যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
শামীমা আপা কান্তাকে বলল, 'সকল মানুষ হয় মরণশীল'। তখন কান্তা বলল, তার মানে হচ্ছে— ‘কোনো মানুষ নয় অমর'।
- ক)(1)
অনুমান কী?
- খ)(2)
আবর্তন কোন অনুমানের প্রকারভেদ? বুঝিয়ে লেখ ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে শামীমা আপা ও কান্তার কথোপকথনে অমাধ্যম অনুমানের কোন রূপটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে দুজনের কথোপকথনে যে অনুমানটি ফুটে উঠেছে তার নিয়ম উল্লেখপূর্বক ‘I’ ও ‘E’ বাক্যে এর প্রয়োগ দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে উপনীত হওয়ার মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবর্তন হলো এক প্রকার অমাধ্যম অবরোহ অনুমান। যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে প্রদত্ত যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে ন্যায়সঙ্গতভাবে স্থান পরিবর্তন করে একটি নতুন সিদ্ধান্ত টানা হয় এবং গুণের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, তাকে আবর্তন বলে। এখানে কোনো তৃতীয় বা মধ্যবর্তী যুক্তিবাক্যের সাহায্য ছাড়া সরাসরি একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় বিধায় এটি অমাধ্যম অবরোহ অনুমানের প্রকারভেদ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শামীমা আপা ও কান্তার কথোপকথনে অমাধ্যম অনুমানের 'প্রতিবর্তন' (Obversion) রূপটি ফুটে উঠেছে।
যে অমাধ্যম অনুমানে আশ্রয়বাক্যের বিধেয়ের বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তের বিধেয় করা হয় এবং আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য থাকে, কিন্তু উভয়ের গুণ পরিবর্তিত হয় (পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে), তাকে প্রতিবর্তন বলে।
উদ্দীপকে শামীমা আপা বলেন, 'সকল মানুষ হয় মরণশীল' (A বাক্য)। এর জবাবে কান্তা বলেন, 'কোনো মানুষ নয় অমর' (E বাক্য)। এখানে আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য 'মানুষ' সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবে বহাল আছে। গুণের দিক থেকে সদর্থক থেকে নঞর্থকে পরিবর্তিত হয়েছে এবং বিধেয় 'মরণশীল'-এর বিরুদ্ধ পদ 'অমর' সিদ্ধান্তের বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অতএব, উদ্দীপকে প্রতিবর্তন প্রক্রিয়াটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দুজনের কথোপকথনে প্রতিবর্তন (Obversion) রূপটি ফুটে উঠেছে।
প্রতিবর্তনের নিয়মাবলি নিম্নরূপ:
১. মূল যুক্তিবাক্য বা আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হবে।
২. আশ্রয়বাক্যের বিধেয়ের বিরুদ্ধ পদ সিদ্ধান্তের বিধেয় হবে।
৩. আশ্রয়বাক্যের গুণের পরিবর্তন ঘটবে (সদর্থক থাকলে নঞর্থক এবং নঞর্থক থাকলে সদর্থক হবে)।
৪. আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ অভিন্ন থাকবে।'I' ও 'E' বাক্যে প্রতিবর্তনের প্রয়োগ:
১. 'I' বাক্যের (বিশেষ সদর্থক) প্রতিবর্তন:
'I' বাক্যের পরিমাণ বিশেষ এবং গুণ সদর্থক। নিয়ম অনুযায়ী এর প্রতিবর্তিত সিদ্ধান্তের পরিমাণ বিশেষ থাকবে কিন্তু গুণ হবে নঞর্থক, যা 'O' বাক্য (বিশেষ নঞর্থক)।
উদাহরণ:
আশ্রয়বাক্য (I): কিছু ফুল হয় লাল।
সিদ্ধান্ত (O): কিছু ফুল নয় অ-লাল।
এখানে উদ্দেশ্য 'ফুল' অপরিবর্তিত আছে, সদর্থক গুণ পরিবর্তিত হয়ে নঞর্থক হয়েছে এবং বিধেয় 'লাল'-এর বিরুদ্ধ পদ 'অ-লাল' বসেছে।২. 'E' বাক্যের (সার্বিক নঞর্থক) প্রতিবর্তন:
'E' বাক্যের পরিমাণ সার্বিক এবং গুণ নঞর্থক। নিয়ম অনুযায়ী এর প্রতিবর্তিত সিদ্ধান্তের পরিমাণ সার্বিক থাকবে কিন্তু গুণ সদর্থক হবে, যা 'A' বাক্য (সার্বিক সদর্থক)।
উদাহরণ:
আশ্রয়বাক্য (E): কোনো মানুষ নয় নিখুঁত।
সিদ্ধান্ত (A): সকল মানুষ হয় অনিখুঁত।
এখানে উদ্দেশ্য 'মানুষ' অপরিবর্তিত আছে, নঞর্থক গুণ সদর্থক হয়েছে এবং 'নিখুঁত' পদের বিরুদ্ধ পদ 'অনিখুঁত' বিধেয় হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও