংশ নেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটির রক্ত সংবহনতন্ত্র মুক্ত প্রকৃতির (ঘাসফড়িং/আর্থ্রোপোডা)। এর সাথে মানুষের বা মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বদ্ধ রক্তসংবহনতন্ত্রের তুলনা নিচে দেওয়া হলো:

    ১. সংবহন মাধ্যম ও রক্তনালির ভূমিকা: মুক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত সবসময় রক্তনালির ভেতর সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি হৃদযন্ত্র থেকে নালির মাধ্যমে সাইনাস বা হিমোসিলে উন্মুক্ত হয়। অপরদিকে, বদ্ধ সংবহনতন্ত্রে রক্ত সর্বদা হৃদপিণ্ড এবং নির্দিষ্ট রক্তনালির (ধমনি, শিরা, কৈশিক জালিকা) ভেতরেই আবদ্ধ থেকে চক্রাকারে প্রবাহিত হয়।
    ২. কলার সাথে রক্তের সম্পর্ক: মুক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত সরাসরি দেহকলার সংস্পর্শে আসে এবং রক্ত ও সিলোমিক তরল একত্রিত হয়ে হিমোলিম্ফ গঠন করে। কিন্তু বদ্ধ সংবহনতন্ত্রে রক্ত কখনোই সরাসরি দেহকোষের সংস্পর্শে আসে না; কৈশিক নালির মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পুষ্টি ও গ্যাসের বিনিময় ঘটে।
    ৩. প্রবাহের বেগ ও চাপ: মুক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত অত্যন্ত ধীরগতিতে এবং কম চাপে প্রবাহিত হয়। পক্ষান্তরে, বদ্ধ সংবহনতন্ত্রে রক্ত দ্রুতগতিতে এবং উচ্চ চাপে প্রবাহিত হয়।
    ৪. গ্যাস পরিবহন: মুক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত সাধারণত শ্বসন গ্যাস (O₂ ও CO₂) পরিবহনে সরাসরি অংশ নেয় না; কিন্তু বদ্ধ সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রধানত শ্বাসরঞ্জক (হিমোগ্লোবিন)-এর মাধ্যমে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি হলো—"বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এর শ্বসনতন্ত্র আমাদের থেকে ভিন্ন।" নিচে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো:

    উদ্দীপকের প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং (পতঙ্গ শ্রেণি), যার শ্বসনতন্ত্রের নাম ট্রাকিয়াল তন্ত্র (Tracheal system)। অপরদিকে মানব শ্বসনতন্ত্র ফুসফুস-নির্ভর। এদের মধ্যে মৌলিক কাঠামোগত ও শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য বিদ্যমান:

    ১. প্রধান শ্বসন অঙ্গ: ঘাসফড়িং-এর প্রধান শ্বসন অঙ্গ হলো ট্রাকিয়া ও ট্রাকিওল নামক সূক্ষ্ম নালিকাতন্ত্র, যা সারা দেহে জালিকাকারে বিস্তৃত। মানুষের ক্ষেত্রে প্রধান শ্বসন অঙ্গ হলো একজোড়া ফুসফুস (Lungs)।
    ২. শ্বাসছিদ্র বা স্পাইরাকল: ঘাসফড়িং-এর দেহে ১০ জোড়া স্পাইরাকল বা শ্বাসরন্ধ্র থাকে যার মাধ্যমে সরাসরি বাতাস দেহে প্রবেশ ও নির্গত হয়। মানুষের ক্ষেত্রে নাসারন্ধ্র ও শ্বাসনালির মাধ্যমে গ্যাস ফুসফুসে পৌঁছায়।
    ৩. রক্তের ভূমিকা: মানুষের রক্তে হিমোগ্লোবিন নামক শ্বাসরঞ্জক থাকে যা ফুসফুস থেকে কোষে অক্সিজেন এবং কোষ থেকে ফুসফুসে কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে। ঘাসফড়িং-এর রক্তে কোনো শ্বাসরঞ্জক থাকে না, তাই এদের রক্ত শ্বসন গ্যাস পরিবহনে কোনো ভূমিকা রাখে না।
    ৪. সরাসরি গ্যাস বিনিময়: ট্রাকিয়াল তন্ত্রের সূক্ষ্ম ট্রাকিওল প্রান্তগুলো সরাসরি প্রতিটি দেহকোষের সংস্পর্শে থাকে, যার ফলে বাতাস থেকে সরাসরি কোষে অক্সিজেন পৌঁছায় এবং কোষ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সংগৃহীত হয়। মানুষের ক্ষেত্রে গ্যাস বিনিময় রক্তজালিকা ও অ্যালভিওলাসের মধ্যবর্তী স্তরে ঘটে।

    সুতরাং, শ্বাসরঞ্জকবিহীন রক্ত এবং সারা দেহে নালিকাজালিকা (ট্রাকিয়া) দ্বারা সরাসরি কোষীয় পর্যায়ে গ্যাস বিনিময়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে ঘাসফড়িং-এর শ্বসনতন্ত্র মানুষের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন