‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    দ্বৈত শাসন কী?

    (1)
  2. খ)

    লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে কোন ভারত শাসন আইনের কথা বলা হয়েছে— ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ভারত শাসন আইন অনুসারে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বৈত শাসন বলতে মূলত একই প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দুই ধরনের কর্তৃপক্ষের শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে শাসন ক্ষমতাকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত—এই দুই ভাগে ভাগ করে পরিচালনা করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য ছিল ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে একাধিক 'স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র' (Independent States) গঠন করা। এছাড়াও এতে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার নিশ্চয়তা প্রদানের কথা বলা হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কথা বলা হয়েছে।

    উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: 'সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র', 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন', 'কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন' এবং 'যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত'। এই বৈশিষ্ট্যসমূহ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অনন্য বৈশিষ্ট্য।

    ব্রিটিশ সরকার ভারতে সাংবিধানিক সংস্কারের ধারাবাহিকতায় ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন পাস করে। এই আইনে ব্রিটিশ শাসিত ভারত ও দেশীয় রাজ্যগুলোর সমন্বয়ে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করা হয়। পাশাপাশি প্রদেশে দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয় এবং কেন্দ্রে দ্বৈত শাসন চালু করা হয়। এ আইনের অধীনেই একটি ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের ছকটিতে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকেই নির্দেশ করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর ও অর্থবহ ছিল না।

    তত্ত্বগতভাবে এ আইনে প্রদেশগুলোকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছিল এবং প্রাদেশিক বিষয়াবলির ওপর মন্ত্রিসভাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তবে আইনের অন্তর্নিহিত বিভিন্ন ধারা ও গভর্নরের বিশেষ ক্ষমতার কারণে এ স্বায়ত্তশাসন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল:

    ১. গভর্নরের সীমাহীন ক্ষমতা: প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা থাকলেও প্রকৃত ক্ষমতা প্রাদেশিক গভর্নরের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। গভর্নর মন্ত্রিসভার পরামর্শ উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Powers) এবং ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী কাজ করতে পারতেন।

    ২. আইন প্রণয়নে হস্তক্ষেপ: প্রাদেশিক আইনসভা কর্তৃক গৃহীত যে কোনো বিলে গভর্নরের সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল এবং গভর্নর যে কোনো বিলে ভেটো দেওয়া বা তা বড়লাটের অনুমোদনের জন্য স্থগিত রাখার ক্ষমতা রাখতেন। এমনকি আইনসভার অধিবেশন না থাকলে গভর্নর জরুরি অধ্যাদেশ জারি করতে পারতেন।

    ৩. মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা: আইন অনুযায়ী গভর্নর বিশেষ পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করতে এবং প্রদেশের শাসনভার সরাসরি নিজের হাতে তুলে নিতে পারতেন (ধারা ৯৩ অনুযায়ী)। ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধি বা মন্ত্রীদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়েছিল।

    ৪. অর্থনৈতিক পরাধীনতা: প্রদেশের আয়ের উৎস সীমিত ছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ গভর্নরের ওপর ন্যস্ত ছিল।

    অতএব, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন দ্বারা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ঘোষণা দেওয়া হলেও গভর্নরের কর্তৃত্ব ও কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের কারণে বাস্তবে তা ছিল লোকদেখানো ও অকার্যকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন