যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    আরোহের আকারগত ভিত্তি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    একক শর্ত কি কারণ হতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটিতে কার্যকারণের কোন বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি কী একটি গ্রহণযোগ্য মতবাদ? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব মৌলিক নিয়মের ওপর ভিত্তি করে আরোহ অনুমানের আকারগত সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়, সেগুলোকে আরোহের আকারগত ভিত্তি বলে। (যেমন: প্রকৃতির একরূপতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণত কোনো একক শর্ত কারণ হতে পারে না, কারণ যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে, কারণ হলো সদর্থক ও নঞর্থক শর্তের সমষ্টি।

    একটি কার্য সংঘটিত হওয়ার জন্য বহু শর্তের যুগপৎ উপস্থিতি আবশ্যক। যেমন—একটি ঘর পুড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দেশলাই জ্বালানো যেমন একটি শর্ত, তেমনই বাতাসের অক্সিজেন উপস্থিতি এবং দাহ্য পদার্থের উপস্থিতিও সমভাবে প্রয়োজনীয় শর্ত। দেশলাই জ্বালানো একা ঘর পোড়ার পূর্ণ কারণ নয়; তাই একক শর্ত কারণ নয়, বরং শর্তাবলির সামগ্রিক রূপই হলো কারণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটিতে কার্যকারণের 'বহুকারণবাদ' (Plurality of Causes) বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।

    যুক্তিবিদদের মতে, বহুকারণবাদ হলো এমন একটি মতবাদ যেখানে মনে করা হয় একই কার্য বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণ দ্বারা উৎপন্ন হতে পারে। অর্থাৎ, একটি কার্যের একাধিক বিকল্প কারণ থাকতে পারে।

    উদ্দীপকের চিত্রে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, 'টেবিল' নামক একক কার্যটি বিভিন্ন উপাদানের মাধ্যমে তৈরি হতে পারে—যেমন: কাঁচের, স্টিলের, লোহার, কাঠের, পার্টিকল বোর্ডের অথবা প্লাস্টিকের। এখানে 'টেবিল' একটি কার্য হলেও তার উৎপত্তির কারণ বা উপাদান একাধিক। একই কার্য বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে বা উপাদানে সৃষ্টি হতে পারে—চিত্রের এই ধারণাটি হুবহু বহুকারণবাদের মূল সুরকে প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত 'বহুকারণবাদ' বিষয়টি যুক্তিবিদ্যার বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গ্রহণযোগ্য মতবাদ নয়। নিম্নে এর যৌক্তিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:

    ১. সাধারণ বনাম বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি: সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হয় একই কার্য বিভিন্ন কারণে ঘটে (যেমন: মৃত্যু বিষপানে, বার্ধক্যে কিংবা ফাঁসির মাধ্যমে হতে পারে)। কিন্তু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে কার্য এবং কারণকে যখন সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, তখন দেখা যায় একটি সুনির্দিষ্ট কার্যের একটিমাত্র সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। বিষপানে মৃত্যুর শারীরিক প্রক্রিয়া আর বার্ধক্যজনিত মৃত্যুর শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এক নয়।

    ২. কার্যের সাধারণীকরণ বা শিথিল অর্থ গ্রহণ: বহুকারণবাদ মূলত কার্যের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বা ব্যাপক শব্দ ব্যবহার করার বিভ্রান্তি থেকে সৃষ্টি হয়। যেমন—উদ্দীপকে 'টেবিল'কে একটি সাধারণ রূপ হিসেবে দেখা হয়েছে; অথচ কাঁচের টেবিল এবং কাঠের টেবিল হুবহু একই বস্তু বা কার্য নয়। কার্যকে যখন বিশিষ্ট বা সুনির্দিষ্ট করা হয়, তখন কারণও একটি নির্দিষ্ট রূপ ধারণ করে।

    ৩. কার্যকারণ নিয়মের লঙ্ঘন: বিজ্ঞানের মৌলিক নিয়ম হলো 'একই কারণ সর্বদা একই কার্য উৎপন্ন করে এবং একই কার্য সর্বদা একই কারণ থেকে উৎপন্ন হয়।' বহুকারণবাদকে স্বীকার করলে কার্যকারণ নিয়মের এই সার্বজনীনতা ব্যাহত হয়।

    ৪. কারণের যথার্থ সংজ্ঞার পরিপন্থী: যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিড স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বহুকারণবাদ সত্য নয়। এটি কেবল আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয়।

    অতএব, ব্যবহারিক জীবনে আপাতদৃষ্টিতে বহুকারণবাদকে সত্য বলে মনে হলেও, যুক্তিবিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের কঠোর মানদণ্ডে বহুকারণবাদ একটি গ্রহণযোগ্য বা ত্রুটিহীন মতবাদ নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন