বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

মহাকবি বাল্মীকির 'রামায়ণ' এক অর্থে আর্য ও অনার্য সংস্কৃতির ভাষিক রূপ। রামায়ণের কাহিনিকে নব আঙ্গিকে ঢেলে সাজিয়েছেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। রাবণ চরিত্র তাঁর অনন্য সৃষ্টি। রাবণ দেশপ্রেমিক ও অসাধারণ এক বীর। সহোদর বিভীষণ বিশ্বাসঘাতক, দেশদ্রোহী। বহিঃশক্তি রাম-লক্ষ্মণ তার দোসর। তার দেখানো পথেই লক্ষ্মণ রাবণপুত্র নিরস্ত্র মেঘনাদকে হত্যা করে বিভীষণের কারণেই লঙ্কার যুদ্ধে রাবণকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হয় এবং বিজয় সূচিত হয় বহিঃশক্তির।

  1. ক)

    কোম্পানির ঘুষখোর ডাক্তার কে?

    (1)
  2. খ)

    'আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে'—ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    বিভীষণ ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন চরিত্রকে নির্দেশ করে—আলোচনা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    “বিশ্বাসঘাতকতাই রাবণ ও সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মূল কারণ।”— 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোকে মন্তব্যটি বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোম্পানির ঘুষখোর ডাক্তার হলেন ড. ফোর্ট।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা মীরজাফর ও তার সহযোগী ষড়যন্ত্রকারীদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে তাদের হীন চক্রান্তকে ব্যঙ্গাত্মক ও আত্মতুষ্টিমূলকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

    সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ক্লাইভ ও ইংরেজ কোম্পানির সাথে গোপন চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর এবং নবাবকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পর দেশদ্রোহী উমিচাঁদ এ কথাটি বলে। তারা যে দেশের স্বাধীনতা বিক্রি করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এত বড় এক জঘন্য চক্রান্ত সম্পন্ন করেছে, তা ভবিষ্যৎ ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে—এ বিষয়টিই উক্তিটিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বিভীষণ চরিত্রটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিশ্বাসঘাতক প্রধান সেনাপতি মীরজাফর চরিত্রকে নির্দেশ করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বিভীষণ লঙ্কাপতি রাবণের সহোদর হওয়া সত্ত্বেও স্বজাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বহিরাগত শত্রু রাম-লক্ষ্মণের পক্ষ নেয়। তার সহায়তায় ও পথপ্রদর্শনে শত্রুরা লঙ্কায় প্রবেশ করে নিরস্ত্র মেঘনাদকে হত্যা করে এবং লঙ্কার পতন ঘটায়।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও মীরজাফর নবাবের প্রধান সেনাপতি এবং আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও দেশ ও জাতির সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে। সে নবাবের সাথে পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে প্রতিজ্ঞা করার পরও ইংরেজ বণিকদের সাথে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। পলাশীর প্রান্তরে তার ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা এবং ভুল নির্দেশনার ফলেই নবাবের নিশ্চিত বিজয় পরাজয়ে পর্যবসিত হয় এবং বাংলার স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে চলে যায়। সুতরাং, স্বদেশের বিরুদ্ধে গিয়ে বহিঃশত্রুর সঙ্গে হাত মেলানোর দিক থেকে উদ্দীপকের বিভীষণ সরাসরি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মীরজাফরকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “বিশ্বাসঘাতকতাই রাবণ ও সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মূল কারণ”—'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোকে মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য ও যথার্থ।

    কোনো বীর বা শক্তির সরাসরি যুদ্ধে পরাস্ত হওয়ার চেয়ে ভেতর থেকে নিজ লোকের বিশ্বাসঘাতকতায় পরাজিত হওয়ার ঘটনা ইতিহাসে অত্যন্ত নির্মম। উদ্দীপক এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক উভয় প্রেক্ষাপটেই এই সত্যটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    উদ্দীপকে মহাবীর রাবণ রাম-লক্ষ্মণের বহিঃশক্তির আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও সহোদর বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে করুণ পরিণতি বরণ করেন। বিভীষণ শত্রুকে পথ দেখিয়ে রাবণের শক্তির উৎস মেঘনাদের মৃত্যু ডেকে আনে এবং লঙ্কাপুরীর পতন নিশ্চিত করে।

    একইভাবে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা দেশপ্রেমিক শাসক হয়েও ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন প্রধান সেনাপতি মীরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ এবং জগৎশেঠদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে। পলাশীর যুদ্ধে মীর মদন ও মোহনলালের অসাধারণ বীরত্বে নবাবের জয় যখন সুনিশ্চিত, তখন মীরজাফর যুদ্ধ থামানোর কুচক্রী নির্দেশ দিয়ে ইংরেজদের পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। নবাবের বিপুল সৈন্য ও শক্তি থাকা সত্ত্বেও ঘরের শত্রুর বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি চূড়ান্তভাবে পরাজিত ও বন্দি হন।

    অতএব, বাহ্যিক শত্রুশক্তির চেয়ে ঘরের ভেতরের বিশ্বাসভঙ্গই রাবণ ও নবাব সিরাজউদ্দৌলা—উভয়ের পতন ত্বরান্বিত করেছিল। তাই বলা যায়, বিশ্বাসঘাতকতাই সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মূল কারণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন