যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: কার্য-কারণ, মামা-ভাগ্নে, জাতি-উপজাতি।দৃশ্যকল্প-২: বিদ্যালয়, দেশপ্রেমিক, বাংলাদেশ।দৃশ্যকল্প-৩: হায়! হায়!, মরি! মরি!, ছি! ছি!।

  1. ক)

    গুণবাচক পদ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সকল শব্দ পদ নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-৩ কোন ধরনের শব্দকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ পদের যে দুটি রূপকে নির্দেশ করে তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে পদ কোনো বস্তু বা সত্তাকে না বুঝিয়ে কোনো বস্তুর গুণকে পৃথকভাবে নির্দেশ করে, তাকে গুণবাচক পদ বলে (যেমন: সততা, শুভ্রতা, মিষ্টতা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থপূর্ণ ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে শব্দ বলে। কিন্তু যুক্তিবিদ্যায় কেবল সেই শব্দ বা শব্দসমষ্টিকেই 'পদ' বলা হয়, যা কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বা ব্যবহৃত হওয়ার যোগ্যতা রাখে। ব্যাকরণের সব শব্দ (যেমন: সংযোজক শব্দ, আবেগসূচক শব্দ—'এবং', 'অথবা', 'হায়!') কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হতে পারে না। তাই সব পদই শব্দ হলেও সব শব্দ পদ নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-৩ এর 'হায়! হায়!', 'মরি! মরি!', 'ছি! ছি!' শব্দগুলো 'পদ-অযোগ্য শব্দ' (In-categorematic words) বা আবেগসূচক শব্দকে নির্দেশ করে।

    যুক্তিবিদ্যায় শব্দকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে—পদযোগ্য শব্দ, সহ-পদযোগ্য শব্দ এবং পদ-অযোগ্য শব্দ। যে সমস্ত শব্দ কোনো অবস্থাতেই স্বাধীনভাবে বা অন্য শব্দের সাহায্য নিয়েও কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না, কেবল মনের ভাবাবেগ, বিস্ময়, ঘৃণা ইত্যাদি প্রকাশ করে, সেগুলোকে পদ-অযোগ্য শব্দ বলে।

    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-৩ এ উল্লিখিত 'হায়! হায়!', 'মরি! মরি!', 'ছি! ছি!' প্রভৃতি কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হওয়ার যোগ্যতা রাখে না; এগুলো কেবল মানুষের আকস্মিক আবেগ প্রকাশ করে। সুতরাং, এগুলো যুক্তিবিদ্যার পদ-অযোগ্য শব্দ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ নির্দেশ করে সাপেক্ষ পদকে (Relative terms) এবং দৃশ্যকল্প-২ নির্দেশ করে নিরপেক্ষ পদকে (Absolute terms)। যুক্তিবিদ্যায় পদের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এই শ্রেণিবিভাগ করা হয়।

    ১. সাপেক্ষ পদ (দৃশ্যকল্প-১): যে পদের অর্থ অন্য কোনো পদের অর্থ ছাড়া স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না, তাকে সাপেক্ষ পদ বলে। দৃশ্যকল্প-১ এ 'কার্য-কারণ', 'মামা-ভাগ্নে', 'জাতি-উপজাতি' পদগুলো পরস্পর সাপেক্ষ। যেমন—'মামা' শব্দটির অস্তিত্ব বা অর্থ বুঝতে হলে 'ভাগ্নে' সম্পর্কের উপস্থিতি আবশ্যক। একইভাবে 'কারণ' ছাড়া 'কার্য' এবং 'জাতি' ছাড়া 'উপজাতি' অর্থহীন। সুতরাং এগুলো সাপেক্ষ পদের রূপ।

    ২. নিরপেক্ষ পদ (দৃশ্যকল্প-২): যে পদ তার অর্থ প্রকাশের জন্য অন্য কোনো পদের ওপর নির্ভরশীল নয়, অর্থাৎ স্বাধীনভাবে নিজস্ব অর্থ প্রকাশ করতে সক্ষম, তাকে নিরপেক্ষ পদ বলে। দৃশ্যকল্প-২ এর 'বিদ্যালয়', 'দেশপ্রেমিক', 'বাংলাদেশ'—এই পদগুলোর অর্থ প্রকাশের জন্য অন্য কোনো বিপরীত বা সম্পর্কিত পদের মুখাপেক্ষী হতে হয় না; এরা প্রত্যেকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।

    অতএব, দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ যথাক্রমে যুক্তিবিদ্যার সাপেক্ষ ও নিরপেক্ষ পদের ধারণাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে ও বিশ্লেষণযোগ্য করে তোলে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন